সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

ধানক্ষেতে ব্লাষ্ট রোগের সংক্রমণ `কৃষকদের মাথায় হাত।

  • আপডেট সময় বুধবার, ১১ মে, ২০২২, ৬.২৬ এএম
  • ১৭২ বার পড়া হয়েছে

দিলীপ কুমার দাস,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  ময়মনসিংহ সদরের চর ঈশ্বরদিয়া গ্রামের বর্গা চাষি হারেজ আলী (৭৫) চলতি মৌসুমে ৪০ শতক জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান চাষ করেন। কিন্তু একটি ধানও ঘরে তুলতে পারেননি। পরে ক্ষেতের খড় ঘরে এনেছেন গরুকে খাওয়ানোর জন্য। এখন ঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে, আর জমির মালিকের বর্গা চাষ বাবদ আট মণ ধান কীভাবে দেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। হারেজ আলী বলেন, ‘বোরো আবাদে ধানের ফলন ভালো হয়ে উঠছিল। এর মধ্যে গাছ থেকে শীষ বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জমিতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়। এতে আক্রান্ত হয়ে গাছসহ ধান কালচে রঙ ধারণ করে মরতে শুরু করে। ধান পাক ধরার আগেই পুরো ক্ষেত ব্লাস্ট রোগে পচে নষ্ট হয়ে রোদে শুকিয়ে খড়ে পরিণত হয়েছে।’ শুধু হারেজ আলি না, একই অবস্থা ব্রি-২৮ ও ২৯ জাতের বোরো ধান আবাদ করা অধিকাংশ চাষির। বেশিরভাগ চাষির ক্ষেতেই ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগ হানা দিয়েছে। পচে চিটা হওয়া ধান ঘরে তুলতে পারেননি অনেক চাষি।

একই এলাকার চাষি নজরুল ইসলাম জানান, তিনি চলতি মৌসুমে এক একর জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। ভেবেছিলেন, এই জমি থেকে ৮০ মণের বেশি ধান পাবেন। কিন্তু ব্লাস্ট রোগে ক্ষেত থেকে মাত্র ৩০ মণ ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। এই ক্ষতি কীভাবে পুষিয়ে নেবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি। চর হরিপুর এলাকার চাষি কলিম উদ্দিন বলেন, ‘গাছ থেকে শীষ বের হওয়ার পরই ব্লাস্ট রোগে আক্রান্ত হয়। এ সময় পরামর্শের জন্য কৃষি বিভাগের কোনও কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে মাঠে পাওয়া যায়নি। কৃষি কর্মকর্তারা এখন আর মাঠে তেমন একটা আসেন না।’ শম্ভুগঞ্জ চায়নামোড়ের কৃষক আবু সাঈদ জানান, কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের গাফিলতির কারণেই এবার কৃষকরা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে তাদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হলে কিছুটা রক্ষা পাবেন।

কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি বোরো মৌসুমে ময়মনসিংহ জেলায় দুই লাখ ৬২ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১১ লাখ চার হাজার ৮৯৫ মেট্রিক টন। জেলা কৃষি অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. মতিউজ্জামান দৈনিক সবুজ প্রতিনিধিকে জানান, জেলার ১৩ উপজেলায় ৫৫ হেক্টর জমিতে ছত্রাকজনিত ব্লাস্ট রোগের আক্রমণে ধানের ক্ষতি হয়েছে। তবে অন্যান্য ধানের ফলন ভালো হওয়ায় এই ক্ষতি অনেকটাই পুষিয়ে যাবে। লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তেমন একটা সমস্যা হবে না।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com