সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু মিত্র ছাড়া কেউ-ই নির্বাচনে ইভিএম চায়নি : গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

  • আপডেট সময় শনিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭.১৬ পিএম
  • ১৮৯ বার পড়া হয়েছে

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় কোন দেশের সহযোগিতা ছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

তিনি আরও বলেন, শুধু আওয়ামী লীগ ও তাদের কিছু মিত্র ছাড়া কেউ-ই নির্বাচনে ইভিএম চায়নি, কিন্তু নির্বাচন কমিশন হঠাৎ করেই ইভিএমে নির্বাচন করার ঘোষণা দিয়েছে।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী চার দিনের ভারত সফর থেকে তেমন কিছুই নিয়ে আসতে পারেননি বলেও মন্তব্য করেছেন সংসদের বিরোধীদলীয় এই উপনেতা।

সম্প্রতি ভারতে চার দিনের সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি নিয়ে সমালোচনামুখর বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

নির্বাচনের আগে বন্ধুদেশ ভারতের সহযোগিতা চায় ক্ষমতাসীন সরকার। এবারের সফরেও সেই সমালোচনা করছে রাজনৈতিক নেতারা।

শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে এক মতবিনিময়সভায় সরকারের নিজস্ব বিরোধীদল খ্যাত জাতীয় পার্টিও ভারত সফর নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানায়।

বিরোধী দলীয় উপনেতা জি এম কাদের ভারতকে ইঙ্গিত করে বলেন, আগামী নির্বাচনে বড় দেশের সহযোগিতা ছাড়া বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসতে পারবে না।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের যে তথ্য আমরা পেয়েছি তাতে বিশেষ কিছু নেই। এই সফরের ফলাফল যেটুকু প্রকাশ হয়েছে তা গতানুগতিক।

সরকারের জনসমর্থন না থাকায় নির্বাচন কমিশন (ইসি) যেনতেন নির্বাচন করতে মাতামাতি করছে করছে বলে অভিযোগও করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ নির্বাচনে ইভিএম চায় না। আর এসব কারণেই দেশের মানুষ নির্বাচনের ওপর আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।

তিনি আরও বলেন, প্রশাসনের সব স্তরে দলীয় লোক নিয়োগ করা হয়েছে। আবার ভোটের সময় পোলিং বুথে আওয়ামী লীগ কর্মী থাকে, তারা ইভিএমে ভোটারদের ভোট দিয়ে দেন।

জি এম কাদের বলেন, নির্বাচন কমিশন আগে থেকেই দায় এড়াতে বিভিন্ন ধরনের কথা বলছে। কখনো বলছে রাজনৈতিক দলগুলো সহায়তা না করলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না।

আবার কখনো বলছে, কাউকে নির্বাচনে আনা নির্বাচন কমিশনের কাজ না। তাদের বুঝতে হবে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আস্থা নেই বলেই রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যেতে চাচ্ছে না।

জাতীয় পার্টির পলাশ উপজেলার নেতাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় দলটির চেয়ারম্যান বলেন, দেশের কোথাও জবাবদিহিতা নেই, তাই দুর্নীতিতে দেশ ভেসে যাচ্ছে।

যখন মেগা প্রকল্প শুরু হয়েছে, তখন শুধু এক বছরেই সুইস ব্যাংকেই জমা পড়েছে চার লাখ কোটি টাকা। প্রতিটি প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ছে পাশাপাশি ব্যয়ও বাড়ছে।

অন্যান্য ব্যাংকে কত টাকা পাচার হয়েছে তা কেউ জানে না। দেশের মানুষ জানতে চায় পানামা পেপারস ও প্যারাডাইস পেপারসে দুর্নীতির যে তথ্য ফাঁস হলো, তা তদন্ত হলো না কেন?

তিনি আরও বলেন, একটি সরকার বারবার ক্ষমতাসীন হওয়ার মানে দেশের স্থিতিশীলতা নয়। দেশের স্থিতিশীলতা থাকলে ক্ষমতায় কে এলো আর কে গেলো তাতে কোনো সমস্যা হয় না।

দেশে আসলে স্থিতিশীলতা নেই, কেউ ক্ষমতা ছাড়লে চরম বিশৃঙ্খলা  সৃষ্টি হবে। কারণ, এখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে সবাই শত্রু মনে করে। এমনটি হওয়া উচিত নয়।

আমরা চাই সহনশীল পরিবেশে সবাই যার যার রাজনীতি করবেন, কেউ কাউকে শত্রু ভাববেন না। আমরা কোনো ব্যক্তি নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন চাই- বলেন জি এম কাদের।

দুঃখ প্রকাশ করে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, যারা বিদেশে গিয়ে রক্ত পানি করে টাকা পাঠিয়ে দেশের রির্জাভ সচল রাখছে তাদের স্বার্থ কেউ দেখছে না।

মালয়েশিয়া যেতে যেখানে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা নেয়ার কথা সেখানে একজন শ্রমিক পাঠাতে চার লাখ পর্যন্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে শ্রমিকদের কাছ থেকে।

জি এম কাদের বলেন, বাজেটে ৮০ হাজার কোটি টাকা শুধু ঋণ পরিশোধের জন্য রাখা হয়েছিল। আগামীতে সুদের সঙ্গে আসল পরিশোধ করতে হবে, তখন অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা আসতে পারে।

তিনি বলেন, ট্যাক্স আদায়ে গেলো বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি। এবার যদি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ট্যাক্স আদায় না হয় তবে ঋণ করে দেশের পরিচালন ব্যয় চালাতে হবে।

জি এম কাদের বলেন, অর্থনৈতিক সংকটের কারণে এলএনজি আমদানি করতে পারছে না সরকার কিন্তু আরও দুটি এলএনজি স্টেশন স্থাপন করতে চাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, বিনা টেন্ডারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য অসংখ্য পাওয়ারপ্লান্ট তৈরি করা হয়েছে কিন্তু উৎপাদন নেই। সেগুলোকে প্রতি মাসে বসিয়ে বসিয়ে ক্যাপাসিটি চার্জ দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, বারবার বলা হয়েছে শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। তাহলে এখন লোডশেডিং কেন? কেন এখন বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হবে?

জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের আরো বলেন, দেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকটের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। দেশে চলছে শাসক ও প্রশাসক দিয়ে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com