সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

হযরত নবী-রসুূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছুম বা নিষ্পাপ

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৬ জুলাই, ২০২৪, ৫.১৪ পিএম
  • ১৩৭ বার পড়া হয়েছে
হযরত মাওলানা মুহম্মদ আবুল বাশারঃ আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের ছহীহ আক্বীদা হলো- সকল হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম অর্থাৎ নিষ্পাপ। উনারা যাবতীয় ভুল-ত্রুটি, গুনাহ-খতা হতে সম্পূর্ণরূপে পবিত্র থেকে পবিত্রতম। সুবহানাল্লাহ! ‘হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুল-ত্রুটি, গুনাহ-খতা  করেছেন; আর পবিত্র আশূরার দিনে উনাদেরকে ক্ষমা করা হয়েছে।একথা বলা ও আক্বীদা পোষণ করা কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ।এ প্রসঙ্গে মহান আল্লাহ পাক তিনি ইরশাদ মুবারক করেন, ‘আমি (হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম) উনাদের প্রতি পবিত্র ওহী মুবারক পাঠাতাম। ’ সুবহানাল্লাহ!
নূরে মুজাসসাম হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি ইরশাদ মুবারক করেন,অর্থ: “তোমরা সম্মানিত ও পবিত্র মুহররমুল হারাম শরীফ মাস উনাকে এবং উনার মধ্যস্থিত মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান কর। যে ব্যক্তি মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা মিনাল মুহররম অর্থাৎ মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে সম্মান করবে, মহান আল্লাহ পাক তিনি তাকে জান্নাত দিয়ে এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিয়ে সম্মানিত করবেন। ” সুবহানাল্লাহ!এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা শরীফ উনার শান-মান, ফাযায়িল-ফযীলত, বুযূর্গী-সম্মান মুবারক কল্পনাতীত। এই দিন মহান আল্লাহ পাক তিনি পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন এবং এই দিনই ক্বিয়ামত সংঘটিত হবে। এই দিনই পৃথিবীতে সর্বপ্রথম বৃষ্টি বর্ষিত হয় এবং এই দিনেই সর্বপ্রথম সম্মানিত রহমত মুবারক নাযিল হন। আর এই দিন প্রত্যেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের কোনো না কোনো বিশেষ ঘটনা মুবারক সংঘটিত হয়েছেন। বিশেষ করে এই দিনই সিবতু রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি কারবালার প্রান্তরে স্বপরিবারে মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র শাহাদাতী শান মুবারক প্রকাশ করেন।কিন্তু অত্যন্ত আফসোস ও দুঃখের বিষয় হলো, এই মহাসম্মানিত ও মহাপবিত্র আশূরা শরীফ উনাকে কেন্দ্র করে মানুষ বলে থাকে, হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা ভুল করেছেন এবং গুনাহ করেছেন। না‘ঊযুবিল্লাহ! বিশেষ করে কারবালার ঘটনাকে কেন্দ্র করে জলীলুল ক্বদর ছাহাবী, কাতিবে ওহী হযরত মুআবিয়া রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু উনাকে দোষারোপ করে থাকে এবং গালমন্দও করে থাকে। না‘ঊযুবিল্লাহ! আবার কেউ কেউ ইয়াযিদ লা’নাতুল্লাহি আলাইহিকে ছাহাবী, তাবেয়ী, রদ্বিয়াল্লাহু তা‘য়ালা আনহু, রহমতুল্লাহি আলাইহি ইত্যাদি বলে থাকে। না‘উযুবিল্লাহ! এগুলো প্রত্যেকটাই কাট্টা কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ।(না‘উযুবিল্লাহ)
