সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

দেবীদ্বারে ২০ দিনেও জানতে পারেনি করোনা মুক্ত হয়েছেন কিনা

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২০, ১০.৫৪ পিএম
  • ৩৪৭ বার পড়া হয়েছে

এ আর আহমেদ হোসাইন (দেবীদ্বার-কুমিল্লা)প্রতিনিধি// দেবীদ্বারে করোনা পজেটিভ আক্রান্ত দরিদ্র সানাউল্লাহ(৩১)’র পরিবারের মানবেতর জীবন যাপন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। লক ডাউনে থাকার ২০দিনেও কেউ ওই পরিবারের খোঁজ নেননি। ঈদের দিন তার পরিবারের কেউ মসজিদে ঈদের জামায়েতে দাড়াতে পারেননি। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা ভেবে ছিল ১৪দিন তো শেষ হয়ে গেছে, তারা ঘর থেকে বেরুতে পারবে কিন্তু সামাজিক প্রতিবন্ধকতায় ঘর থেকে বের হতে পারেননি। মসজিদে যেয়ে ঈদের জামাত না পড়তে পেরে ঘরে বসে অঝোরে কাঁদলেন দু’ভাই। ঈদের সেমাই ফিন্নি না জুটলেও সুকনো খাবার আর পানি পান করে দুই ভাই দিন কাটিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে করোনায় আক্রান্ত সানাউল্লাহ’র পরিবারের খোঁজ নিতে গেলে সানাউল্লাহ ওই তথ্য জানান। তবে করোনা আক্রান্ত সানাউল্লাহ জানান, ঈদের আগের দিন পৌরসভা থেকে ২কেজি পলাউর চাউল, ২প্যাকেট সেমাই, ১ কেজি চিনি একটু গুড়া দুধ সহ একটি প্যাকেট তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছেন। ঘর থেকে বের হতে না পারায় রোজগারও নেই, প্রতিবেশীরা সহযোগীতা থাক দূরের কথা তাদের দৃষ্টিতে আমরা ঘৃনিত মানুষ। এছাড়া রাজনৈতিক, সামাজিক ভাবে বিতরণ করা বা সরকারের কোন খাদ্য সহযোগীতাও আমাদের জন্য জুটেনি। শিশুরা ঘর থেকে বেরুলে প্রতিবেশীরা তাদের গাল মন্দই নয় দৌড়ে ঘরে পাঠিয়ে দেয়। আমার দুই ভাই কর্ম করতে পারলে হয়তো আমাকেও সহযোগীতা করতে পারতেন। তারাও কর্মহীন। আমার কারনে গোটা পরিবার আজ মানবেতর জীবন যাপন করতে হচ্ছে। অথচ আমি ছাড়া আমার স্ত্রী, দুই মেয়ে এক ছেলে করোনা নেগেটিভ। আমার বাবা, মা, বড় ভাই, বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও ২ শিশু সন্তান, ছোট ভাই ঘর থেকে বেরুলে মানুষ ঘৃণাই নয়, গাল সনদ করে, তিরস্কার সহ নানা কটুক্তি করে ঘর থেকে বের হতে দেয়না। আমি করোনা আক্রান্ত তাই আমার ঘরের মিষ্টান্নও ভয়ে বাবা, মা, ভাই ভাবী ও বাচ্চাদের দিতে পারি নাই। স্ত্রী বাচ্চাদের অনুরেধে নিজে খেতে খুব কষ্ট হয়েছে। আমরা প্রায় ২৬/২৭ বছর পূর্বে উপজেলার মগপুস্করনী গ্রামের সরকার বাড়ি থেকে এসে দেবীদ্বার পৌর এলাকার বারেরা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করে আসছি। আমরা তিন ভাই। তিন ভাইয়ের আলাদা সংসার, ছোট ভাই বিয়ে করেনি, তার সাথে মা বাবা থাকেন। স্বজনদের কেউ কাছে নেই। আমি দেবীদ্বার নিউমার্কেট মাজেদ ম্যানশনে উপজেলা প্রেস ক্লাবের পাশের ‘ভাই ভাই মেডিসিন ফিসারিজ কর্ণারে’ চাকরি করতাম। আমার এক নিকট আত্মীয়কে দোকান মালিকের নিকট বেতনের বকেয়া টাকার জন্য