সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

ফ্লয়েড ও ব্রুকসের মৃত্যুকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে আবারো প্রতিবাদের ঝড়

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ জুন, ২০২০, ২.২১ পিএম
  • ২৪৫ বার পড়া হয়েছে

কোভিড-১৯ এর কারনে বিশ্বজুড়ে চলমান জরুরী অবস্থার মধ্যে ২৫শে মে মিনেসোটায় পুলিশ হেফাজতে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু এবং সবশেষে শুক্রবার আটলান্টায় পুলিশের গুলীতে আফ্রিকান আমেরিকান রেয়শার্ড ব্রুকসের মৃত্যু, যুক্তরাষ্ট্রে বর্ণ বৈষম্য দূরীকরণ, পুলিশের নৃশংসতা বন্ধ ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে আরো জোরদার করে তুলেছে।

আমাদের সহকর্মী কেন ফারাবাহ তার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর পুলিশ বিভাগের সংস্কার নিয়ে যেসব আলোচনা, বিতর্ক ও দাবী উঠেছে তাতে সর্বদলীয় সমঝোতার ভিত্তিতে পুলিশ সংস্কার আইন হয় কিনা এটা ভাবছেন অনেকেই।

শুক্রবার রাতে আটলান্টায় ফাস্ট ফুডের দোকানের ড্রাইভওয়েতে গাড়ীর মধ্যে ঘুমিয়ে পড়া ২৭ বছর বয়সী আফ্রিকান আমেরিকান রেয়শার্ড ব্রুকসকে জাগাতে পুলিশ ডাকে ওয়েন্ডিস কর্তৃপক্ষ। পরে পুলিশ এসে তাকে সরানোর চেষ্টাকালে পুলিশের সাথে ধস্তাধস্তি ও এক পর্যায়ে পুলিশের গুলীতে আহত হলে তাকে হাসপাতালে নেয়ার পর তার মৃত্যু ঘটে।

ঐ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়। আটলান্টা প্রলিশ প্রধান তার পদ থেকে সরে যান এই ঘটনার জেরে।

আটলান্টা মেয়র কেইশা ল্যান্স বটমস বলেন, “এই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে এবং আরো হবে; আমি বিশ্বাস করি আপনি কি করতে পারেন অথবা কি করা উচিৎ তার মধ্যে অনেক ফারাক আছে। তবে এই ঘটনার কোনো যুক্তি আছে বলে আমি মনে করি না এবং তাই ঐ অফিসারকে বরখাস্ত করা হয়েছে”।

সাবেক জর্জিয়া ষ্টেট প্রতিনিধি স্টেসি এ্যাব্রামস ঘটনার প্রেক্ষিতে বলেন, “পুলিশ আফিসারদের কাজের পদ্ধতির সংস্কার প্রয়োজন। কারন শুক্রবার যা ঘঠেছে তাতে জোর জবরদস্তি হয়েছে”।

মিনিয়াপোলিসে জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যুর পর পুলিশ সংস্কার নিয়ে ওয়াশিংটনের আইনপোণেতারা এম্নিতেই বাইপার্টিজান আইন করার আলোচনার কথা ভাবছিলেন। আটলান্টার ঘটনা তার প্রয়োজনীয়তা আরো বাড়িয়ে দিলো।

ওকলাহোমার রিপাব্লিকান সেনেটর জেমস ল্যাংকফোর্ড বিশ্বাস করেন পুলিশের শ্বাস রোধ করার পদ্ধতিটি বদলানো উচিৎ।

“অবস্থার প্রেক্ষিতে পুলিশ তা করতে পারে কি না তা নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। ২০১৭ সালে এ নিয়ে কথা উঠেছিল; তখন বলা হয়েছিল দরকারে তারা তা করতে পারে”।

সাবেক নিউজার্সি গভর্ণর ও ২০১৬ সালের রিপাব্লিকান প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ক্রিস ক্রিস্টি মনে করেন, “আমরা পুলিশ আফিসারদেরকে গাড়ী থেকে বের করে বাইসাইকেল দিয়েছি যাতে সম্প্রদায়ের মানুষজনের সঙ্গে তারা ঘনিষ্ঠ হয়, আস্থার সম্পর্ক বাড়ে। আর সহিংস অবস্থা দমনের জন্যে তাদের যে প্রশিক্ষন হয় তাতে প্রথমেই বলা হয়, কাউকে আহত না করার চেষ্টা করা, এবং জোর জবরদস্তি হচ্ছে সর্বশেষ পর্যায়”।

ওয়াশিংটন আইনপ্রনেতারা এর একটি ভালো সমাধান খোঁজার চেষ্টায় রয়েছেন। অনেক রাজ্যেই পুলিশ বিভাগের সংস্কার নিয়ে আলোচনা ও কাজকর্ম শুরু হযেছে।

এদিকে, জর্জ ফ্লয়েডের মৃত্যু ও রেয়শার্ড ব্রুকসের মৃত্যুকে ঘিরে আজ সোমবার আবারো প্রতিবাদ হচ্ছে। বর্ণ বৈষম্য দূর, পুলিশের নৃশংসতা বন্ধ এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এই দাবীতে সমাবেশ হচ্ছে রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসির লাফিয়াত স্কোয়ার ও হোয়াইট হাউজের আশেপাশে ওবং জর্জিয়ার আটলান্টাসহ বিভিন্ন স্থানে।

সোমবার জাতিসংঘ মানবিক অধিকার পরিষদ বর্ণবৈষম্য ও মানবাধিকার লংঘন ও পুলিশের নৃশংসতা নিয়ে একটি বিতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বুধবার।

রবিবার ওয়াশিংটন, নিউইয়র্ক, লস এণ্জেলেস, আটলান্টটা ও মায়ামিতে প্রতিবাদ সমাবেশ হয় দুই মৃত্যুকে ঘিরেই।

যুক্তরাস্ট্রের এই ঘটনার জের ছড়িয়ে পড়ে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে। ইউরোপের বেশ কয়েকটি শহরে প্রতিবাদে অংশ নেন বহু মানুষ। বার্লিনের ব্রান্ডেনবার্গ গেট থেকে ৯ কিলোমিটার মানবিক শিকল সৃষ্টি করেন প্রতিবাদকারীরা; বর্ণবের্ষম্য দূর ও পুলিশি নির্যাতন বন্ধের দাবীতে।

প্যারিসে প্রতিবাদে রাস্তায় নামে বহু মানুষ। প্রায় ১৫ হাজার মানুষ অংশ নেন এতে।

বৃটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন রবিবার বলেন, “বৃটেনের রাজপথে বর্ণবাদের দৌরাত্ম সহ্য করা হবে না”।

বর্ণবাদ নিরসণের দাবীতে রাস্তায় নামা আন্দোলনকারীদের ওপর ডানপন্থীদের হামলার পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে জনসমন এ মন্তব্য করেন। ঐ ঘটনায় ১০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

লন্ডন মেয়র সাদিক খান ডানপন্থীদেরকে ঐ সহিংসতার জন্য দায়ী করেন।

রবিবার জাপানের টোকিওতে প্রতিবাদে নামেন বহু মানুষ। তারা ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার ব্যানার বহন করেন।

এছাড়া নিউজিল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র কন্সুলেটের সামনে প্রতিবাদ করেন অনেক মানুষ।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com