সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামে কবর নিয়ে চলছে বাণিজ্য

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৩ নভেম্বর, ২০২৩, ১০.৫৩ পিএম
  • ২০৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ-চট্টগ্রাম নগরীর দক্ষিণ পতেঙ্গা মহিলা কলেজ গলি এলাকায় বসবাস করে করতেন তাহিয়া হোসেন তাইফার বাবা মা।গতকাল ২০ নভেম্বর সোমবার সকালে তাহিয়া হোসেন তাইফা মৃত্যু হয়,তাইফার কবর দেওয়াকে নিয়ে বায়তুল রহমত জামে মসজিদের মোতোয়াল্লীর নিয়োগপ্রাপ্ত দুইব্যক্তি, টাকা ছাড়া কাউকে লাশ দাফন করতে দেন না। এমনকি কবরস্থানের মালিক কিংবা স্থানীয় কাউন্সিলর, কারও কথার তোয়াক্কা করেন না শামসুল আলম ও ফরিদুল ইসলাম ফ্লো।

পতেঙ্গার পাঁচ মাসের এক শিশুকে কবর দিতে মাটি বাবদ ভাড়া দিতে হবে ৫০পঞ্চাশ হাজার টাকা অভিযোগ উঠেছে এই দুইব্যক্তির বিরুদ্ধে।

এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়,অনেকে প্রকাশ করেছেন ক্ষোভ, এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে টাকা ছাড়াই ওই শিশুকে শেষপর্যন্ত কবর দিয়েছে এলাকাবাসীরা।
অভিযুক্ত দু-জন হলেন, বাইতুর রহমত জামে মসজিদের শেরে পতেঙ্গা মসজিদ দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা শামসুল আলম এবং ফরিদ প্রকাশ ফুরুক।এবিষয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুই চাঁদাবাজ।

এবিষয়ে তাহিয়া সোহেন তাইফার বাবা শাহাদাৎ হোসেন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন,গতকাল ২০ নভেম্বর সোমবার
সকালে পতেঙ্গা সিটি করপোরেশন মহিলা ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় আমার ৫ মাসের শিশু তাহিয়া হোসেন তাইফা পতেঙ্গা মসজিদ সংলগ্ন এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে গেলে মসজিদের ওয়াকফ স্টেটের মোতোয়াল্লি নিয়োগপ্রাপ্ত শামসুল আলম আমার কাছ থেকে মাটির ভাড়া বাবদ ৫০ পঞ্চাশ হাজার টাকা দাবি করেন,টাকা ছাড়া কবরস্থানে দাফন করা যাবে না বলেও তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

শিশুর চাচা মো. রাশেদ সহ স্থানীয় বাসিন্দারা সংবাদমাধ্যমকে বলেন, মৃত লোককে কবর দিতে টাকা চাওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম নয়, এলাকায় যে কেউ মারা গেলে তাদেরকে দাফন করতে শামসুল আলম ও ফরিদ প্রকাশ ফুরুককে মোটা অংকের টাকা দিতে হয়, টাকার পরিমাণ ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে।গত দেড় বছর আগেও আমার বাবা আব্দুর রহিম সাওদাগর মারা গেলে তখনও ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন শামসুল আলম ও ফরিদ প্রকাশ ফুরুক। টাকা দিতেই হবে। একপর্যায়ে ওদের সঙ্গে আমার বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়,এ ঘটনার পর তারা আমার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করার হুমকি প্রদান করেন।

এদিকে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তুলে ধরেন জোবায়ের বাসার নামে স্থানীয় এক যুবক,এরপরপরেই ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, পরে এলাকাবাসীর হস্তক্ষেপে দুপুর ৩টার সময টাকা ছাড়া ওই শিশুটির লাশ দাফন করা হয়।

এ বিষয়ে মৃত আব্দুল হকের ছেলে শামিমুল হক রায়হানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শেরে পতেঙ্গা মসজিদের পাশের কবরস্থান আমাদের পারিবারিক কবরস্থান,আমার পিতা মৃত আব্দুল হক এলাকার গরিব মানুষদের বিনা টাকায় লাশ দাফন করতে এটি উন্মুক্ত করে দিয়েছেন,কাউকে দাফন করতে হলে আগের মসজিদ কমিটি আমাদের সঙ্গে কথা বলতেন,কিন্তু এখন যারা দায়িত্বে আছেন একবারও জানানোর প্রয়োজন মনে করেন না। আমি এঅবস্থায় শামুসল আলম ও ফরিদ প্রকাশ ফুরুকের বিরুদ্ধে আইনগত ভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেরে পতেঙ্গা মসজিদ জায়গাটি একটি ওয়াকফ স্টেটের মালিকানাধীন। সেখানে মোতোয়াল্লি হিসেবে আছেন শাহাজাহান বেগম নামের এক নারী। চার বছর আগে মোতোয়াল্লির পক্ষে মসজিদটি দেখাশোনার জন্য এলাকার শামুসল আলম ও ফরিদুল আলম প্রকাশ ফুরুককে নিয়োগ দেওয়া হয়,নিয়োগের পর থেকেই এলাকার কেউ মারা গেলে মসজিদ কমিটিকে কবরস্থানের বাবদ দিতে হবে চাঁদা। অথচ এই কবরস্থান ওয়াকফ স্টেটের মালিকানাধীন নয়। এটি একই এলাকার মৃত আব্দুল হকের কেনা সম্পত্তি। এটি পারিবারিক কবরস্থান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

এব্যাপারে শামসুল আলমের কাছে জানতে চাইলে তিনি
অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, শাহাদাৎ হোসেন এরান আত্নীয় এদের কাছ থেকে কেন আমি টাকা চাইবো,শিশুটিকে দাফন করতে টাকা চাওয়া হয়নি, এটি একটি ষড়যন্ত্র বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে মসজিদের মোতোয়াল্লি শাহজাহান বেগমের ছেলে মো. ইসলাম ওরফে টিটু ও মসজিদ কমিটির সভাপতি ফরিদুল আলম প্রকাশ ফরুকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ও তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।

কবরস্থানে লাশ দাফন করতে টাকা নেওয়ার বিষয়টি ৪০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুল বারেকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে
তিনি বলেন,এটা মহল্লা ও মসজিদ কমিটির কাজ আপনি ওনাদের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করুন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com