সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০৫ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

আষাঢ় এলেই সারিসারি বাসা বাদে সাদা বক ও পানকৌড়ি দল

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০, ৬.৫৮ পিএম
  • ৮৭১ বার পড়া হয়েছে
মল্লিক মো.জামাল,বরগুনা প্রতিনিধিঃ
আজ আষাঢ়ের প্রথম দিন। হঠাৎ একঝাঁক সাদা বক উড়ে এসে বসে এক বাড়িতে। বাসা বাঁধে, বাচ্চা ফোটায়। বাড়ির মালিক বক ও তাদের ছানাগুলোকে মাঝে মাঝে খেতে দেন। ছানাগুলো বাসা থেকে পড়ে গেলে তুলে দেন বাসায়। পাখিগুলো মালিকের ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়। ছানাগুলো বড় হয়ে উঠলে পাখিগুলো চলে যায়।
তবে এবার শুধু বক নয়, সাদা বকের সঙ্গে দেখা যায় কালো পানকৌড়ি। এক বাড়ি থেকে দুই বাড়ি, তিন বাড়ি বাসা বাঁধে। এর পর থেকে সংখ্যাটা শুধু বাড়ছেই। সাদা আর কালো রঙের পাখিতে ঢেকে আছে গাছের ডালপালা। পাখির বিষ্ঠায় সাদা হয়ে আছে বাড়ির চাল ও উঠান। সকাল হলে খাবারের সন্ধানে ছুটছে ওরা। সন্ধ্যা হলে ফিরে আসছে ঝাঁকে ঝাঁকে। পাখির ঝাঁক দেখতে দূূর-দূরান্ত থেকে আসছেন বহু পাখিপ্রেমী মানুষ।
গ্রামবাসীর ভালোবাসায় পাখির এই অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে তালতলী উপজেলার ৭নং সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামে। সার্বক্ষণিক পাখিগুলোর দিকে নজর রাখছেন গ্রামের ফোরকান ফরাজী ও আলকাছ ফরাজী সহ আশপাশের লোকজন। তাঁদের বাড়ি থেকেই প্রথম শুরু হয়েছিল পাখিগুলোর আতিথেয়তা।
কথা হয় ফোরকান ফরাজী সঙ্গে। তিনি জানান,  গ্রামের আশপাশে রয়েছে ছোট ছোট কয়েকটি বিল ও খাল। আষাঢ় মাসের শুরুতে নদী ,খাল ও বিলে বর্ষার পানি আসতে শুরু করলেই বক আর পানকৌড়িগুলো আসতে শুরু করে। গাছে গাছে বাসা বাঁধে, ডিম দেয়, বাচ্চা ফোটায়। নদী ও বিল থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এরপর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উঠলে অন্যত্র চলে যায়। ছয় মাসের মতো পাখিগুলো এখানে থাকে বলে জানালেন তিনি।
ফোরকান ফরাজী ভাষায়, ‘পাখিগুলো ভালোবাসা বোঝে। তাই ফিরে আসে বারবার। আমরাও ওদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। বিষ্ঠা/মল ও উচ্ছিষ্ট খাবারে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে যায়। দুর্গন্ধে মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। তবুও পাখিগুলোর জন্য মায়া লাগে। তাই অবহেলা করি না। শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে রাত-দিন পাহারা দিয়ে রাখি।’
কথা হলো স্থানীয় লাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন  সঙ্গে। তিনিও পাখিপ্রেমী। তাই নানা সমস্যা সত্ত্বেও পাখিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এ গ্রামের মানুষের মতো সবাইকে পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com