সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ক্ষতিগ্রস্ত হিন্দুদের পুনর্বাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের আস্থা বৃদ্ধির জন্য সরকার এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী এখন পর্যন্ত হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগে ২০,৬১৯ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ১০২ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এদের মধ্যে ৫৮৩ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সরকার ও দলের পক্ষ থেকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার গুলোকে নগদ সহায়তা, খাদ্য, কাপড়, অন্যান্য নিত্য পণ্য এবং গৃহ নির্মান সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার ঘোষণা দিয়েছেন যে, সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ঘর তৈরি করে দেয়া হবে। গণভবনে তাঁর সরকারি বাসভবনে এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, বাংলাদেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করেছে।
সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং নিরাপত্ত নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশজুড়ে আইন প্রয়োগকারি সংস্থার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা তাদের সহায়তা করছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, ৩৭টি জেলা ও তিনটি মহানগরীতে মোট ১১৭ প্লাটুন আধা-সামরিক বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে, পুলিশ র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটলিয়ন (র্যাব) এবং সাদা পোশাকে আইন-শৃংঙ্খলা বাহিনী চব্বিশ ঘন্টা টহল দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন দলের দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া বলেছেন, আওয়ামী লীগ তাদের দেশব্যাপী ইউনিটগুলোকে সতর্ক থাকতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যে কোন সাম্প্রদায়িক বিশৃঙ্খলা রোধ করতে সহায়তার নির্দেশ দিয়েছে। দলটি ইতোমধ্যেই জঘন্য সহিংসতার প্রতিবাদে মঙ্গলবার দেশব্যাপী সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমাবেশ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের প্রেক্ষিতে গত কয়েকদিনে বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা, সংসদ সদস্য এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারি বাহিনীর কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ এবং কাউকে তা নস্যাৎ করতে দেওয়া হবে না।’
পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, স্যোশাল মিডিয়া এবং অনলাইন মিডিয়াগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, এবং বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপকসহ দুই ডজনেরও বেশী লোককে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয় ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভা, জেলা পরিষদ এবং সিটি কর্পোরেশনসহ সকল জনপ্রধিনিধিদের সতর্ক থাকতে এবং নিজ নিজ এলাকায় শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে যথাযথ ভূমিকা পালনের জন্য নির্দেশনা জারি করেছে এবং এ লক্ষ্যে মন্ত্রনালয় রোববার ভার্চুয়াল বৈঠক করবে।