সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

নিজের গোস্ত নিজেই খাওয়া এ কোন সামাজিক অবক্ষয়

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৪, ১১.৩০ পিএম
  • ১৪৭ বার পড়া হয়েছে

অ আ আবীর আকাশ

 

এমন একটি বিষয় নিয়ে লিখতে হবে কস্মিনকালেও ভাবিনি। মনের ধারে ঘূর্ণাক্ষরেও আসেনি এত খাট, নিচু ও নোংরা চিন্তা চেতনা। কিন্তু কি পরিতাপ! যা কেউ ভাবে না, মনের ধারে আনে না, তা-ই হতে চলেছে। সময়ের করুন ও নিষ্ঠুর আচরণ। পরিবারের নিকটাত্মীয়দের সাথে সম্পর্কের চেইন ভেঙে অবৈধ সম্পর্কে মেতে উঠেছে মুখোশপরা আপনজনেরা। তা-ও একেবারে যা কখনো হবার নয়, হতে পারে না, কখনোই না, তা-ই হচ্ছে। জন্মদাতা তার ওরস্যজাত মেয়ের গর্ভে সন্তান দেয়া থেকে শুরু করে জামাই শাশুড়ি, ভাই-বোন কিবা চাচা ভাতিজি, খালু ভায়রাঝি’র চিরাচরিত সম্পর্কের চেইন ভেঙে তারা অবৈধ মনোবাসনা পূর্ণ করার দুঃসাহসিক সম্পর্কে মেতে উঠেছে। যাতে বেশিরভাগই গর্ভে সন্তান পরিপক্ক হয়ে যাওয়াতে ভ্রুণ নষ্ট করতে ব্যর্থ হলে ঘটনাটি জানাজানি হয়েছে। এ জানাজানি থেকে খুব কম ঘটনাই মিডিয়ায় আসে এবং আমাদের নজরে পড়ে। এর থেকে পরিত্রাণ কি? ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কিভাবে এ নগ্ন সময় থেকে বেরিয়ে আসবে? এতে ধর্ষণের চরম মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। ধর্ষণের এ কারাগার থেকে নারীর কি নিস্তার আছে!

 

১.

সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে বাসর ঘরে নববধূর সন্তান প্রসব, এমন সংবাদ দেশ-বিদেশে খুবই ভাইরাল হয়ে পড়ে। বহুল আলোচিত সমালোচিত বাসর ঘরে নববধুর সন্তান প্রসবের ঘটনায় সাংবাদিকদের কাছে মেয়ের স্বীকারোক্তি ছিল এরকম- ‘এ সন্তানের বিষয়ে তার বাবা ভালো জানে।’ এ কথার সূত্র ধরে গণমাধ্যমকর্মীরা তাদের বাড়িতে গেলে মেয়ের বাবার নুরনবী পালিয়ে গেলেও মা নয়ন বেগম ও বোন পপি এটা স্বীকার করেছেন যে- ‘পপি অর্থাৎ ভিকটিমের বড় বোন অসুস্থ হলে তাকে নিয়ে হসপিটালে তার মা থাকার সুবাদে একলা ঘরে ছোট মেয়ে রিয়ার সাথে তার বাবা নুরনবীর সম্পর্ক তৈরি হয়। সে থেকে নুরনবী মেয়ে রিয়াকে ভোগ করে আসছে। এক পর্যায়ে লোকচক্ষুর আড়ালে রিয়ার পেটে বাবার সন্তান চলে আসে। পরে বিয়ে দিলে শশুর বাড়ীতে বাসর ঘরে নববধু রিয়া ছেলে সন্তান প্রসব করে।

শান্তা আক্তার নামের এক নারীর কাছে ত্রিশ হাজার টাকায় বাচ্চা বিক্রি করে দেওয়ার পরে বাবাই ওই ভিকটিমকে হসপিটালে ভর্তি করে এবং ট্রিটমেন্ট করায়। মেয়েটির তাৎক্ষণিক সংসার ভেঙে গেলেও এনিয়ে কারো কোনো প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়নি।

