আগামী ১ জুলাই থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর বা টিআইএন লাগবে না। এখন এক লাখ টাকার বেশি সঞ্চয়পত্রে লাগছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নতুন নিয়মে সঞ্চয়পত্রের বিক্রি বাড়বে। নিম্নআয়ের মানুষও কিছুটা স্বস্তি পাবে। তবে বড় অংকের সুদের চাপে পড়তে পারে সরকার।
নিশ্চিত এবং সর্বোচ্চ মুনাফা। তাই মধ্যবিত্তের সবচেয়ে নিরাপদ বিনিয়োগ গন্তব্য সঞ্চয়পত্র। তবে সাধারণ মানুষের জন্য এটি লাভজনক বিনিয়োগ হলেও সরকারের জন্য তা উচ্চসুদের ঋণ।
তাই সঞ্চয়পত্র বিক্রিতে লাগাম টানতে নানা উদ্যোগ নেয় সরকার। কিন্তু বিক্রির চাপ কমেনি। চলতি অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেয়ার লক্ষ্যমাত্রা সরকারের। যদিও অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসেই বিক্রি ছাড়িয়েছে ৩৪ হাজার ৭২৮ কোটি। প্রস্তাবিত বাজেটে সঞ্চয়পত্র বিক্রির নীতিমালায় কিছুটা ছাড় দিয়েছে সরকার। ২০২১-২২ অর্থবছরে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত সঞ্চয়পত্র কিনতে টিআইএন লাগবে না।
পাঁচ বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্র শুধুমাত্র সঞ্চয় অধিদপ্তর থেকেই কিনতে হবে। একব্যক্তি সর্বোচ্চ ৫০ লাখ এবং যৌথভাবে ১ কোটি টাকার সঞ্চয়পত্র কিনতে পারবেন। তবে গ্রাহক পেনশনভোগী হলে এককভাবে ১ কোটি এবং যৌথভাবে দেড় কোটি টাকা পর্যন্ত কেনার সুযোগ রয়েছে।
ড. আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, সরকার যদি বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্যাংকিং খাত থেকে ধার করতো, তাহলে হয়তো তারা ৪ শতাংশ বা সাড়ে ৪ শতাংশে টাকা নিতে পারতো। কিন্তু সরকার তিনগুণ বেশি রেটে সঞ্চয়পত্র থেকে নিচ্ছে। ফলে বাজেটে সুদের পরিমাণটা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাচ্ছে। ৭০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে এবং আগামী আরও উলম্ফন ঘটবে।
আমরা আশা করছি, সরকার যেন এটাকে সমন্বয় করে।
সরকার যেটা করতে পারে সেটি হচ্ছে, কয়েকটি ভাগে বা কয়েকটি স্তরে যদি সঞ্চয়পত্রগুলোকে ভাগ করা হয় এবং ভিন্ন ভিন্ন স্তরের জন্য বা ভিন্ন ভিন্ন ভাগের জন্য ভিন্ন ভিন্ন সুদ এবং ভিন্ন ভিন্ন নিয়ম কাঠামো প্রচলিত করা।২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের ১১ দশমিক ৪ শতাংশই ব্যয় হবে সুদ পরিশোধে। যার একটা বড় অংশ যাবে সঞ্চয়পত্রে।