সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

নওগাঁয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের অভিযানের নামে রাতের আঁধারে হামলা ও ভাঙচুরের  অভিযোগ 

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৪, ৭.৫৮ পিএম
  • ১২৬ বার পড়া হয়েছে
প্রতিনিধি, নওগাঁ:
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলায় খালের ওপর নির্মিত তিনটি জলকপাট (রেগুলেটর) এলাকায় অবৈধ জাল উদ্ধার অভিযানের নামে রাতের আঁধারে জেলেদের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর, আসবাবপত্র আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া ও জেলেদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে। জেলেদের অভিযোগ, অবৈধ সুতি জাল উদ্ধারের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমানের নেতৃত্ব ১৬-১৭ জন ব্যক্তি হাসুয়া ও রড নিয়ে সন্ত্রাসী কায়দায় তাঁদের বাড়িঘরে হামলা চালায়।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দুটি মাইক্রোতে করে এসে আতাইকুলা খালের ওপর নির্মিত ১ নম্বর জলকপাটের দুই ধারে বসবাসকারী জেলেদের বাড়ি বাড়ি অবৈধ জাল উদ্ধারের নামে পাউবোর লোকজন অভিযান চালায়। এ সময় দুটি মাইক্রোতে করে আসা ১৬-১৭ ব্যক্তির সবার হাতে হাসুয়া ও রড ছিল। তাঁরা অভিযানের নামে জেলেদের বাড়িতে ঢুকে মাছ ধরার জাল জব্দ করে পুড়িযে ফেলে। মাছ ধরার জাল ছাড়াও বাড়িতে ব্যবহৃত বালিশ, তোশক জব্দ করে এবং সেগুলোও পুড়িয়ে ফেলে। পরে তাঁরা শ্রীমত খালী খালের ওপর নির্মিত ২ ও ৩ নম্বর জলকপাট সংলগ্ন বসবাসকারী জেলেদের বাড়িতে অভিযান চালায়। তাঁরা হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে ও রডের বাড়ি দিয়ে দরজা ভেঙ্গে জেলেদের বাড়িতে প্রবেশ করে। এ সময় মাছ ধরার জাল উদ্ধারের পাশাপাশি বাড়ির আসবাবপত্রও ভাঙচুর করেন। এছাড়া দুটি মুঠোফোনও জব্দ করে নিয়ে যায়।
৩ নম্বর জলকপাট সংলগ্ন পাউবোর পরিত্যক্ত রেস্ট হাউজে বসবাসকারী সাদ্দাম হোসেন নামের এক যুবক বলেন, ‘গতকাল রাতে জাল উদ্ধারের নামে পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোকেরা আমার বাড়ির দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে। বাড়িতে কোনো জাল না প্যায়ে খ্যাতা, বালিশ বের করে নিয়ে সেগুলো আগুন দিয়ে পুড়ায়ে দিছে। বেশ কয়েকটা কাঁচের গ্লাস ভেঙ্গে ফেলছে। জাল উদ্ধারের নামে শিটের তৈরি বাক্স ভেঙ্গে ফেলছে। ওরা ১৬-১৭ লোক আসছিল।  সবার হাতে হাসুয়া ও রড ছিল। এদের মধ্যে শুধু একজনকে চিনতে পারিছি। তিনি হলেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক্সেন। মাথায় চুল কম। ওই লোক এর আগেও দিনের ব্যালা আসিছিল।’
৩ নম্বর জলকপাট সংলগ্ন বড় কালিকাপুর মোড়ের দোকানদার টিপু খন্দকার বলেন, ‘আমার দোকানে ধান শুকানোর জন্য একটা নেট জাল ও খাপলা বা তোড়া জাল ছিল। সেইগুলা ব্যার করে নিয়ে আগুন দিয়ে পুড়ায়ে দিছে। এছাড়া তিন বস্তা পটাটো চিপস নিয়ে গেছে। কোনো টাকা দেয়নি। ওদের সবার হাতে সন্ত্রাসীদের মতো হাসুয়া আর রড আছিল। ভয়ে কিছু কতে পারিনি। ইমরান হোসেন নামের এক ছেলে প্রতিবাদ করায় আমার সামনেই ওকে মারপিট করেছে। আর আলমগীর হোসেন নামের আরেক ছেলেকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়। অবশ্য পরে তাক নাকি ছ্যাড়ে দিছে।’
বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে বড় কালিকাপুর হঠাৎপাড়ার বাসিন্দা বিবিজান নামের এক নারী বলেন, ‘গতকাল রাতে হামরা ঘুমায়ে পড়েছিলাম। রাত ৯টা সাড়ে ৯টার দিকে হঠাৎ করে ব্যাপক শব্দে ঘুম ভ্যাঙে যায়। শুনতে পাওছি টিনের ওপর ব্যাড়ানের শব্দ হছে। দরজা খুলতে দেরি হওয়ায় হাসুয়া কোপ দিয়ে টিনের দরজা ভেঙে তিন-চারজন লোক ঘরের মধ্যে ঢুকে সুতি জাল খুঁজতে শুরু করে। বাড়ির আসবাবপত্র সব এলোমেলে করে ফেলে। কিছু বুঝে উঠার আগেই ওরা বাড়ির টিন হাসুয়া দিয়ে কোপ দিয়ে ক্যাটে ফ্যালে। গোয়াল ঘরের দরাজ ক্যাটে গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। হামার কথা হলো, অবৈধ জাল প্যালে লিয়ে য্যাক। কিন্তু এভাবে সন্ত্রাসের মতোন বাড়ির দরজা ভ্যাঙে ঢুকে ভাঙচুর করা এগুলা কি? সরকারি লোকজন কি এভাবে রাতের আঁধারত এ রকম কোনো দিন করে?’
জেলেদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নওগাঁ পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন, ‘হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ সঠিক নয়। অবৈধ জাল উদ্ধার অভিযান গিয়ে বেশ কিছু অবৈধ জাল উদ্ধার করে সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। বরং অভিযানে গেলে স্থানীয় লোকজনই কাজে বাধা দেন এবং আমাদের  ওপর হামলার চেষ্টা করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাণীনগরের মিরাট ইউনিয়নের কালিকাপুর ও আতাইকুলা এলাকায় হাসাইগাড়ী বিল, দিঘলীর বিল ও শৈলগাছী বিলের পানি নিয়ন্ত্রণের জন্য তিনটি রেগুলেটর আছে। ওইসব রেগুলেটরের আশপাশে বসবাসকারী কিছু লোক নিজেরাই জলকপাটের গেট খুলে খালের পানি ছেড়ে দিয়ে মাছ শিকার করে। তাঁরা অবৈধ সুতি জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। এসব অবৈধ কর্মকা- না করার জন্য একাধিকবার তাঁদেরকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু তারপরেও তাঁরা ইচ্ছেমতো জলকপাটের গেট খুলে অবৈধ জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে। এসবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বুধবার রাত ৯টার দিকে আতাইকুলা ও বড় কালিকাপুর এলাকায় অভিযান চালানো হয়। অভিযান গিয়ে ওই সব বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে প্রচুর অবৈধ সুতিজাল পাওয়া গেছে। এসব জাল উদ্ধার করে স্থানীয়দের সামনেই পুড়ে ফেলা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আগামীতে প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর সহায়তায় অভিযান চালানো হবে।’
এ বিষয়ে নওগাঁর জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল  বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়দের মাধ্যমে আমি জেনেছি। পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে অভিযানের বিষয়ে আমাকে কিছু জানানো হয়নি। বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হচ্ছে, নিয়ম বহির্ভূত কিছু ঘটে থাকলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com