ঘটনার মূল খুঁজতে গিয়ে জানা যায়, নূরনবীর স্ত্রী নয়ন বেগম কয়েক বছর থেকে কিডনি জনিত অসুস্থতায় স্বামীর চাহিদা পূরণে ব্যর্থ। নুরনবী শুরু থেকেই নারী লোভী বখাটে হওয়ার দরুন ইতোপূর্বে ৮টি বিয়ে করেছেন এবং যথেষ্ট পীড়া সহ্য করে সবগুলো বউকে বিদায় করেছে প্রথম স্ত্রী নয়ন বেগম। এবারও নুরনবী বিয়ে করতে চাইলে নয়ন বেগম বাধা দেন ও নুরনবীকে সার্বক্ষণিক তোপের মুখে রাখেন।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন নুরনবী তার বড় মেয়ে পপির সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে তিনটি ভ্রুণ নষ্ট করেছেন। পরে তাকে বিয়ে দিয়ে ছোট মেয়ে রিয়ার দিকে চোখ দিয়েছেন। ছোট মেয়ের সাথে বাবা নুরনবীর এমন অবাধ মিলামিশা মা নয়ন বেগম দেখতেন। দেখে শুনে বুঝেও কোনো ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দেখাতেন না। বরং সমর্থন দিতেন নিজের সংসারে যেনো অন্য কোনো কাঁটার অনুপ্রবেশ না হয়।

নুরনবীর ভায়রা ঝি মিতুও তার মেয়ে রিয়ার বিছানায় থাকতেন, দিনকে দিন এ বাড়ীতে বেড়াতেন। মিতুকেও মেয়ে রিয়ার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে ঢালাও ভোগ করেছেন বলে রিয়া স্বীকার করেছেন।

রিয়ার মা নয়ন বেগম, বড় বোন পপি আক্তার, পপির স্বামী জসিম, খালা খোরশেদা বেগম এমনকি ভিকটিম রিয়াও ঘটনার লোমহর্ষক বিবরণ দিয়ে সহজে স্বীকার করেছেন। ঘটনা বলার সময় বিন্দু পরিমাণও তাদের কাউকে বিচলিত হতে দেখা যায়নি। এমন ঘটনা দেশ বিদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করলেও মনে হয়েছে ঘটনাটি তাদের কাছে জলভাতের মতেন নিত্যদিনের ঘটনা। আসলেও তাই, বড় মেয়ে পপির গর্ভ থেকে তিনটা, ছোট মেয়ের রিয়ার গর্ভ থেকে একটা সন্তান বের করলো আপন জন্মদাতা বাবা। গর্ভে সন্তান নিয়ে আগেরদিন কোর্টে বিয়ে হয় আর রাতে বাসর ঘরে ছেলে সন্তান প্রসব করে নববধূ। কি জঘন্য ও দু:সাহসিকও বটে।

নববধু কয়েক বার স্বামীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের পর টয়লেটে গেলে সেখানে বাচ্চা প্রসব করে এসে স্বামীকে বলে টয়লেটে কার বাচ্চা পড়ে আছে। পরে রাত তিনটায় বাড়ীতে হৈ ছৈ পড়ে ও নববধুর গায়ে রক্ত দেখতে পেয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়। পরদিন মিডিয়ায় চাউর হয় এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা।

এমন ঘটনা থেকে মুক্তি পেতে এলাকার নিরীহ রিকশা চালকের প্রবাসী ছেলে শামসুর বিরুদ্ধে নারী শিশু নির্যাতনের মামলা করেন নুরনবী। এতে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে বিক্ষোভ করে, তার ফাঁসি চেয়ে মিছিল করে। উত্তেজিত গ্রামবাসী তার বাড়ীর জানালার গ্লাস ভাংচুর করে।

ঘটনাটি জেলা পুলিশ সুপারকে গণমাধ্যমকর্মীরা জানালে তিনি ভিকটিমের লিখিত অভিযোগ ছাড়া কোনো ব্যবস্থা নিতে পারবেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন।

নুরনবী জমিজমা বিক্রি করে আপন মেয়ে রিয়াকে নিয়েই এলাকা ছেড়েছেন।

 

২.

ঘটনাটি অল্প  ক’বছর আগের। লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ থানার মটবিগ্রামে আপন মেয়ে শিল্পী আক্তারের স্বামীর সাথে মা মরিয়ম বেগম অবৈধ সম্পর্ক স্থাপনের সময় মেয়ে শিল্পী আক্তারের কাছেই হাতেনাতে ধরা পড়েন। মেয়ের হাতে এমন ঘটনা ধরা পড়াকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে জামাই শাশুড়ি মিলে শিল্পী আখতারকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে। পরে জামাই শাশুড়ি পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তা টের পেয়ে তাদের আটকে রেখে উত্তম মধ্যম দিয়ে থানায় ফোন করে। পুলিশ এসে লাশসহ তাদের থানায় নিয়ে যায়।

 

৩.

