সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

ইশকুল গেলে খামু কি? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললেও শিক্ষার্থীরা পরিবার সহায়ক হয়ে রাস্তায়!

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ৭.৩৯ পিএম
  • ২৩৩ বার পড়া হয়েছে
অ আ আবীর আকাশ, লক্ষ্মীপুরঃ রাজু ও রাসেল। আপন দুই ভাই। স্টেশনে ফেরি করে পান সিগারেট বিক্রি করে। রাজুর বয়স দশ বছর আর রাসেলের বারো বছর। তাদের বাবা শাহজাহান দিনমজুর। দুই ভাই তিন বোন। বাবা কোনো কোনো দিন শ্রমিক খাটেন, আবার কোনো কোনো দিন বেকার।
এতে সাত সদস্যের সংসার চলতে হিমশিম খাচ্ছে। রাজু ও রাসেল লক্ষ্মীপুর জেলার টুমচর এলাকার বাসিন্দা। করোনা দুঃসময়ে চারদিকে কাম-কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়াতে শাহজাহান কঠিন খাদ্য সংকটে পড়েন। প্রাথমিকে পড়ুয়া ছেলেদের ধার করে টাকা নিয়ে পান সিগারেট বিক্রি করতে নামিয়ে দিয়েছেন বাবা। সকাল সাতটার দিকে বেরিয়ে রাত নয়টা দশটার দিকে ঘরে ফেরে তারা।
লক্ষ্মীপুর সদরের ব্যস্ততম উত্তর স্টেশন, কোর্ট চত্বর, ঝুমুর এলাকা, কখনো আবার দক্ষিণ স্টেশনে পান সিগারেট বিক্রি করছে রাজু ও রাসেল। সারাদিন বেচা বিক্রি করলে ১শ টাকা থেকে দেড়শ টাকা লাভ হয়। দিন শেষে ঘরে ফিরে বাবার কাছে হিসেব জমা দেয়। মঙ্গলবার দুপুরের পর শহরের উত্তর স্টেশন নুরজাহান হোটেলের সামনে রাস্তার উপর দেখা হয় রাজু ও রাসেলের ।
তাদের সাথে কথা হয় এই প্রতিবেদকের- -তোমাদের নাম কি?
-অ্যাঁর নাম রাসেল আর ওর নাম রাজু।
-তোমার বয়স কতো?
-অ্যাঁর বয়স ১২ বছর আর রাজু’র ১০ বছর।
-তোমরা কি পড়ালেখা করো? -হ, অন তো ইশকুল বন্ধ। -কোন ক্লাসে পড়ো? -অ্যাঁই ক্লাস ফোরে, রাজু টুতে হড়ে।
-স্কুল খুলছে তো? -জানি না। ইশকুলে গেলে কে খাওয়াইবো! -কেনো, তোমরা উপবৃত্তির টাকা পাও না? -হাই, এগুন দি কি খানা অয়নি! কথাগুলো বলার সময় এই ছোট্ট কচি মুখগুলোতে চরম উৎকণ্ঠা ও উদ্বেগ লক্ষ করা গেছে।
যেন তারা রাস্তায় না বেরুলে খাবার জুটবে না। শূন্য হাতে, অভ্যুক্ত থাকতে হবে এই ছোট ছোট মুখগুলো।
অভাব আর দারিদ্র্যতার সাথে যাদের নিত্য লড়াই তাদের পড়ালেখার মতো বিলাসিতা করার সময় কই। অসহায় মা সন্তানের পথ চেয়ে বসে থাকে। অসংখ্য গাড়িঘোড়ার ভেতর, বিপদ আপদের মাঝে নাবালক দুইটি নাড়িছেঁড়া ধন ক্ষুদার তাড়নায় খাদ্যের সন্ধানে সকালে বেরিয়ে রাতে ফেরা, মায়ের কাছে কঠিন এক বাস্তবতা। যে বয়সে এ ছোট সোনামুখেরা থাকবে পড়ালেখা নিয়ে ব্যস্ত সে বয়সে তারা পরিবারের সহায়ক হয়ে রাস্তায় নেমেছে।
কঠিন লড়াইয়ে নেমে নিজেদের সুন্দর ভবিষ্যৎ বিনির্মানের পথ রুদ্ধ করে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘ দেড় বছর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার পর সব উদ্বেগ উৎকণ্ঠা শেষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও এরকম হাজার হাজার শিক্ষার্থী এখনো রাস্তায়, পথে ঘাটে দোকান পাটে, মাঠে ময়দানে বিভিন্ন কাম-কাজ নিয়ে বিদ্যালয় থেকে দূরে রয়েছে। তাদের কে ফেরাবে? তবে কি তাদের সুন্দর জীবন গঠনে এতো এতো মানবিক মানুষের মাঝে কেউ তাদের পাশে দাঁড়াবে ছাতা হয়ে!

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com