সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

টাংগাইলে স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২২ মার্চ, ২০২২, ২.৪৭ পিএম
  • ১৭৬ বার পড়া হয়েছে

দিলীপ কুমার দাস,নিজস্ব প্রতিবেদকঃ  টাঙ্গাইলে শব্দদূষণের মাত্রা দিন দিন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে। কোনো কোনো জায়গায় দূষণের মাত্রা ছেড়েছে দেড় গুণের বেশি। শব্দের স্বাভাবিক মাত্রা গড়ে ৬০ ডেসিবেল হলেও শহরের অনেক জায়গায় ১০৩, যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যণ। তবে দূষণ কমাতে তেমন কোনো উদ্যোগ নেই পরিবেশ অধিদপ্তরসহ কোনো মহলের। টাঙ্গাইল শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় শব্দদূষণের মাত্রা পরীক্ষা করে দেখেছেন মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় চন্দ্র ও নাজিয়া নওশিন নামের দুই শিক্ষার্থী ও গবেষক। তাঁদের পরিমাপে ৭০ থেকে ১০৩ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দ পাওয়া গেছে। যেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে শব্দের মাত্রা ৬০ ডেসিবেলের বেশি হলেই তা দূষণ। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এভাবে চলতে থাকলে শ্রবণশক্তি কমার পাশাপাশি উচ্চ রক্তচাপ, অনিদ্রাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়বে।

এ বিষয়ে দুই গবেষক বলেন, বেবিস্ট্যান্ড, নিরালা মোড় ও নতুন বাসটার্মিনাল এলাকায় গড়ে পাওয়া গেছে ৭৫ ডেসিবেল। আর কোনো কোনো জায়গায় সর্বোচ্চ পাওয়া গেছে ১০৩ ডেসিবেল। বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের মো. মবিনুর রহমান, সায়মন সাদিক ও আশফাকুজ্জামান নামের তিন শিক্ষার্থী বলেন, রাস্তা দিয়ে চলাচল করা গাড়ির উচ্চ শব্দ ও হর্নের কারণে তাঁদের লেখাপড়ার ব্যাঘাত ঘটে। অনেক সময় শিক্ষক কী বলেন তা শোনা যায় না। শব্দদূষণ প্রসঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর এ এস এম সাইফুল্লাহ বলেন, ‘শব্দদূষণের কারণে আমাদের মনোজাগতিক পরিবর্তন হয়। মেজাজটা খিটমিটে হয়ে যায়। এতে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। সব যানবাহনেই এখন উচ্চমাত্রার হর্ন ব্যবহার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।’

টাঙ্গাইলের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের নাক, কান ও গলা বিভাগের বিশেষজ্ঞ এস সি পণ্ডিত বলেন, শব্দদূষণের কারণে মানুষের শ্রবণশক্তি অনেক কমে যাচ্ছে। যে সমস্যাটা ৬০-৭০ বছরে হওয়ার কথা, তা এখন ৩৫ বছরেই হয়ে যাচ্ছে। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক জমির উদ্দিন বলেন, ‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা ২০০৬ অনুযায়ী শব্দের মানদণ্ড বেঁধে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আমাদের অনেক জায়গাতেই শব্দের মাত্রা এর চেয়ে অনেক বেশি। আমরা শব্দদূষণ কমাতে নানাভাবে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে।’ সবাই সচেতন হলেই দূষণ কমবে বলে জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাসিক সমন্বয় সভা ও মাসিক আরডিসি সভায় আলোচনা করা হয়েছে। জেলায় শব্দদূষণ কমানোর জন্য বিআরটিএ, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় শব্দদূষণ কমানো সম্ভব।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com