বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
যাত্রীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রস্তুত থাকতে হবে। –বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জেএসএস চট্টগ্রাম মহানগরের অভিষেক প্রস্তুতি, কমিটি গঠন ও আলতাফ হোসেনের জন্মদিনে দোয়া কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৩ দিনব্যাপী ‘যোসেফাইট টেক কার্নিভাল’ সম্পন্ন কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত

আন্দোলন দমনে বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পেয়েছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ২৬ জুলাই, ২০২৪, ৩.২৪ পিএম
  • ১৫৪ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, কোটা সংস্কারের দাবিতে সৃষ্ট বিক্ষোভ দমন করতে বাংলাদেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর বেআইনিভাবে প্রাণঘাতী ও কম প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনকে কেন্দ্র করে হামলা, সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা বিশ্লেষণ করে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাটি।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে নাগরিকদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভের অধিকারকে সম্মান, আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন বন্ধ এবং অবিলম্বে যোগাযোগ ব্যবস্থার ওপর সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বানও জানানো হয়েছে।

ছাত্র বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে বেআইনি বল প্রয়োগের ‘প্রমাণ বিশ্লেষণ’ সিরিজের দ্বিতীয় অংশ উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বলেছে, ‘বাংলাদেশ থেকে পাওয়া সীমিত তথ্য দেশটির মানবাধিকার পর্যবেক্ষণে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংস্থাটি বিভিন্ন ভিডিও এবং ফটোগ্রাফিক প্রমাণ যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে ক্রমবর্ধমান পরিস্থিতির বিষয়ে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

প্রতিবাদ-বিক্ষোভের সময় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রাণঘাতী এবং কম প্রাণঘাতী অস্ত্রের বেআইনি ব্যবহারের অন্তত তিনটি ঘটনার ভিডিও যাচাই করেছে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং এর ক্রাইসিস এভিডেন্স ল্যাব। এগুলো হল- সাভার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি এবং রামপুরার ডিআইটি রোডের বিক্ষোভের ভিডিও।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সিনিয়র ডিরেক্টর ডিপ্রোজ মুচেনা বলেছেন, বাংলাদেশ থেকে সামনে আসা ভিডিও এবং ফটোগ্রাফিক প্রমাণের বিষয়ে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের ক্রমাগত যাচাই ও বিশ্লেষণে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে। পাশাপাশি অতীতে বাংলাদেশ সরকার এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মানবাধিকার বিষয়ক ভয়াবহ রেকর্ডের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে অন্যান্য বাহিনীর সঙ্গে র‍্যাবও মোতায়েন করা হয়েছে। এ অবস্থায় ইন্টারনেট ও সক্রিয় আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণের অভাবে এবং যোগাযোগ বিধিনিষেধের কারণে আন্দোলনকারীদের অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার নিশ্চয়তা খুবই কম।

ডিপ্রোজ মুচেনা আরও বলেন, বাংলাদেশ সরকার এবং সংস্থাগুলোকে মানুষের প্রতিবাদ করার অধিকারকে সম্মান করতে, এই সহিংস দমন-পীড়ন বন্ধ করতে এবং অবিলম্বে সমস্ত যোগাযোগ বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল আহ্বান জানাচ্ছে।

সমাবেশে পুলিশিং বা দায়িত্ব পালনের সময় আগ্নেয়াস্ত্র কোনও উপযুক্ত হাতিয়ার হতে পারে না উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্টে বলা হয়েছে, ‘মৃত্যু বা গুরুতর আঘাতের বিষয়ে আসন্ন হুমকি মোকাবিলার জন্য কঠোরভাবে প্রয়োজন হলেই, শুধুমাত্র এসব অস্ত্র ব্যবহার করা উচিত।’

সংস্থাটির সিনিয়র ডিরেক্টর বলেন, ‘কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলি চালানোর আদেশ প্রত্যাহার করতে হবে, সারা দেশে ইন্টারনেট পরিষেবা পুরোপুরি সচল করতে হবে এবং বিক্ষোভ দমনে সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি সরকারকে অবশ্যই নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, কারফিউ, বিক্ষোভকারীদের দেখামাত্র গুলি চালানোর আদেশ এবং ইন্টারনেট বন্ধের মতো পদক্ষেপ ভবিষ্যতে ব্যবহার করা হবে না। এই দমনমূলক ব্যবস্থাগুলো এই বিক্ষোভ এবং ভবিষ্যতের যে কোনও ভিন্নমতকে চূর্ণ করার একটি ইচ্ছাকৃত প্রচেষ্টা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com