কাজের সুবাদে অমল যশোর গেলে সেখানে বিয়ে করেন। স্ত্রীকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরে এসে রিক্সা ভ্যান চালিয়ে জীবন যাপন করতে থাকেন। তিনটা বাচ্চা হওয়ার পর স্ত্রীর জরায়ুতে টিউমার হলে অপারেশন করতে হয়। চিকিৎসকরা বলছেন স্বামীর সাথে যৌন মিলন করা যাবে না, কোনরুপ সম্পর্ক স্থাপন করা যাবে না। এতে ভয়ানক ক্ষতি হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও।

অমল দ্বিতীয় বিয়ে করতে চাইলেও তার স্ত্রী বাধা দেয়। এই নিয়ে সংসারে অশান্তি নেমে আসে। এদিকে তার মেয়ে বড় হয়ে উঠে আস্তে আস্তে। নতুন যৌবন প্রাপ্তা মেয়ের দিকে চোখ পড়ে অমলের। উজ্জ্বল শ্যামলা মেয়েটিকে ধীরে ধীরে কব্জা করে ফেলেন অমল। অমলের স্ত্রী ঘটনাটি টের পেলেও কোনো প্রতিবাদ করেন না। বরং বাপ মেয়ের সম্পর্ক স্থাপনের সময় অমলের স্ত্রী ঘরের চারপাশ ঘুরেন যেন কোনো মানুষ টের না পায়। তথাপিও এক সময় ঘটনাটি স্থানীয়রা টের পেয়ে হাতেনাতে ধরে শালিশ বৈঠকে উভয়কে শাস্তি দেয়া হয়। এবার যেনো তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেন। এরপর আবারও শালিশে মাথা কামানোসহ নানা শাস্তি দিলেও তাদের সম্পর্কের অবনতি না হওয়ায় গ্রামবাসী এ নিয়ে ভাবা বন্ধ করে দিয়েছেন।

 

অমল মেয়েকে বিয়ে দিয়ে জামাইকে বাজারে বাসা ভাড়া করে রেখে ঋণ লয়ে অটোরিকশা কিনে দেন। জামাই অটোরিকশা নিয়ে বের হলে অমল মেয়ের সাথে মিলিত হয়।

 

৪.

কমলনগরের চর পাগলা গ্রাম। জামাই ও শাশুড়িকে গাছে বেঁধে রেখেছে উত্তেজিত জনতা। ঘটনা হচ্ছে মেয়ের বিয়ের মাসখানেক যেতেই মেয়ের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে শাশুড়ির কাছে অভিযোগ দিতে থাকেন জামাই মুরাদ। সংসার ভেঙে দেয়ারও হুমকি ধামকি দিতে থাকেন প্রতিদিন। রাত বিরাতে এমন অভিযোগ নিয়ে প্রবাসী শ্বশুরের একলা বাড়িতে আসেন মুরাদ। একপর্যায়ে নানা প্রকার ভয় ভীতি দেখিয়ে সম্পর্ক শুরু করেন। দোকানের সামনে দিয়ে প্রতি রাত দশটার দিকে মুরাদ শ্বশুরবাড়িতে যাতায়াতের ঘটনাটি এলাকাবাসী খেয়াল করে পাহারা বসায়। পরে হাতেনাতে তাদের বিবস্ত্র অবস্থায় ধরে ফেলেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের স্বীকারোক্তি ভাইরাল হয়। মেয়ের সংসার টিকলেও মায়ের সংসার ভেঙে যায়।

 

৫.

রায়পুরের চরবংশীর একটি নিভৃত গ্রাম চর কাচিয়া। পারুল বেগমের (ছদ্মনাম) স্বামী মারা যান ছয় বছর আগে। একটি মেয়ে সন্তান নিয়ে থাকেন পারুল। মেয়ে পঞ্চম শ্রেণীর গন্ডি না পেরোতেই বালুর ট্রাকের হেলপারের সাথে বিয়ে হয়ে যায়। কিছুদিন না যেতেই নতুন জামাইর সাথে শাশুড়ির সম্পর্ক স্থাপন হয়। এতে শাশুড়ি পারুল গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

ঘটনা জানাজানি হলে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ফারুক ধামাচাপা দেন। বাচ্চা অন্যত্রে বিক্রি করেন পারুল।

 

৬.

