সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২৭ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে দ্বীপ জেলা ভোলা ভারতের দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ বাতিল হলো বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশে আরোপ করা ট্রাম্পের ভিসানীতি সিলেটে তেলবাহী লরি-অটোরিকশা সংঘর্ষে ৪ জন নিহত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য হয়েছে জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতির শ্রদ্ধা নিবেদন কনিকার বাড়িতে গেলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিয়ের প্রলোভনে গৃহবধূকে নদীতে নিয়ে ধর্ষণ   করলেন আপন দুই ভাই!  ইউরোপ সফর শেষে আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রশংসিত আরিফ হোসেন শামীম

বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৯ মার্চ, ২০২৩, ৮.৫৮ পিএম
  • ২১৪ বার পড়া হয়েছে

প্রথমে বোলার ও পরে ব্যাটারদের দুর্দান্ত নৈপুন্যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ডকে হারিয়ে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শুরু করলো স্বাগতিক বাংলাদেশ।
আজ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে হারিয়েছে ইংল্যান্ডকে। এই জয়ে ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল সাকিবের দল। টি-টোয়েন্টিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় সাক্ষাৎতেই জয় তুলে নিলো টাইগাররা।
টস হেরে প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৬ রান করে ইংল্যান্ড। জবাবে ২ ওভার বাকী রেখেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে বোলিং বেছে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। ব্যাট হাতে দলকে দারুন সূচনা এনে দেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার ফিল সল্ট ও অধিনায়ক জশ বাটলার। ১০ ওভারে ৮০ রান তুলেন তারা। এই জুটি ৪৪ রানেই থামতে পারতো। নাসুম আহমেদ ও সাকিবের ক্যাচ মিসে সেটি আর হয়নি।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের প্রথম বলে সল্টের ক্যাচ ছাড়েন বোলার নাসুম নিজেই। তখন ২০ রানে ছিলেন সল্ট। একই ওভারের চতুর্থ বলে মিড অনে বাটলারের ক্যাচ হাতে নিতে পারেননি সাকিব। এ সময় ১৯ রানে ছিলেন ইংল্যান্ড দলপতি।
১০তম ওভারের শেষ বলে নাসুমের বলেই ভাঙ্গে ইংল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি। উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ৩৫ বলে ৪টি চার ও ১টি ছক্কায় ৩৮ রান করে ফিরেন সল্ট।
১২তম ওভারে বাংলাদেশকে দ্বিতীয়বারের মত উইকেট শিকারের আনন্দে মাতান সাকিব। তিন নম্বরে নামা ডেভিড মালানকে ৪ রানে থামিয়ে দেন সাকিব। ৮ রানের ব্যবধানে ২ উইকেট হারায় ইংল্যান্ড।
তৃতীয় উইকেটে বেন ডাকেটকে নিয়ে জুটি বাঁধেন বাটলার। ১৩তম ওভারে পঞ্চম বলে পেসার হাসান মাহমুদকে ছক্কা মেরে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ২০তম হাফ-সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বাটলার। ১৬তম ওভারের শেষ বলে ডাকেটকে বোল্ড করেন পেসার মুস্তাফিজুর রহমান। ৩টি চারে ১৩ বলে ২০ রান করেন ২০ রান করেন ডাকেট।
পরের ওভারের প্রথম বলে বাটলারকে আউট করেন হাসান। লং-অনে দারুন ক্যাচ নেন শান্ত। ৪টি করে চার-ছক্কায় ৪২ বলে ৬৭ রান করেন বাটলার। বাটলারকে ফেরানোর ওভারে মাত্র ১ রান দেন হাসান। ১৯তম ওভারে লং-অনে শান্তর ক্যাচে স্যাম কারানকে ৬ রানে আটকে দেন হাসান। শেষ ওভারের প্রথম বলে ক্রিস ওকসকে ১ রানে বোল্ড করেন তাসকিন। একই ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে ২৪ বল পর ইংল্যান্ডকে বাউন্ডারির স্বাদ দেন ক্রিস জর্ডান।
শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৫৬ স্কোর পায় ইংল্যান্ড। মঈন আলি ৮ ও জর্ডান ৫ রানে অপরাজিত থাকেন। বাংলাদেশের হাসান ২৬ রানে ২টি, নাসুম-সাকিব-তাসকিন ও মুস্তাফিজুর ১টি করে উইকেট নেন।
১৫৭ রানের টার্গেটে শুরু থেকেই ইংল্যান্ডের বোলারদের উপর চড়াও হন বাংলাদেশের দুই ওপেনার রনি তালুকদার ও লিটন দাস। ৩ ওভারে ৩২ রান তুলে ফেলেন তারা। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে স্পিনার আদিল রশিদের গুগলিতে বোকা বনে বোল্ড হন ৮ বছর পর দেশের হয়ে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নামা রনি। ৪টি চারে ১৪ বলে ২১ রান করেন রনি।
পরের ওভারে পেসার জোফরা আর্চারের বলে পুল করতে গিয়ে মিড অফে ওকসকে ক্যাচ দেন লিটন। ২টি চারে ১০ রান করেন তিনি।
পঞ্চম ওভারে দলীয় ৪৩ রানে ২ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। এ অবস্থায় দলের হাল ধরেন শান্ত ও অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা তৌহিদ হৃদয়। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে হৃদয়ের দু’টি চারে ১০ রান পায় বাংলাদেশ। ৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের স্কোর ২ উইকেটে ৫৪ রান।
উডের করা সপ্তম ওভারে শান্তর ৪টি চারে ১৭ রান পায় বাংলাদেশ। জুটিতে হাফ-সেঞ্চুরির পর ১১তম ওভারে দলের রান ১শতে নেন শান্ত ও হৃদয়। ১২তম ওভারে ২৭ বলে টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে তৃতীয় হাফ-সেঞ্চুরি তুলে নেন শান্ত। এরপর শান্ত-হৃদয়ের জমে যাওয়া জুটি ভাঙ্গেন স্পিনার মঈন। ছক্কা মারতে গিয়ে কারানকে ক্যাচ দিয়ে থামেন ২টি চার ও ১টি ছক্কায় ১৭ বলে ২৪ রান করা হৃদয়। তৃতীয় উইকেটে ৩৯ বলে ৬৫ রানের জুটি গড়েন শান্ত-হৃদয়।
১৩তম ওভারে দলীয় ১১২ রানে শান্তকে বোল্ড করে ইংল্যান্ডকে খেলায় ফেরান উড। ৮টি চারে ৩০ বলে ৫১ রান করেন শান্ত।
শান্ত যখন ফিরেন তখন জিততে ৪৬ বলে ৪৫ রান দরকার পড়ে বাংলাদেশের। পঞ্চম উইকেটে আফিফ হোসেনকে নিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেছেন সাকিব। ইংল্যান্ডের বোলারদের বিপক্ষে মারমুখী মেজাজে ব্যাট চালিয়েছেন তিনি। ৩৪ বলে অবিচ্ছিন্ন ৪৬ রান তুলে ২ ওভার বাকী রেখেই বাংলাদেশকে ঐতিহাসিক জয় উপহার দেন সাকিব ও আফিফ।
৬টি চারে ২৪ বলে অপরাজিত ৩৪ রান করেন সাকিব। ২টি চারে ১৩ বলে ১৫ রানে অপরাজিত থাকেন আফিফ।
আগামী ১২ মার্চ মিরপুরে সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি অনুষ্ঠিত হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com