ঝিনাইদহে গত ছয় মাসে ১৮৯ জন আত্মহত্যা করেছে। যেকোনো ধর্মে আত্মহননকে মহাপাপ হিসেবে ঘোষণা করা হলেও ঝিনাইদহ জেলায় আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে আত্মঘাতী প্রবণতা। মানসিক যন্ত্রণা, পারিবারিক কলহ ও হতাশার কাছে হার মেনে মূল্যবান জীবন বিসর্জন দেওয়ার এই ঘটনা সমাজে ধর্মীয় অনুশাসনের চরম ঘাটতি ও নৈতিক অবক্ষয়কে স্পষ্ট করে তুলছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে মানবাধিকার সংগঠন রুরাল ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (আরডিসি) কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
এদিকে, জেলাজুড়ে এই আত্মহননের চিত্র স্থানীয় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মনেও গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরডিসির প্রধান নির্বাহী মো. আব্দুর রহমান জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য উল্লেখ করে জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত জেলার ছয়টি উপজেলায় গলায় ফাঁস দিয়ে এবং বিষপান করে মোট ১৮৯ জন মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ৯৭ এবং পুরুষ ৯২ জন।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, গত বছরের প্রথম ছয় মাসে আত্মহত্যার সংখ্যা ছিল ১২৫ জন, যার তুলনায় এবার আরও ৬৪ জন বেশি। উপজেলার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আত্মহননে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে ঝিনাইদহ সদর উপজেলা, যেখানে এ ছয় মাসে ৫৯ জন (পুরুষ ৩০, নারী ২৯) মারা গেছেন।
এছাড়া, শৈলকুপায় ৪৪ জন (নারী ২৬, পুরুষ ১৮), হরিণাকুণ্ডুতে ২৫ জন (নারী ১৫, পুরুষ ১০), কোটচাঁদপুরে ২১ জন (পুরুষ ১৪, নারী ৭) এবং কালীগঞ্জ ও মহেশপুরে ২০ জন করে আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।










