সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বাল্য বিয়ে হয় : ইউনিসেফ

  • আপডেট সময় বুধবার, ৩ মে, ২০২৩, ৯.৩২ পিএম
  • ১৮৩ বার পড়া হয়েছে

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বাল্য বিয়ে হয়। দেশটিতে ৫১ শতাংশ নারীর বিয়ে হয়েছিল তাদের শৈশবে। ২০১৯ সালের মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের ডেটা ব্যবহার বুধবার এ তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।

এতে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের প্রবণতা সবচেয়ে বেশি, এবং বিশ্বে এর অবস্থান অষ্টম। বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৪৫ লাখ নারীর বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর হওয়ার আগে আর ১ কোটি ৩ লাখের বেশি নারীর বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর হওয়ার আগে।

বাংলাদেশে বাল্য বিয়ে বাড়ার কারণ হিসেবে করোনা ভাইরাসের কারণে লকডাউনকে দায়ী করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের পরেই আছে নেপাল- ৩৩ শতাংশ, আফগানিস্তান ও ভুটান ২৮ শতাংশ করে, ভারতে ২৩, পাকিস্তানে ১৮, শ্রীলঙ্কা ১০ এবং মালদ্বীপ ২ শতাংশ।

২০১৯ সালের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভের তথ্য ব্যবহার করে তৈরি করা প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৫১ শতাংশ তরুণীর বিয়ে হয়েছিল তাদের শৈশবে। দেশটিতে শিশুবিয়ের প্রচলন দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এবং বিশ্বের মধ্যে অষ্টম সর্বোচ্চ। বাংলাদেশে ৩ কোটি ৪৫ লাখ নারীর বিয়ে হয়েছে তাদের বয়স ১৮ বছর হওয়ার আগে এবং ১ কোটি ৩০ লাখ নারীর বিয়ে হয়েছে তাদের বয়স ১৫ বছর হওয়ার আগে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট জানান, শিশুদের বিয়ে দেওয়া উচিত নয়। অগ্রগতি সত্ত্বেও বাংলাদেশে শিশুবধূর সংখ্যা বিস্ময়কর। লাখ লাখ মেয়ের শৈশব কেড়ে নেওয়া হচ্ছে এবং তাদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। মেয়েরা যাতে স্কুলে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতে এবং তারা যাতে পরিপূর্ণভাবে নিজের মাঝে থাকা সম্ভাবনা অনুযায়ী বেড়ে উঠতে পারে সে সুযোগ দিতে আমাদের জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ দরকার।

যেসব মেয়ের শৈশবে বিয়ে হয়ে যায় তাদের তাৎক্ষণিক এবং জীবনভর এর পরিণতি ভোগ করতে হয়। তাদের স্কুলে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভাবনা খুবই কম থাকে এবং তারা অল্প বয়সে গর্ভধারণের বাড়তি ঝুঁকির সম্মুখীন হয়, ফলস্বরূপ যা শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্যের জটিলতা ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ায়। শিশুবিয়ের এই প্রচলন মেয়েদের পরিবার ও বন্ধুবান্ধব থেকেও বিচ্ছিন্ন করতে পারে এবং তাদের নিজেদের কমিউনিটিতে অংশগ্রহণ থেকে বঞ্চিত রাখতে পারে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক কল্যাণের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।

বিশ্বজুড়ে সংঘাত, জলবায়ু-সম্পর্কিত বিপর্যয় এবং কোভিড-১৯-এর চলমান প্রভাবসমূহ, বিশেষ করে ক্রমবর্ধমান দারিদ্র্য, আয়-রোজগারে ধাক্কা এবং স্কুল থেকে ঝরে পড়ার ঘটনা শিশুবিয়ের চালিকাশক্তিগুলোকে বৃদ্ধি করতে সাহায্য করছে। একইসঙ্গে মেয়েদের জন্য স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, সামাজিক সেবা ও কমিউনিটির সমর্থন পাওয়াকে কঠিন করে তুলছে, যা তাদের শিশুবিয়ে থেকে রক্ষা করে।

ফলস্বরূপ ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে বসবাস করা মেয়েদের শিশু বিয়ে হওয়ার ঝুঁকি বৈশ্বিক গড়ের প্রায় দ্বিগুণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংঘাতজনিত মৃত্যুর প্রতি দশগুণ বৃদ্ধির জন্য শিশুবিয়ের হার ৭ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। একই সময়ে, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত চরম আবহাওয়াজনিত ঘটনাগুলো মেয়েদের ঝুঁকি বাড়ায় এবং বৃষ্টিপাতের ক্ষেত্রে প্রতি ১০ শতাংশ বিচ্যুতি শিশুবিয়ের প্রকোপ প্রায় ১ শতাংশ বৃদ্ধির সঙ্গে সম্পর্কিত।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com