গোপীনাথপুর, দক্ষিন হামছাদীর একটি গ্রাম। প্রাণ কৃষ্ণ স্থানীয় শৈল্য চিকিৎসা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। চার বছরের কন্যা শিশু রেখে স্ত্রীর মারা গেছেন। মেয়েকে নিয়ে প্রাণ কৃষ্ণ থাকতেন, দ্বিতীয় বিয়ে করেননি। মেয়ে ধীরে ধীরে বড় হয়ে উঠলে প্রাণ কৃষ্ণের চোখ পড়ে মেয়ের দিকে। ঘুমন্ত মেয়ের শরীরে হাত দিতে দিতে এক পর্যায়ে দুঃসাহসিক হয়ে ওঠে প্রাণ কৃষ্ণ। মেয়ের সাথে দিনে রাতে সম্পর্ক স্থাপন করে চালিয়ে যাচ্ছিলেন। মেয়ে সরকারি মহিলা কলেজ অনার্স মাস্টার্স করার সময় তার সহপাঠি এক বান্ধবীর কাছে বিষয়টি শেয়ার করেন। ওই বান্ধবী তাকে আইনের আওতায় যাওয়ার পরামর্শ দেন। সে রাতে আবারও প্রাণ কৃষ্ণ সম্পর্ক স্থাপন করলে পরের দিন এসপি অফিসে মেয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। লোভী প্রাণ কৃষ্ণকে আটক করে হাজতে পাঠায় পুলিশ।

 

৭.

দালাল বাজার ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য রোজিনা বেগম (ছদ্মনাম)। তার দুই মেয়ে এক ছেলে। বড় মেয়ে দুটি সন্তান নিয়ে স্বামীর সংসার ভেঙে বাপের বাড়িতে থাকেন। ছোট মেয়ে শহরে গিয়ে বিভিন্ন নেশার সাথে জড়িয়ে পড়েন।

ছোট বোন অন্য জেলায় বিয়ে করে কয়েক বছর সংসার করার পর বড় বোন ছোট বোনের জামাইয়ের সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এখন ছোট বোনের জামাইকে নিয়ে এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন বড় বোন পপি। এখন দুই বোনের এক স্বামী।

 

৮.

শিপু ও সীমা আপন মামা ভাগ্নি। নানার বাড়ীতে থেকে সীমা লক্ষ্মীপুর সরকারি মহিলা কলজে পড়েন।  আসা যাওয়া করার এক পর্যায়ে অবিবাহিত মামা শিপু ভাগ্নির প্রতি নজর পড়ে এবং কৌশলে তাকে কব্জা করে সম্পর্ক স্থাপন করেন। মামা ভাগ্নির অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে চারটি ভ্রুণ অ্যাবরশন করেছেন ইউনিয়নের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। পরে সীমা অন্যত্রে বিয়ে করে চলে যান।

 

৯.

 

বাংলাভিশন চ্যানেলের একটি জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সেনোরা এখন আমি কি করব।’ এখানে বিভিন্ন অসঙ্গতি নিয়ে নারী কাউন্সিলররা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ২৯ বছরের দাম্পত্য জীবনের গ্লানি নিয়ে একজন নারী দীর্ঘ বুকফাটা বেদনা, দীর্ঘশ্বাস নিয়ে টেলিভিশন লাইভে ফোন করে জানিয়েছেন- ওই নারীর বাবা বাংলাদেশ সরকারের সচিব ছিলেন, মা কলেজের প্রফেসর। ফাঁদে পড়ে অশিক্ষিত গরিব ছেলেকে বিয়ে করেন। তারদের দাম্পত্য জীবনে এক মেয়ে এক ছেলে। ছেলে মেয়ে উভয়ে দার্জিলিংএ পড়েন। সপ্তম শ্রেণি পড়া অবস্থায় দেশে নিয়ে আসেন তাদের। স্বামী বখাটে ও ভীষণ নারী লোভী। বাসায় কাজের ছেলে হোক মেয়ে হোক কাউকে বাদ দেন না তার অপকর্ম থেকে। সবার সাথেই সে সম্পর্ক স্থাপন করে, এমনকি প্রতিবন্ধীরাও বাদ যায় না এর কুনজর থেকে।

