ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। বুধবার, ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে পরীমণির জামিন বাতিল করে এই পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা যায়, এদিন মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য ছিলো। তবে চিত্রনায়িকা পরীমণি এলার্জিজনিত সমস্যার কারণে অসুস্থ থাকায় আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি উল্লেখ করে তাঁর আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সুরভী সময় চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে, মামলার বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের আর্জি জানান। আদালত পরীমণির পক্ষের সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ৬ জুলাই ঢাকার আদালতে নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, ২০২১ সালের ৯ জুন রাতে পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে মদ পান করেন। একপর্যায়ে পরীমণি বিনামূল্যে দামি মদের বোতল পার্সেল নেওয়ার দাবি জানান। এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি অশালীন আচরণ করেন এবং নাসির উদ্দিনকে লক্ষ্য করে গ্লাস ও মোবাইল ফোন ছুড়ে মারেন, যার ফলে তিনি মাথা ও বুকে আঘাত পান।এই মামলার তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১৮ মার্চ পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-এর পরিদর্শক মো. মনির হোসেন চিত্রনায়িকা পরীমণি এবং তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ জানুয়ারি এই দুই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। উল্লেখ্য, একই রাতের ঘটনার প্রেক্ষিতে পরীমণিও সাভার থানায় নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছিলেন। পরীমণির দায়ের করা সেই মামলাটি বর্তমানে ঢাকার ৯ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন রয়েছে।