সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

১০০ বছর আগে আর এক মহামারির শিকার হয়েছিল বিশ্ব

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ৩ এপ্রিল, ২০২০, ৪.০৪ পিএম
  • ৯০৬ বার পড়া হয়েছে

যে দ্রুত গতিতে কোভিড-১৯ এগিয়ে চলেছে, তা দেখে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার। বুধবার তা নিয়ে বিশ্বকে ফের একবার সচেতন করলেন হু-র ডিরেক্টর জেনারেল। পাশাপাশি এই যুদ্ধে লড়ার জন্য এবং প্রতিটি মানুষের যাতে খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত হয়, সে ব্যাপারে সমস্ত দেশকে সামাজিক কল্যাণমূলক কাজ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এবং এই সময়ে যাতে উন্নয়নশীল দেশগুলি আর্থিক সঙ্কট কাটিয়ে উঠতে পারে, তার জন্য ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটিগুলির কাছে তাদের ঋণ মকুবের আহ্বান জানিয়েছেন।

কেন এতটা চিন্তিত হু-র ডিরেক্টর জেনারেল টেড্রোস আডহ্যানম গেব্রিয়েসাস?সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কোভিড ১৯-কে মহামারির ঘোষণার পর চার মাস হয়ে গেল। বিশ্বব্যাপী এই রোগ নিয়ন্ত্রণে আসার কোনও নাম নিচ্ছে না, উল্টে হুড়মুড়িয়ে বাড়ছে সংক্রমণের সংখ্যা, মৃতের সংখ্যা। গত এক সপ্তাহে মৃতের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। আর কিছু দিনের মধ্যেই ১০ লক্ষ ছুঁয়ে ফেলবে সংক্রমণের সংখ্যা,

গত ডিসেম্বরে চিন থেকে সারা বিশ্বে ছড়াতে শুরু করে এই সংক্রমণ। চিনের পর ইতালি, স্পেন এবং আমেরিকায় এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি তাণ্ডব চালাচ্ছে কোভিড-১৯। ভারতেও রোজ লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা।

এই অবস্থায় লকডাউনই একমাত্র উপায় এই রোগের সঙ্গে লড়ার জন্য। এমতাবস্থায় সবচেয়ে বিপদে পড়ছেন দিনমজুররা। অনেক দেশও চরম আর্থিক সঙ্কটের মধ্যে রয়েছে। যাতে সেই সমস্ত দেশের গরিব মানুষের দৈনিক ন্যূনতম খাদ্যের জোগানটুকু হয়, সেই চিন্তা মাথায় রেখি ওই সমস্ত দেশকে এবং তার নাগরিকদের আর্থিক সঙ্কটের থেকে বাঁচাতে ঋণ মকুবের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

flu
আজ থেকে ঠিক ১০২ বছর আগের কথা। সারা বিশ্ব জুড়ে ঠিক এরকমই একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। প্রতিদিন বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উঠে আসছিল একটার পর একটা মৃত্যুর খবর।

flu
কাট টু ২০২০। ঠিক যেমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আজ আমরা। আমেরিকা, ইটালি, ফ্রান্স থেকে শুরু করে, ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ- সারা বিশ্ব জুড়েই যেন সেই মৃত্যুরই হাহাকার।
flu
২০২০-র এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করোনাভাইরাস। আর ১০২ বছর আগের ওই পরিস্থিতির জন্য দায়ী ছিল স্প্যানিস ফ্লু।
flu
১৯১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ১৯২০-র ডিসেম্বর পর্যন্ত, বছর দুয়েকের সেই অতিমারির দাপটে সংক্রমিত হয়েছিলেন বিশ্বের প্রায় ৫০ কোটি মানুষ।
flu
তাতে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৫ কোটি মানুষের। এখনও পর্যন্ত বিশ্বের ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে ভয়াবহ অতিমারী।
flu
স্প্যানিস ফ্লু নামকরণ হলেও এই রোগের প্রাদুর্ভাব কিন্তু স্পেনে ঘটেনি। প্রথম ঘটেছিল আমেরিকায়। তারপর তা জার্মানি, ব্রিটেন, ফ্রান্স, স্পেন হয়ে ক্রমে সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছিল।
flu
তবে স্পেনে সে সময় সংবাদমাধ্যম অত্যন্ত সক্রিয় ছিল। এবং স্পেনে ঘটা এই মহামারীর খবর সংবাদপত্রে ছাপা শুরু হয়। স্পেন থেকেই প্রথম এই রোগের কথা সারা বিশ্ব জানতে পেরেছিল বলে, রোগের নামকরণ করা হয় স্প্যানিশ ফ্লু।
flu
পরে অবশ্য জানা গিয়েছিল, স্পেনে সংক্রমণ ছড়িয়েছিল আমেরিকা থেকেই। কতটা ভয়াবহ ছিল এই সংক্রমণ?
flu
বিশ্বব্যাপী সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হিসাব থেকেই তা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। তবে অন্যান্য ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাসের থেকে এই রোগের অনেকটা তারতম্য ছিল।
flu
সাধারণত ইনফ্লুয়েঞ্জা ভাইরাস কম বয়সি এবং বয়স্কদের উপরই বেশি প্রভাব ফেলতে সক্ষম। করোনাভাইরাসও যেমন চিকিত্সকদের মতে এই দুই বয়সি মানুষের শরীরেই বেশি ক্ষতি করতে পারে।
flu
এর কারণ রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতার তারতম্য। শিশুদের এবং বয়স্কদের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অনেকটাই কম থাকে। সে কারণে এঁদেরই মৃত্যুর হার বেশি হয়।
flu
কিন্তু স্প্যানিশ ফ্লু ছিল কিছুটা আলাদা। এই রোগে আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল যুবক-যুবতীদের। ২০ থেকে ৪০ বছর যুবক-যুবতীরাই বেশি আক্রান্ত হয়েছিলেন তাঁদের মৃত্যুর হারও ছিল অনেক বেশি।
flu
এই রোগে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন, সেটা বোঝার আগেই তাঁর মৃত্যু হত, এতটাই ভয়াবহ ছিল এই সংক্রমণ। বিষয়টা অনেকটা এরকম ছিল, কোনও ব্যক্তি হয়তো ঘুম থেকে উঠে নিজেকে বেশ দুর্বল মনে হচ্ছিল।
flu
তিনি প্রাত্যহিক সব কাজ গুছিয়ে অফিসে বার হলেন। কিছু ক্ষণ পরই তাঁর জ্বর এল এবং শ্বাসকষ্ট শুরু হল। সঙ্গে বমি এবং নাক দিয়ে রক্তপাত। এরপর আর চিকিত্সার খুব বেশি সুযোগ পেতেন না তিনি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com