মেয়েকে কৌশলে কব্জা করে ভোগ করতে থাকেন বাবা।  মা প্রতিবাদ করলে দুজনেরই রোষানলে পড়েন। সাথে যোগ হয় ছেলে। সেও বাসার কাজের মেয়েকে ভোগ করে মায়ের কাছে বলে কোন অন্যায় করেনি। দাসীদের ভোগ করা যায়। পরে তারা আপন ভাই বোনও সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। মা প্রতিবাদ করলে তাকে স্বামী ছেলে ও মেয়ে মিলে মারধর করে। মেয়ে বলে তুমি এ সংসার ছেড়ে চলে যাও। ওই মেয়ে বাবাকে স্বামী হিসেবে ভাবতে শুরু করেছে। এমনই বুকফাটা দীর্ঘশ্বাস নিয়ে ওই নারী পরামর্শ ছেয়েছেন।

 

১০.

রিয়াজ ও পাখি। আপন ভাই বোন। পাখির বিয়ে হয়েছে এলাকাতেই। পাখির শশুর বাড়ীতে রিয়াজ দেখতে এসেছে। পাখির স্বামী সুমন বিদেশ ছিলো, এখন দেশেই আছে। ঘরে পাখির শাশুড়ী তরকারি কুটছেন। দোছালা ঘরের পীছনের রুমে পাখি থাকেন। সেখানেই তারা অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে দিনের বেলায়। এসময় সুমন এসে আপন ভাই বোনকে বিবস্ত্র অবস্থায় ধরে চিৎকার দিয়ে মানুষ জড়ো করেন। পরে জানা গেলো তারা ছোট বেলা থেকেই সম্পর্কে জড়িয়েছেন। রিয়াজের স্ত্রীও এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন। বাপের বাড়ীতে পাখি এলে তারা দিনের বেলাতেই অবৈধ কাজ করতেন। ডাকদোহাই দিয়ে কোন লাভ হয়নি। আরও নিজের অশান্তি বললেন রিয়াজের স্ত্রী। ঘটনাটি সদরের কামানখোলা এলাকার।

 

সামাজিক অবক্ষয়, মাদকের বিস্তার, কর্মহীনতা, আকাশ সংস্কৃতির নেতিবাচক প্রভাব, আইনের সঠিক প্রয়োগ না থাকা, পর্ণ ছবির অবাধ বিক্রি, সর্বোপরি নারীর প্রতি পুরুষের হীন দৃষ্টিভঙ্গির কারণে দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী ও শিশু ধর্ষণের ঘটনা। ধর্ষণের সঙ্গে জড়িতরা হয়ে পড়ছে অপ্রতিরোধ্য। শিশু থেকে কিশোরী, যুবতী থেকে বৃদ্ধা, স্কুলছাত্রী থেকে পোষাককর্মী, ডাক্তার, আইনজীবী এমন কি ভিখারিনী রেহাই পাচ্ছে না মানুষরূপী এসব হায়েনাদের হিংস্র থাবা থেকে। ধর্ষকরা শুধু ধর্ষণ করেই ক্ষান্ত থাকছে না, ঘটনা ধামাচাপা দিতে কোথাও কোথাও ঘটাচ্ছে নৃশংস হত্যাকাণ্ড।

 

সম্প্রতি ধর্ষণের ভয়াবহতা ও ধর্ষণ পরবর্তী নির্যাতনের লোমহর্ষক সব ঘটনায় আতকে উঠছে দেশবাসী। ধর্ষণ রুখে দিতে প্রতিরোধের চেয়ে প্রতিকার গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য বিশেষজ্ঞদের। তাদের মতে, প্রতিটি পরিবারে যেমন কন্যা সন্তান আছে, তেমনি ধর্ষকরাও কোনো না কোনো পরিবারের সন্তান। তাই ধর্ষণের মতো সামাজিক মরণব্যাধি নির্মূলে প্রত্যেকটি পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয়ভাবে কঠোর আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। আইনের যথাযথ প্রয়োগের মধ্য দিয়ে দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করতে হবে। পাশাপাশি মিডিয়াতে এ ধরনের ঘটনা প্রচারে আরো কৌশলী হতে হবে।

 

