মোঃইমরান হোসাইন( বরগুনা) তালতলী প্রতিনিধিঃ অমাবস্যা আর পূর্ণিমার জোয়ারে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেলে এখানকার বসবাসরত মানুষদের পানিতে ভাসতে হয়। জোয়ার-ভাটার কারণে এসব গ্রামগুলোর মানুষ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রতিনিয়তই। চলতি বর্ষা মৌসুমে ফসলি জমিতে চাষাবাদের আশা ছেড়ে দিয়েছেন এখানকার কৃষকরা।
‘এক সময় ফসলে পরিপূর্ণ থাকতো কৃষি জমি। বেড়িবাঁধ না থাকায় এখানে চাষাবাদ বন্ধ। এরপর বহু কষ্টে যা কিছু ফসল ফলাই তাও আবার জোয়ারের পানিতে সব নষ্ট হয়ে যাচ্ছে’ অশ্রুশিক্ত চোখে কথাগুলো বলছিলেন স্থানীয় কৃষক আলমগীর হোসেন।
শুধু তিনিই নন। এমন বোবা কান্না উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের খোট্টার চরসহ এলাকার শত শত কৃষকের। বার বার আশ্বাস দিয়েও বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে পারেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। ফলে বিপদসীমার মধ্যে বসবাস করছেন দুই হাজারেরও বেশি মানুষ। স্বাভাবিক জোয়ারের থেকে সামান্য পানি বাড়লেই প্লাবিত হয় ৩টি গ্রামের ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি।
লবণ পানিতে বার বার প্লাবিত হওয়ায় নষ্ট হয়ে গেছে ফসলি জমির গুণাগুণ। এতে অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে চলে গেছেন অন্যত্র। এখন প্রতি মাসে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার সময় নদীর বাড়তি জোয়ারের পানিতে ৪-৫ দিন ধরে প্লাবিত থাকে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট। বন্ধ হয়ে যায় রান্না, খাওয়া। দুর্ভোগের শেষ থাকে না এলাকাবাসীর। ভুক্তভোগী পারুল বেগম বলেন, ‘অমাবস্যা, পূর্নিমায় পানিতে বাড়ি ঘর তলিয়ে যায়। রান্নার চুলায় পানি জমে থাকায় প্রত্যেক মাসে ৫-৬ দিন রান্না করতে পারি না। ওই সময় সন্তানদের নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়।
‘ স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মো. দুলাল ফারাজি বলেন, জোয়ার এলেই, খোট্রার চরের মানুষদের ভাসতে হয়। তলিয়ে যায় ফসলি জমি। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের একাধিক বার অনুরোধ করা সত্ত্বেও তারা কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন করেও তাকে পাওয়া যায়নি।