বাংলাদেশি পাসপোর্ট থেকে ‘এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ তুলে দেওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ফিলিস্তিনের রাষ্ট্রদূত ইউসুফ এস ওয়াই রামাদান। সেইসঙ্গে পাসপোর্ট আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বিষয়টি নিয়ে গতকাল সোমবার (২৪ মে) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাম্বাসেডর অ্যাট লার্জ এম জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন রাষ্ট্রদূত। পরে এ নিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেন ইউসুফ রামাদান।
আজ মঙ্গলবার (২৫ মে) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে এক অনুষ্ঠান শেষে এ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, কোন দেশের রাষ্ট্রদূত কী বলল, তা আমার কাছে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক।
আমরা সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের বৈদেশিক নীতি বজায় রাখছি, উল্লেখ করে আব্দুল মোমেন বলেন, আমরা কী করব না করব, তা আমরাই সিদ্ধান্ত নেব।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ইসরায়েলের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নীতিগত কোনো পরিবর্তন আসেনি। ঢাকার পররাষ্ট্রনীতি আগের মতোই আছে, তেল আবিবকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
বাংলাদেশের পাসপোর্টে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল, ‘দিস পাসপোর্ট ইজ ভ্যালিড ফর অল কান্ট্রিজ অব দ্য ওয়ার্ল্ড এক্সসেপ্ট ইসরায়েল’ অর্থাৎ এই পাসপোর্ট বিশ্বের যেকোনো দেশের জন্য কার্যকর থাকবে, শুধু ইসরায়েল ছাড়া। সেখান থেকে ‘একসেপ্ট ইসরায়েল’ শব্দদ্বয় তুলে নেওয়া হয়েছে মাস ছয়েক আগে। তবে এ ব্যাপারে কিছুই জানায়নি সরকার। সংশোধন করে বাংলাদেশ সরকার নতুন যে পাসপোর্ট ইস্যু করেছে তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল।
গত রোববার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ-মহাপরিচালক গিলাড কোহেন টুইট করেন, ‘অনেক বড় খবর! ইসরায়েলের ওপর থেকে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। এটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ এবং আমি বাংলাদেশ সরকারের প্রতি সামনে অগ্রসর হওয়ার ও ইসরায়েলেরে মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানাবো, যাতে আমাদের উভয় দেশের জনগণ লাভবান ও সমৃদ্ধ হতে পারে।