আর সবচেয়ে বেশি আঙ্গুল ওঠে আইনের সঠিক প্রয়োগের উপর। লঘু পাপে গুরু শাস্তি আর গুরু পাপে লঘু শাস্তি দেয়ার একটা বিরুপ সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে। কিন্তু পৃথিবীর অনেক এমন দেশ আছে যারা ধর্ষণের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়, ফলে ধর্ষণ করার কথা কেউ চিন্তাও করে না।

 

চীন: সমাজতন্ত্রে বিশ্বাসী এই দেশটিতে ধর্ষণের সাজা শুধু মৃত্যুদণ্ডই। ধর্ষণ প্রমাণ হলেই আর কোনো সাজা নয়, সরাসরি মৃত্যুদণ্ড। আর তা কার্যকর করা হয় অত্যন্ত দ্রুত।

 

ইরান: হয় ফাঁসি, না হয় গুলি। এভাবেই এদেশে শাস্তি দেয়া হয় ধর্ষককে। কারণ তারা মনে করে, দোষী ধর্ষিতা নন, ধর্ষকই এই কাজে আসল দোষী।

 

আফগানিস্তান: আফগানিস্তানে ধর্ষণের হার অত্যন্ত কম। তবে, সেখানে ধর্ষণ করে কেউ ধরা পড়লে সোজা মাথায় গুলি করে মারা হয়।

 

ফ্রান্স: ইউরোপের এই দেশটিতে নির্যাতিতার শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে ধর্ষকের সাজা ঠিক করা হয়। তবে, ধরা পড়ার পর এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কমপক্ষে ১৫ বছরের কারাদণ্ড। অপরাধ গুরুতর হলে তা বেড়ে হতে পারে ৩০ বছরও।

 

উত্তর কোরিয়া: এদেশে ধর্ষণের সাজা শুধুই মৃত্যুদণ্ড। অভিযোগের পর গ্রেফতার। তারপর অভিযোগ প্রমাণ হলে গুলি করে হত্যা করা হয় ধর্ষককে।

 

সৌদি আরব: এখানেও ধর্ষণের সাজা ভয়ঙ্কর। এখানে ধর্ষককে প্রকাশ্যেই পিটিয়ে মারা হয়। আর তাই এখানেও ধর্ষণের সংখ্যা অনেকটাই কম।

 

পক্ষান্তরে বাংলাদেশের ধর্ষণের শাস্তির দিকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, ‘ধর্ষণের পর হত্যার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড’-এমন বিধান দিয়ে ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের তিনটি ধারাকে অসাংবিধানিক বলে রায় দিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। যে আইনটিকে রহিত করে ২০০০ সালে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন’ করে বাংলাদেশ সরকার। সে আইনে ধর্ষণ ও হত্যার সাজা মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবনের বিধানও রাখা হয়। তবে নতুন এ আইনের একটি ধারাকেও অসাংবিধানিক বলেছেন আপিল বিভাগ। যে ধারায় বলা হয়েছিল- ‘১৯৯৫ সালের আইনে করা মামলা সেই পুরোনো আইনেই চলবে’।

 

আপিল বিভাগের এই রায়ের ফলে ধর্ষণের পর হত্যা সংক্রান্ত পুরাতন ও নতুন সব ধরনের মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হতে পারে। যেখানে ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ ধরনের অপরাধের ক্ষেত্রে সাজা হিসেবে শুধু মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছিল।

 

ভেতরে ভেতরে ঘরে ঘরে সামাজিক যে অবক্ষয় তৈরি হচ্ছে তার কয়টি সামনে আসে? কয়টির শাস্তি হয়? ধর্ম কর্ম ভুলে যাওয়ায় প্রত্যেক ধর্মের অনুসারীদের মধ্যেই এমন সামাজিক অবক্ষয় তৈরি হয়,হচ্ছে। যদি ধর্মের অনুশাসনে থাকতো তাহলে এমন জঘন্যতম ঘটনার অবতারণা হতো না। মেয়ের পেটে আসতো না বাবার সন্তান। সমাজে ঘৃণ্য পাপাচারের ফসল হতো না। এই সামাজিক অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসার পথ কি? কি করব আমরা? এ কোন পথে অগ্রসর হচ্ছি! নিজের শরীর ছিঁড়ে গোস্ত ভক্ষণ করছি নিজেই!

 

বি:দ্র: গত কয়েক বছরের ও সাম্প্রতিক সময়ে নজরে আসা বাস্তব ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ মাত্র।

 

লেখক: অ আ আবীর আকাশ, কলামিস্ট ও সাংবাদিক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com