আবুনূর রাশেদ, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:- ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া, আখানগর, রাজাগাঁও, ২০ নং রুহিয়া পশ্চিম, ঢোলার হাটে অলিগলিতে মাদকের ছড়াছড়ি হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে মরণ নেশা মাদক। মাদকের ভয়াল থাবায় ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে যুবসমাজ ও উঠতি বয়সের তরুণরা। এবস্থায় ইদ্বিগ্ন অভিভাবক সহ সুশীল সমাজ। রুহিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) চিত্তরঞ্জন রায় জানান, আমরা মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষনা করেছি তারা যতই শক্তি শালী হোক না কেন, কাউকে ছাড়দেয়া হবেনা। আইনের আওতায় এনে তাদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মাদকের বিরুদ্ধে জনগনকে সচেতন করার লক্ষে ওয়ার্ড ভিত্তিক মাদকবিরোধী কমিটি গঠন হবে। স্থানীয় সুত্রগুলো জানিয়েছেন, ভারত থেকে আসা ফেন্সিডিল, হেরোইন, ইয়াবা, মদ, গাজা, ডেন্ডু সহ বিভিন্ন ধরনের ধরনের মাদকের চালান আটোয়ারী উপজেলার বর্ষালুপড়া, বামনকুমার, হয়ে রাজাগাঁও ইউপির উত্তর বঠিনা নামাজ পড়া বাজার, সুইজ গেইট (টাঙ্গন ব্যারেজ), চুয়ামণি বাজার, রুহিয়া, ঢোলারহাট, উত্তরাবাজার, জেলাশহর সহ বিভিন্ন স্থানে নেয়া হয়। এরফলে রুহিয়া থানার ৫ ইউনিয়ন হয়ে উঠেছে মাদকের স্বর্গরাজ্য। পাটিয়াডাঙ্গী হাট ও ঢোলার হাট থেকে সব মাদক পুরো জেলা শহরের আনাচে-কানাচে বিস্তৃত হয়ে পড়ছে। সহজলভ্য হওয়ায় যুবকরা ঝুঁকে পড়ছে মাদকের দিকে।
থানার ২০ নং রুহিয়া পশ্চিম ইউপি, দেবীপুর ইউপি‘র কালেশ্বরগাঁও আদর্শ কলোনী , উত্তর বঠিনা, রুহিয়া, উত্তরা বাজার, মধুপুর কালিতলা বাজার ভূমিঅফিস সংলগ্ন বাবাড়ি, রেলস্টেশন,খালপাড়া, রাজাগাঁও,পাটিয়াডাংঙ্গীহাট ঢোলারহাট, সহ শতাধিক স্পটে মাদকের রমরমা মাদক ব্যাবসা চলছে বলে এলাকা বাসী জানায়।
এসব স্পটে মদ,গাজা,ফেন্সিডিল, ইয়াবা, হেরোইন,ডেন্ডু সহ বিভিন্ন ধরনের মাদক পাওয়া যাচ্ছে। স্থানীয় সুত্র জানায়, মাদকের ব্যাপকতা রোধে পুলিশের নিয়মিত টহল ও অভিযান চললেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই প্রকৃত মাদক ব্যাবসায়ী ধরা পড়েনা। কিছু অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা ও সোর্স মাদক ব্যাবসায়ীদের সঙ্গে বিশেষ লেনদেনের মাধ্যমে জিইয়ে রেখেছে মাদক ব্যাবসা। মাদকের সহজ লভ্যতার কারণে এলাকার স্কুল-কলেজ পড়ুয়া ছাত্রদের নিয়ে তাদের অভিভাবকরা উদ্বগ্নি হয়ে পড়েছেন।
অনেকে মাদকাশ্ক্ত হয়ে লেখাপড়া ছেড়েদিয়ে মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি ছিন্তাইয়ের মত নানা অপরাধ মুলক কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ওসি আরো জানান, মাদক ব্যাবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নিলেও আদালত থেকে তারা সহজেই জামিন পেয়ে একই পেশায় নিয়োজিত হচ্ছে। তাই মাদক আইনকে আরো শক্তিশালী না করলে এসব অপরাধ কঠোর ভাবে দমন করা সম্ভব নয়। ইতিমধ্যে চিহিৃত মাদক স্পটগুলো বন্ধকরে দেওয়া হয়েছে।