পদ্মা সেতুর টোলের পরিমাণ নিয়ে নানা রকম মতামত দিচ্ছেন প্রতিনিয়ত পদ্মা পাড়ি দেওয়া মানুষেরা। কেউ কেউ টোল হার কমাতে বললেও আবার কেউ বলছেন, পদ্মা পাড়ি দিতে যে সুবিধা পাওয়া যাবে সেই হিসেবে এই টোল সহনীয়।
দেশের বেশিরভাগ যানবাহনে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন বা আরএফআইডি কার্ড না থাকায় পদ্মা সেতুতে স্বয়ংক্রিয় টোল ব্যবস্থা চালু হচ্ছে না। ফলে সনাতন টোল ব্যবস্থা দিয়েই শুরু হল পদ্মা সেতুর যাত্রা। তবে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে কার্ডের মাধ্যমেও টোল পরিশোধের ব্যবস্থা রয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী টোলের পরিমাণ
মোটরসাইকেলে ১০০ টাকা, কার বা জিপে ৭৫০ টাকা, পিকআপ ভ্যানে ১ হাজার ২০০ টাকা, মাইক্রোবাসে ১ হাজার ৩০০ টাকা, ছোট বাসে (৩১ আসন বা এর কম) ১ হাজার ৪০০ টাকা, মাঝারি বাসে (৩২ আসন বা এর বেশি) ২ হাজার টাকা, বড় বাসে (৩ এক্সেল) ২ হাজার ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া, ছোট ট্রাকে (৫ টন পর্যন্ত) ১ হাজার ৬০০ টাকা, মাঝারি ট্রাকে (৫ টনের বেশি থেকে ৮ টন) ২ হাজার ১০০ টাকা, মাঝারি ট্রাক (৮ টনের বেশি থেকে ১১ টন পর্যন্ত) ২ হাজার ৮০০ টাকা, ট্রাক (৩ এক্সেল পর্যন্ত) ৫ হাজার ৫০০ টাকা, ট্রেইলার (৪ এক্সেল পর্যন্ত) ৬ হাজার টাকা ও ট্রেইলার (৪ এক্সেলের বেশি) ৬ হাজারের সঙ্গে প্রতি এক্সেলে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে যোগ করে টোল দিতে হবে।
এর আগে ফেরিতে টোল ছিল, মোটরসাইকেলে ৭০ টাকা, কার বা জিপে ৫০০ টাকা, পিকআপ ভ্যানে ৮০০ টাকা, মাইক্রোবাসে ৮৬০ টাকা, ছোট বাসে ৯৫০ টাকা, মাঝারি বাসে এক হাজার ৩৫০ টাকা, বড় বাসে এক হাজার ৫৮০ টাকা, ৫ টন পর্যন্ত ট্রাকে এক হাজার ৮০ টাকা, ৫ থেকে ৮ টন পর্যন্ত ট্রাকে এক হাজার ৪০০ টাকা, ৮ থেকে ১১ টন পর্যন্ত ট্রাকে এক হাজার ৮৫০ টাকা ও ৩ এক্সেলের ট্রাকে ৩ হাজার ৯৪০ টাকা।
সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোরিয়ান একটি কোম্পানিকে ৫ বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে সরকার। প্রতিষ্ঠানটি আগামী পাঁচ বছরের জন্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মহাসড়ক’ এর রক্ষণাবেক্ষণ, টোল আদায় ও অন্যান্য পরিচালন কাজে যুক্ত থাকবে।