এইচ আর হিরু গাইবান্ধাঃ
গাইবান্ধার নলডাঙ্গা স্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেসের অবশেষে যাত্রা বিরতি প্রদান করায় স্থানীয় এমপি ও রেলপথ মন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নলডাঙ্গার সর্ব স্তরের জনগন।
লালমনিরহাট ডিভিশনের আওতাধীন গাইবান্ধার নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি অবশেষে যাত্রা বিরতি দিয়েছে। গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি গত সোমবার রেলপথ মন্ত্রীর সাথে রেলপথ ভবনে এক আলোচনা বৈঠক করেন। এসময় রেলপথ সচিব সেলিম রেজা ও রেলওয়ের ডিজি উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে ট্রেনটি নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে যাত্রা বিরতির জন্য রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়। এরই প্রেক্ষিতে গতকাল মঙ্গলবার ঢাকা হতে রংপুর অভিমুখে যাওযার সময় নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে ট্রেনটি ২ মিনিটের যাত্রা বিরতি দেয়। এ খবর স্থানীয়রা জানতে পেরে আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়ে। এদিকে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য লালমনিরহাট রেলওয়ে ডিভিশনের ডিআরএম ও ডিটিএস কে একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তারা ফোন ধরেননি।
স্থানীয়রা জানান, জননেত্রী বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রংপুর বাসি স্বাচ্ছন্দ্যে ও সহসায় ঢাকা চলাললের বিষয়টি বিবেচনা করে রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিগত ২০১১ সালে চালু করেন। তৎকালীন যোগাযোগ মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন রংপুরে এসে ট্রেনটি উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি ও রেলওয়ের ডিজি ওই ট্রেনেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন।এরই মধ্যে ট্রেনটি নলডাঙ্গা রেলস্টেশনে ঢোকার সাথে সাথে নলডাঙ্গা ও আশেপাশের কয়েক হাজার মানুষ নলডাঙ্গা স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রা বিরতির দাবিতে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করতে থাকেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা প্রায় দুই আড়াই ঘন্টা ট্রেনটি আটকে রাখে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনতার দাবির মুখে তাৎক্ষনিক ভাবে মাননীয় মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন ও সাবেক ডিজি ট্রেনটি নলডাঙ্গা স্টেশনে যাত্রা বিরতির নির্দেশ দেন। সেইদিন থেকে ট্রেনটি টানা নয় বছর নিয়মিত যাত্রা বিরতি দিয়ে আসছিল। সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতির কারনে সকল ট্রেন বন্ধ রাখা হয়। গত ৫ সেপ্টেম্বর ট্রেনটি পুনঃরায় চালু করা হলে রেল কর্তৃপক্ষ কোন রকম পূর্ব ঘোষনা ছাড়াই ওই স্টেশনে ট্রেনটি স্টপেজ না দিয়ে দ্রুত চলে যায়। এ খবর সর্বত্রই জানাজানি হলে আবারো উত্তাল হয়ে উঠে এ অঞ্চলের সর্বস্তরের হাজারো জনতা। তারা ফের ট্রেনটি স্থায়ী স্টপেজের দাবিতে আন্দোলন সংগ্রাম শুরু করেন।
নলডাঙ্গা বাসিরা বলেন, ট্রেনটি স্থায়ী যাত্রা বিরতির জন্য এ এলাকার মানুষ স্বতঃস্ফুর্ত ভাবে আন্দোলন করে আসছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ সবসময় আমাদের সাথে বিমাতা সুলভ আচরন করেছেন। এমতবস্থায় আমি বিষয়টি আমাদের প্রানপ্রিয় নেত্রী গাইবান্ধা-৩ আসনের এমপি এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপিকে জানালে তিনি ট্রেনটির যাত্রা বিরতির জন্য আশ্বাস দেন। তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এ অঞ্চলের মানুষে দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। এজন্য এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি এমপি ও মাননীয় রেলপথ মন্ত্রীর প্রতি চিরকৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।