সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

দেশে সবচেয়ে বেশি আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে ঝিনাইদহে

  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ১২.৫৩ পিএম
  • ২৪১ বার পড়া হয়েছে

সরকারি তথ্য অনুযায়ী ঝিনাইদহে প্রতি বছর গড়ে চার শতাধিক আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। আত্মহত্যাকারীদের বেশির ভাগই কম বয়সী তরুণ, তরুণী এবং নারী। ২০ থেকে ৪০ বছর বয়সীদের মাঝে এই প্রবণতা বেশি। ঝিনাইদহের পর এবার আরেকটি জেলা জয়পুরহাটেও আত্মহত্যার পরিমাণ বেড়েছে।

দেশে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীদের সংখ্যাও এই দুই জেলার বেড়েছে। করোনাকালে আত্মহত্যা চেষ্টাকারীদের সংখ্যা শুধু দুই জেলা নয়, অন্য শহরগুলোতেও বেড়েছে। নারীর তুলনায় পুরুষের আত্মহত্যার সংখ্যা এখন বেশি। বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন এর বড় কারণ হতে পারে দারিদ্র এবং বেকারত্ব।

২০২০ সালে ঝিনাইদহে আত্মহত্যাকারীদের ৪৭ শতাংশই পুরুষ। ২০২০ সালে ৩২০ জন আত্মহত্যা করেন। পুরুষ আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা ১৫১, নারী ১৬৯ জন। আগের বছরগুলোর তুলনায় যার গড় সংখ্যা বেশি। গড় পুরুষ আত্মহত্যাকারীর সংখ্যা এই জেলাতে ছিল ৩৬ থেকে ৪৪ শতাংশের মধ্যে। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ঝিনাইদহে ৩১৫২ জন মানুষ আত্মহত্যা করেছে। একই সময়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে ২২ হাজার ৬৭ জন। গত দুই বছরেও ঝিনাইদহে আত্মহত্যার পরিমাণ কমেনি। সোসাইটি ফর ভলান্টারি অ্যাকটিভিটিজ সোভা নামের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আত্মহত্যা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে। তারা ঝিনাইদহকে আত্মহত্যার দিক থেকে লাল তালিকাতে রেখেছে। একই তালিকায় এসেছে জয়পুরহাটের নাম। করোনাকালে এই জেলাতে আত্মহত্যা বেড়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী জয়পুরহাটে গত ৮ মাসে ৭১ জন আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৯ সালে পুরো বছরে ছিল ৭৭ জন। আত্মহত্যার চেষ্টাকারীদের সংখ্যা জয়পুরহাটেও বেড়েছে।

বিশ্বের অন্য দেশের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে আজ আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস পালনকালে এসব তথ্য বেরিয়ে আসে। এবার আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল, ‘কর্মের মাধ্যমে আশা তৈরি করো’। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী আত্মহত্যার প্রবণতার ক্ষেত্রে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান দশম। দেশে প্রতি বছর ১৩ হাজারেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করে।বছর অনুযায়ী হিসাব করে দেখা গেছে আত্মহত্যার হার বাড়ছে। বয়স হিসাবে দেখা গেছে, ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সীরা বেশি আত্মহত্যা করে।সাম্প্রতিক সময়ে শিশুদের মাঝেও আত্মহত্যার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জয়পুরহাটে বেশ কিছু শিশুর আত্মহত্যার ঘটনা উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

দেশে কেন এত আত্মহত্যা? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জিনাত হুদা বলেছেন, সামাজিক বৈষম্য, অস্থিরতা, পারিবারিক নির্যাতন, কলহ, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, মাদক, দরিদ্রতা, বেকারত্ব, প্রেমে ব্যর্থতাসহ বিভিন্ন কারণেই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। একই ধরনের অভিমত রেখে অন্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবারের প্রতি সবাইকে আরও যত্নশীল হতে হবে। সন্তানের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। মাদক অনেক বেশি ক্ষতি করছে তরুণদের। সেদিকে কঠোর দৃষ্টি রাখতে হবে। কর্মহারা মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com