সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

পাকিস্তানে বছরজুড়ে জঙ্গি হামলায় অন্তত ১,৬০০ সামরিক, বেসামরিক লোক নিহত

  • আপডেট সময় বুধবার, ১ জানুয়ারী, ২০২৫, ৪.৪৮ এএম
  • ১২৮ বার পড়া হয়েছে

পাকিস্তানের খাইবার এলাকায় আফগান সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়ার পাশ দিয়ে পাকিস্তানি সৈন্য টহল দিচ্ছে। ফাইল ফটোঃ ৩ অগাস্ট, ২০২১।

সোমবার নতুন এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে সন্ত্রাসী বোমা হামলা ও বন্দুক হামলায় ২০২৪ সালে ১ হাজার ৬শো জনের বেশি বেসামরিক নাগরিক ও নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। ইসলামাবাদ-ভিত্তিক একটি স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান তাদের বার্ষিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে এমন সময়ে, যখন আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখোয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে ভয়াবহ সহিংসতা চলছে।

পাকিস্তান জোর দিয়ে বলেছে, নিষিদ্ধ আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীগুলো আফগান অভয়ারণ্য থেকে সহিংসতা সংগঠিত করছে। তালেবান ২০২১ সালের আগস্টে প্রতিবেশী দেশটিতে ক্ষমতা নেয়ার পর থেকে গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম তীব্রতর হয়েছে।

সেন্টার ফর রিসার্চ এন্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (সিআরএসএস) তাদের সোমবারের প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৪ সালে মোট হতাহতের ৬০ শতাংশই বেসামরিক নাগরিক। এতে বলা হয়, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশ ও অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা “এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণহানির শিকার হয়েছে।”

প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত ৬৮৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। এ সংখ্যা ২০১৪ সালে জঙ্গি হামলা ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে পাকিস্তানে প্রায় ৮০০ নিরাপত্তা কর্মী হারানোর পর সবচেয়ে বেশি।

 

করাচী বিমান বন্দরে সন্ত্রাসী হামলার পর নিরাপতা কর্মীদের কাজ করতে দেখা যাচ্ছে। বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে। ফাইল ফটোঃ ৭ অক্টোবর, ২০২৪।

জঙ্গি তৎপরতার পুনরুত্থানের জন্য দুটি গোষ্ঠীকে দায়ী করা হয়ঃ তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)।

জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত উভয় সংগঠনই নিয়মিতভাবে নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দায় স্বীকার করে আসছে।

টিটিপি মূলত খাইবার পাখতুনখোয়ায় সক্রিয়, অন্যদিকে বিএলএ এবং এর মিত্র জাতিগত বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো বেলুচিস্তানে সশস্ত্র হামলা চালায়।

পাকিস্তান সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এই প্রতিবেদনের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানালেও সেনাবাহিনীর একজন মুখপাত্র শুক্রবার সরাসরি টেলিভিশনে সম্প্রচারিত সংবাদ সম্মেলনে প্রকাশ করেছেন, ২০২৪ সালে পাকিস্তানজুড়ে সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানে “৩৮৩ জন সাহসী কর্মকর্তা ও সেনা শহীদ হয়েছেন।” তবে এ বিষয়ে তিনি আর বিস্তারিত কিছু জানাননি।

সিআরএসএস জানায়, শুধু বেলুচিস্তানেই সেনাসহ পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় ২৫০ জনের প্রাণহানির ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। বাকি হতাহতের সংখ্যা পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশের পাশাপাশি অন্যান্য অঞ্চলে ঘটেছে।

এই অলাভজনক গবেষণা প্রতিষ্ঠান বলে যে, তাদের প্রতিবেদন গণমাধ্যমের পরিসংখ্যান এবং সরকারী বিবৃতির উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। তারা পাকিস্তানের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তাদের ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এই সংগঠন নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ এবং গবেষণা উৎসাহিত করতে কাজ করে।

আফগানিস্তানের পাকটিকা প্রদেশে পাকিস্তানি বিমান হামলার পর তালেবান বাহিনী হেলিকপ্টার চড়ে সীমান্ত এলাকায় টহল দিচ্ছে। ফাইল ফটোঃ ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪।

আফগান ভূমি ব্যবহার করে পাকিস্তানসহ প্রতিবেশী দেশকে হুমকি দেয়ার জন্য কোন ব্যক্তিকে অনুমতি দেয়া হয়েছে বলে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তালেবান সরকার সেটা অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে তালেবান কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করে যে, পাকিস্তানি জঙ্গি বিমান পূর্ব আফগানিস্তানের পাকটিকা অঞ্চলের কয়েকটি এলাকায় আক্রমণ করেছে। তারা দাবী করে যে বিমান হামলায় প্রায় ৫০ জন নিহত হয়েছে। বিবৃতিতে নিহতদের পাকিস্তান থেকে আসা “শরণার্থী” হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

ইসলামাবাদ জনসমক্ষে বিমান হামলা নিয়ে কোন জবাব না দিলেও, পাকিস্তানি নিরাপত্তা কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করে তাৎক্ষণিক এই আন্তঃসীমান্ত বোমাবর্ষণের খবর নিশ্চিত করে। তারা বলে, হামলাগুলো টিটিপি’র ঘাঁটি লক্ষ্য করে চালানো হয়, যার ফলে দুই ডজনের বেশি জঙ্গি নিহত এবং প্রশিক্ষণ অবকাঠামো ধ্বংস হয়।

তালেবান সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার এক বিবৃতিতে বলে যে, তাদের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী পাল্টা জবাব হিসেবে পাকিস্তানের ভেতরে কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতুতে হামলা চালায়।

পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের দাবী স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com