সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় মোখায় মৃতের সংখ্যা ১৪৫ জন

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৯ মে, ২০২৩, ৭.৩০ পিএম
  • ১৯০ বার পড়া হয়েছে

মিয়ানমারে আঘাত হানা শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে সরকারিভাবে মৃতের সংখ্যা বেড়ে কমপক্ষে ১৪৫ জনে পৌঁছেছে, যার মধ্যে ১১৭ জন মুসলিম রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু সদস্য। শুক্রবার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন এ তথ্য জানিয়েছে।

টেলিভিশনের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যে মৃতের এই তথ্য পাওয়া গেছে। ঘূর্ণিঝড় মোখায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাখাইন। তবে দেশের অন্যান্য অংশে ঝড়ের কারণে কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা জানা যায়নি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যোগাযোগের অসুবিধা এবং স্বাধীন তথ্যপ্রবাহের ওপর সামরিক সরকারের কঠোর নিয়ন্ত্রণের কারণে ঘূর্ণিঝড়ে হতাহতের হিসাব ধীরগতিতে হচ্ছে।

সামরিক সরকার জানায়, অনানুষ্ঠানিকভাবে মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়ানোর তথ্যটি মিথ্যা।

তবে স্বাধীনভাবে নিশ্চিতকরণের অভাবে হতাহতের এবং ধ্বংসের প্রকৃত পরিমাণ সম্পর্কে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।

দুর্বল হওয়ার আগে মোখা প্রতি ঘন্টায় ২০৯ কিলোমিটার (১৩০ মাইল) বেগে রবিবার বিকালে রাখাইন রাজ্যের সিটাওয়ে শহরের কাছের স্থলভাগে আঘাত হানে।

এই ঘূর্ণিঝড়টি অন্তত এক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক দুর্যোগ। এর ফলে আকস্মিক প্রবল বন্যা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট, প্রবল বাতাসে ভবনের ছাদ ভেড়ে পড়া এবং সেলফোন টাওয়ারগুলো ভেঙে পড়ার মতো ঘটনা ঘটেছে।

বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক সমন্বয়ের কার্যালয় (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ‘ধ্বংসাবশেষ সড়ানো এবং ঘূর্ণিঝড়ে বাস্তুচ্যূতদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য এখন ব্যাপক প্রচেষ্টা চলছে।’

তারা আরও জানিয়েছে, ‘রাখাইন উপকূলে ঘূর্ণিঝড় সবচেয়ে বেশি আঘাত হেনেছে এবং উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল জুড়ে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এবং কাচিনেও (রাজ্য) কিছু ক্ষয়ক্ষতিরও খবর পাওয়া গেছে।’

এমআরটিভি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের শুক্রবারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাখাইনে ১১৭ জন রোহিঙ্গা ছাড়াও চার সেনা এবং ২৪ জন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হয়েছেন। ঝড় আঘাত হানার আগে কর্তৃপক্ষের সতর্কতা সত্ত্বেও তারা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে অস্বীকার করাকে তাদের মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে।

এমআরটিভি জানিয়েছে, কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া সিটাওয়েসহ ১৭টি টাউনশিপের ১৭টি ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া এক লাখ ২৫ হাজার ৭৮৯ রোহিঙ্গার মধ্যে ৬৩ হাজার ৩০২ জনকে সরিয়ে নিয়েছে।

এর প্রতিবেদনে রোহিঙ্গাদের ‘বাঙালি’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং সরকারিভাবে সংখ্যালঘু এই গোষ্ঠীর সদস্যদের অবৈধ অভিবাসী হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

রোহিঙ্গারা প্রজন্ম ধরে মিয়ানমারে বসবাস করে আসছে, তবে তারা মিয়ানমারে সরকারিভাবে সংখ্যালঘু হিসেবে স্বীকৃত নয় এবং নাগরিকত্ব ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার থেকে তারা বঞ্চিত।

ঝড়ের কবলে পড়া রোহিঙ্গারা বেশিরভাগই জনাকীর্ণ বাস্তুচ্যুত শিবিরে বসবাস করত। মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর নেতৃত্বে ২০১৭ সালের একটি নৃশংস ‘বিদ্রোহী বিরোধী অভিযানে’ তাদের বাড়িঘর হারানোর পরে তারা ওই স্থানে স্থানান্তরিত হয়েছিল। রবিবার ঝড়ের তাণ্ডবে নিচু জমিতে তাদের অস্থায়ী বাসস্থানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

