প্রতিবেদক, আল সামাদ রুবেল : রাষ্ট্রায়ত্ত সব পাটকল বন্ধ ঘোষণা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জোর করে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়ার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। এক প্রতিবাদপত্রে উদীচীর সভাপতি ড. সফিউদ্দিন আহমদ ও সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন বলেন, গত প্রায় ৫০ বছর ধরে যেসব সরকারি কর্মকর্তা নানা পর্যায়ে এসব পাটকলের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন তাদেরকে কি ব্যর্থতার দায়ে শাস্তির আওতায় আনা হবে? তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে ।
দেশের সোনালী আঁশ পাট শিল্পকে ধ্বংস করতে দীর্ঘদিন ধরেই শাসকগোষ্ঠী পাঁয়তারা চালিয়ে আসছে। এ জন্যই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো আধুনিকায়ন না করে দিনের পর দিন লোকসানি খাতে পরিণত করা হয়েছে। বহুজাতিক দাতা সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী দেশের অন্যতম রপ্তানিমুখী এ শিল্পকে বিদেশীদের হাতে তুলে দিতেই রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধের এ সিদ্ধান্ত।
উদীচীর নেতৃবৃন্দ বলেন, সম্প্রতি পাটের স্বচ্ছ সোনালী ব্যাগ আবিস্কার করেছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. মোবারক আহম্মেদ খান। এই ব্যাগ শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো বিশ্বে চলমান প্লাস্টিকবিরোধী আন্দোলন এবং পরিবেশ রক্ষার লড়াইয়ে বিশেষ অবদান রাখতে পারবে।
প্লাস্টিক জাতীয় পণ্যের বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী যে আন্দোলন চলছে সেখানে পরিবেশসম্মত পণ্য হিসেবে একমাত্র পাটজাত দ্রব্যই প্লাস্টিকের ঘাটতি পূরণ করতে পারে।
একইসাথে বিশ্ববাজারে এই ব্যাগের চাহিদা ব্যাপক থাকায় এর মাধ্যমে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।এমন বাস্তবতায়ও সরকার পাটশিল্পের প্রতি বিশেষ নজর না দিয়ে উল্টো পথে হেঁটে রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল বন্ধ ঘোষণা করলো।এটি নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রের জন্য বড় ক্ষতি।
দেশে এরইমধ্যে সোনালী ব্যাগের পরীক্ষামূলক উৎপাদন চলছে, সে সময় রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলগুলো বন্ধ ঘোষণা ও শ্রমিক-কর্মচারীদের জোর করে গোল্ডেন হ্যান্ডশেক দেওয়া আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
অবিলম্বে এই আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে উদীচী। একইসাথে পাটকলগুলো আধুনিকায়ন করে অধিক উৎপাদনমুখী করারও দাবি জানান উদীচীর নেতৃবৃন্দ।