পাঠিয়েছিলাম, উনি আমার জন্য অতিরিক্ত আরো ১৫শত টাকা দিয়েছেন। করোনায় কারোর সহযোগীতা বলতে এটুকুই করুণা পেয়েছি। সব চেয়ে বড় কথা হল আমি এখন সুস্থ্য না কি অসুস্থ্যই রয়ে গেলাম তা ২০ দিনেও জানতে পারলাম না। আমাদের বাড়ি লক ডাউন করার সময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের লোকজন স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়ে গেছেন। আমার কারনে অন্য কেউ আক্রান্ত হলে তার দায়ভার আমাকে নিতে হবে। তাই স্বাসস্থ্য বিধি মেনে চললেও আমারা কি অবস্থায় আছি, কি খাচ্ছি সে খবর কেউ নিচ্ছেননা। তিনি আরো আমার শারেরীক অবস্থা করোনা উপস্বর্গ মনে হওয়ায় নমুনা পরীক্ষা করি। নমুনা দেয়ার ৩ দিন পর আমার রিপোর্ট পজেটিভ আসে। প্রশাসন এসে আমার বাড়ি লক ডাউন করে দিয়ে যায়। শুধু আমার পরিবারই নয়, আমার বাবা মা ও দুই ভাইয়ের পরিবারকেও লক ডাউনের আওতায় আটকে যায়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয় করোনা পজেটিভ নেগেটিভ না হওয়া পর্যন্ত কেউ ঘর থেকে বেরুতে পারবে না। ১৪দিন পর আবারো নমুনা নেয়া হয়। নমুনা নেয়ার কয়েকদিন পর ফোন করে জানতে পারি আমার রিপোর্ট পজেটিভ বা নেগেটিভ কোনটাই নির্ধারন হয়নি, তাই আবারো নমুনা দিতে হবে। আমাদের লোকবল কম, কয়েক জন করোনায় আক্রান্ত হওয়ায় আপনাকে দেবীদ্বার এসে নমুনা দিয়ে যেতে হবে। আমি বললাম,- আমাদেরকে প্রতিবেশীরা বের হতে দেয়না, কিভাবে যাব দেবীদ্বার, তখন তারা জানালেন, আমরা নমুনা আনতে হলে কয়েকদিন কয়েকদিন সময় লাগবে। এব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহাম্মেদ কবির জানান, আমারা প্রতিটা রোগির খোঁজ খবর নেয়ার জন্য আলাদা টিম গঠন করে দিয়েছি, তাছাড়া এক দিকে জনবলের অভাব অপর দিকে আক্রান্তের সংখ্যা বেশী হওয়ায় নমুনা সংগ্রহ থেকে যোগাযোগে কারোর সাথে মিষ্টেক হতে পারে। এছাড়া অনেক রোগির ফোন নম্বর ভুল থাকায় তাদের সাথে যোগাযোগ খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। রোগিরাও তাদের প্রয়োজনে যোগাযোগটা নিয়মিত করছেন না। এখন থেকে করোনার নমুনা সংগ্রহকারীদের তথ্য সংগ্রহরে পাশাপাশি তাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের পটোকপিও নেয়া হবে, যাতে করে ফোন নম্বর ভুল হলে বা লজ্জায় ভুল নাম দেয়ার ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয় পত্রের ঠিকানায় তাদের খুঁজে পেতে সহযোগীতা হয়।আগামীকালই (শুক্রবার) সানাউল্লাহ’র নমুনা সংগ্রহ করে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, লক ডাউনে থাকা করোনা পজেটিভ রোগীদের আমরা খোঁজ খবর রাখছি। খাদ্য সহায়তাও দিচ্ছি। যারা খাদ্য সংকটে আছে তাদের পক্ষ থেকে আমাদের জানাতে হবে, আমরা খাদ্য পাঠিয়ে দেব। না জানালে আমরা বুঝব কি করে তার খাদ্য সমস্যা আছে। আমাদের প্রচুর খাদ্য মজুত আছে। ওদের পক্ষ থেকে জানালে আমরা পাঠিয়ে দেব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com