২০১৭ সালে এখানকার সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা প্রতিবেশি বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে পালিয়ে এসেছিল। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শিবিরগুলো ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ হলেও কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

ওসিএইচএ-এর প্রতিবেদনে ঝড়ের জন্য মৃতের সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি, তবে বলা হয়েছে যে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিসহ হতাহত এবং নিখোঁজ ব্যক্তিদের এখনও তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে।

ক্যাম্পে রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের জন্য হেডওয়ে শিক্ষা কেন্দ্রের শিক্ষক থেইন শোয়ে শুক্রবার বলেছেন, ৩২ শিশু এবং ৪৬ জন নারীসহ ১৫টি ক্যাম্প ও গ্রামের অন্তত ১১৬ জনের লাশ দাফন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, কেউ কেউ ঝড়ের আগে নিজ বাড়ি থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, এ তথ্য সঠিক।

যদিও কর্তৃপক্ষ কিছু খাদ্য ও বাসস্থান সহায়তা দিয়েছে, তকে আরও অনেক সহায়তা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বেসরকারি দাতাদের কাছ থেকে এখনও সাহায্য আসেনি।

থেইন শোয়ে বলেছেন, ‘কর্তৃপক্ষ যদি শিগগিরই আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে প্রবেশের অনুমোদন দেয়, তাহলে এখানকার রোহিঙ্গারা দ্রুত সাহায্য পাবে। যদি প্রবেশের অনুমোদন সীমিত হয়, তাহলে এখানকার মানুষদের আরও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’

ওসিএইচএ বলেছে, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানি নিশ্চিত করার জন্য জ্বালানির সরবরাহ জরুরি।

সংস্থাটি আরও জানায়, কয়েক দশকের গৃহযুদ্ধের ফলে মিয়ানমারে ‘বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ একটি উদ্বেগের বিষয়। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে-আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা, চিকিৎসা সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা পরিষেবা। এছাড়া প্লাবিত এলাকায় জলবাহিত রোগের বিস্তার এবং ল্যান্ডমাইন চলাচলের বিষয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।’

তারা আরও বলে, ‘ক্ষতিগ্রস্ত জনসংখ্যার জন্য নিরবচ্ছিন্ন মানবিক সহায়তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

রাখাইন রাজ্যের মুখপাত্র এবং অ্যাটর্নি-জেনারেল হ্লা থেইন বৃহস্পতিবার বলেছেন, স্থানীয় বা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সাহায্য পাঠানোর ওপর কোনও বিধিনিষেধ নেই।

তবে এতথ্যের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

২০০৮ সালে মিয়ানমারে আঘাত হানান ঘূর্ণিঝড় নার্গিস ইরাবতি নদীর ব-দ্বীপের আশেপাশের জনবহুল এলাকাগুলোকে বিধ্বস্ত করে। সেসময় কমপক্ষে এক লাখ ৩৮ হাজার মানুষ মারা যায় এবং কয়েক হাজার বাড়ি এবং অন্যান্য ভবন বিধ্বস্ত হয়।

২০২১ সালে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করা সামরিক সরকারের ত্রাণ প্রদান কর্মসূচির ব্যাপক কভারেজ করেছে স্টার মিডিয়া।

ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বেশ কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে রবিবারের ঘূর্ণিঝড় থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য আর্থিক বা বস্তুগত সহায়তা ঘোষণা করেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর বলেছেন, ত্রাণ সামগ্রী বহনকারী তিনটি ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ বৃহস্পতিবার মিয়ানমারের বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুনে পৌঁছেছে এবং শুক্রবার একটি চতুর্থ জাহাজ পৌঁছানোর কথা ছিল। ইয়াঙ্গুন ঘূর্ণিঝড়-বিধ্বস্ত এলাকার দক্ষিণ-পূর্বে এবং এখানে একটি প্রধান আন্তর্জাতিক বন্দর রয়েছে।

জয়শঙ্কর টুইটারে পোস্ট করা এক বার্তায় বলেছেন, ‘জাহাজগুলোতে জরুরি খাদ্য সামগ্রী, তাঁবু, প্রয়োজনীয় ওষুধ, পানির পাম্প, বহনযোগ্য জেনারেটর, জামাকাপড়, স্যানিটারি ও স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী রয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com