মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

শফিকুল ও সোনা মনি চাকমা ডিপিডিসিতে গড়ে তুলেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৪, ৪.৫০ পিএম
  • ৩১১ বার পড়া হয়েছে

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের সাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর আস্থাভাজন লোক হিসেবে ছিলেন শফিকুল। পিজিসিবির একটি প্রকল্পের পরিচালক থাকাকালে শফিকুল নয়ছয় করে নিয়োগ দিয়েছেন সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর বিশ্বস্ত ঠিকাদার। তিনি দায়িত্বে থাকা প্রকল্পের নির্মান ব্যয় বাড়িয়েছেন দফায় দফায়। প্রকল্প থেকে আত্মসাৎ করেছেন শত শত কোটি টাকা। এভাবেই নয় ছয় করে গড়েছেন সম্পদের পাহাড়। এমনটাই অভিযোগ ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির বর্তমান নির্বাহী পরিচালক টেকনিক্যাল এবং রুপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পিজিসিবি’র সাবেক প্রকল্প পরিচালক কিউ এম শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

দুদুকে অভিযোগের চিঠিতে উল্ল্যেখ করা হয় শক্তিশালী সিন্ডিকেট এর সদস্যরা হলেন -কামরাঙ্গীরচর ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী এহসানুজ্জামান , মুগদা ডিভিশনের ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী মাহে আলম , মগবাজারের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী নাসির, শীতলক্ষা ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী গোলাম মোরশেদ এবং ধানমন্ডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী আ ন ম মোস্তফা কামালসহ প্রমুখ।

জানা যায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান বরাবরে হাবিবুর রহমান নামক ব্যাক্তির লিখিত ( ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ) অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রনালয়ের প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর নির্দেশনায় কিউ এম শফিকুল ইসলামকে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) পদে দুই বছরের জন্য চলতি বছরের শুরুতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়। এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার ঢাকায় বাড়ি, একাধিক ফ্লাট, ব্যাংকে বিপুল পরিমান টাকা এবং নিজ গ্রামের বাড়ি নওগাঁতে রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। ইতোমধ্যে তিনি ডিপিডিসিতে তৈরী করেছেন শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ডিপিডিসির ডিএসএস ও সিএসএস ঠিকাদার নিয়োগ, গ্রাহকের কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের নীতিমালা ভঙ্গ করে সংযোগ প্রদান, বদলী বানিজ্যসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত এই কর্মকর্তা। তার বিরুদ্ধে দুদকে একাধিক অভিযোগ থাকলেও তিনি তা ম্যানেজ করে ধামাচাপা নিয়ে দেন।
অপরদিকে দুদকে করা অপর এক অভিযোগে বলা হয়, বিশাল অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সুপারিশে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন সিনিয়র সচিব তাকে ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এখন তিনি ডিপিডিসিতে টেন্ডার বানিজ্য, বদলী, পদোন্নতি ও নিয়োগ বানিজ্য নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ডিপিডিসির নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কিউ.এম. শফিকুল ইসলাম সংস্থাটিতে যোগদানের পর থেকেই সাংবাদিক বিদ্বেষী আচরণ করছেন। এমনকি সংস্থার মধ্যে তিনি সাংবাদিক বিদ্বেষী বিষবাস্প ছড়াচ্ছেন। চলতি বছরে যোগদানকৃত এই নির্বাহী পরিচালক কতিপয় প্রকৌশলীদের সাথে এক জুম মিটিং-এ সাংবাদিকদের নিয়ে বিষোদগার করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি নির্বিঘ্নে সকল অনিয়ম দুর্নীতিকে যায়েজ করতেই নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) এমন কৌশল অবলম্বন করছেন বলে সূত্রের দাবি ।

অভিযোগ রয়েছে, ইতোমধ্যেই একাধিক সিনিয়র সংবাদকর্মী পেশার প্রয়োজনে নির্বাহী পরিচালকের (অপারেশন) দপ্তরে তার সাথে সাক্ষাতের জন্য গেলে সংবাদকর্মী শুনলেই নানাভাবে হয়রানী করা হয়েছে। এরমধ্যে কেউ কেউ আদৌ তার সাক্ষাৎই পাননি, কেউবা আবার তার ব্যক্তিগত সহকারীর প্রশ্নবানে জর্জরিত হয়ে তার সঙ্গে দেখা না করে ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছেন।

কিউ.এম. শফিকুল ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগগুলো করা হয়েছে, তা পুরোটাই বানোয়াট। সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর সাথে আমার ঘনিষ্ঠতার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া পিজিসিবি প্রকল্প পরিচালকদের ঠিকাদারদের কাজ পাইয়ে দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।

এ ব্যাপারে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ডিপিডিসির কয়েকজন প্রকৌশলী বলেন, নির্বাহী পরিচালক (টেকনিক্যাল) কিউ.এম. শফিকুল ইসলাম যদি সাংবাদিক বিদ্বেষী আচরণ বন্ধ না করেন তাহলে প্রকারন্তরে সংস্থার উন্নয়নে তিনি কতটুকু ভূমিকা রাখতে পারবেন তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে। শুরু থেকেই তিনি সাংবাদিকদের সহ্য করতে পারছেন না বলে শুনেছি। এটা মোটেই হওয়া উচিত নয়।
এ দিকে ডিপিডিসির আরেক নির্বার্হী পরিচালক (প্রশাসন) সোনা মনি চাকমার বিরুদ্ধেও রয়েছে নানান অনিয়মের অভিযোগ। এই নির্বাহী পরিচালকও গড়ে তুলেছেন একটি সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট ডিপিডিসির ৩৬টি ডিভিশনে একটি চক্র গড়ে তুলেছে। নিয়ম ভঙ্গ করে গ্রাহক কে বিদুৎ্য সংযোগ প্রদান, অবৈধ সংযোগ চালানো, মিটার টেম্পারিং ও বাইপাস করে গ্রাহককে কাছ থেকে উৎকচ আদায় করছে। এই সিন্ডিকেটের সদস্যদের দাপটে প্রতিষ্ঠানটিতে গ্রাহক সেবা বিঘ্নত হচ্ছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিভিন্ন কর্মকর্তা -কর্মচারীকে সকালে বদলির আদেশ জারী করে বিকেলে আবার টাকা পেলে সেটা স্থগিত করে দেয় এই সোনা মনি চাকমা। সেই সাথ সোনামনি চকমা অঢেল টাকার মালিক বনে গেছেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com