রহমাতুল্লিল ‘আলামীন, ছাহিবু সাইয়্যিদুল আ’ইয়াদ শরীফ, ইমামুল আইম্মাহ্, মুজাদ্দিদুয যামান, কুতুবুল আলম, মুহইউস সুন্নাহ, মাহিউল বিদয়াহ, গাউছুল আ’যম, আযীযুয যামান, ক্বইউমুয যামান, আল জাব্বারিউল আউওয়াল, আল ক্বউইউল আউওয়াল, আস সাফফাহ, হাবীবুল্লাহ, আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, মাওলানা মুজাদ্দিদে আযম মামদূহ মুর্শিদ ক্বিবলা সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কোনো কোনো জাহিল ও গুমরাহ লোকেরা পবিত্র আশূরা শরীফ উনার ফাযায়িল-ফযীলত আলোচনা করতে গিয়ে বলে থাকে যে, ‘এদিন আখিরী রসূল, নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার, হযরত আবুল বাশার ছফীউল্লাহ আলাইহিস সালাম উনার এবং হযরত দাউদ খলীফাতুল্লাহ আলাইহিস সালাম উনাদেরসহ অনেক হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের গুনাহ-খতা ক্ষমা করা হয়েছে। ” নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ! নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সম্মানিত আহলে সুন্নত ওয়াল জামায়াত উনাদের দৃষ্টিতে উপরোক্ত আক্বীদা পোষণ করা বা অনুরূপ বক্তব্য প্রদান করা কাট্টা কুফরীর অন্তর্ভুক্ত। মূলত¬ এ ব্যাপারে ছহীহ আক্বীদা হলো- ‘কোনো হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কখনো কোনো ভুল করেননি। ইচ্ছাকৃত তো নয়ই, অনিচ্ছাকৃতও নয়। ’ অর্থাৎ হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা কখনো কোনো ভুলই করেননি। সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, আক্বাইদ উনার কিতাবে বর্ণিত হয়েছে, “সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা মা’ছূম বা নিষ্পাপ। ” সুবহানাল্লাহ! আক্বাইদ উনার কিতাবে আরো উল্লেখ আছে,সকল হযরত আম্বিয়া আলাইহিমুস সালাম উনারা ছগীরা, কবীরা, কুফরী, শিরকী এমনকি অপছন্দনীয় কাজ হতেও পবিত্র। ” সুবহানাল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, সকল হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনারা হলেন মহান আল্লাহ পাক উনার খাছ ও মনোনীত বান্দা উনাদের অন্তর্ভুক্ত। আর উনারা প্রত্যেকেই পবিত্র ওহী মুবারক উনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। সুবহানাল্লাহ! পবিত্র কুরআন শরীফ উনার একাধিক স্থানে ইরশাদ মুবারক হয়েছে, “আমি উনাদের (হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের) প্রতি পবিত্র ওহী মুবারক পাঠাতাম। ” সুবহানাল্লাহ! (সূরা ইউসূফ শরীফ: আয়াত শরীফ ১০৯, সূরা নহল শরীফ: আয়াত শরীফ ৪৩, সূরা আম্বিয়া শরীফ: আয়াত শরীফ ৭) অর্থাৎ হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের যাবতীয় কার্যাবলীই পবিত্র ওহী মুবারক উনার দ্বারা (মহান আল্লাহ পাক উনার কর্তৃক) পরিচালিত হতেন। সুবহানাল্লাহ! তাহলে একথা বলা কি করে শুদ্ধ হতে পারে যে, উনারা গুনাহ-খতা বা ভুল করেছেন। নাউযুবিল্লাহ! তাহলে তো মহান আল্লাহ পাক উনাকেই দোষারোপ করা হয়। নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের গুনাহ-খতা ও ভুল সম্পর্কে যে সমস্ত লোক বলে থাকে, তারা পবিত্র আক্বাইদ সম্পর্কে নিতান্ত অজ্ঞ হওয়ার কারণে ও সঠিক ইতিহাস না জানার কারণে এবং পবিত্র কুরআন শরীফ ও পবিত্র হাদীছ শরীফ উনাদের সঠিক ব্যাখ্যা না বুঝার কারণেই হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র শান মুবারক সম্পর্কে বেয়াদবীমূলক ও কুফরী কথাবার্তা বলে থাকে। নাউযুবিল্লাহ!
আহলু বাইতি রসূলিল্লাহ ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, সাইয়্যিদুনা হযরত সুলত্বানুন নাছীর আলাইহিস সালাম তিনি বলেন, কাজেই যেকোনো লোকের জন্যই হযরত নবী ও রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের পবিত্র শান মুবারক উনার বিন্দুমাত্র খিলাফ কথাবার্তা বলা সম্পূর্ণ নাজায়িয, হারাম, কুফরী ও চির জাহান্নামী হওয়ার কারণ। এ ধরনের কুফরী আক্বীদা ও বক্তব্য থেকে বেঁচে থাকা সমস্ত মুসলমান পুরুষ ও মহিলা সকলের জন্যই ফরয। অতএব, প্রত্যেকের জন্য দায়িত্ব-কর্তব্য হলো- হযরত নবী-রসূল আলাইহিমুস সালাম উনাদের প্রতি সর্বোচ্চ হুসনে যন এবং সর্বাধিক বিশুদ্ধ আক্বীদাহ পোষণ করা।(আল ইহসান,আল বাইয়্যিনাত)

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com