সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

আজ থেকে দুই মাস ইলিশ ধরা বন্ধ!

  • আপডেট সময় সোমবার, ১ মার্চ, ২০২১, ৭.২৭ পিএম
  • ২৯৯ বার পড়া হয়েছে

অ আ আবীর আকাশ,লক্ষ্মীপুরঃ  জাতীয় মাছ ইলিশ রক্ষা করতে সরকার ২০০৬ সাল থেকে প্রতিবছর মার্চ-এপ্রিল দুমাস দেশের চারটি নদী অঞ্চলকে অভয়াশ্রম ঘোষণা করে আসছে। লক্ষ্মীপুর-চাঁদপুর-শরীয়তপুর পদ্মা নদীর প্রায় দেড়শ কিলোমিটার নদী এলাকাকে পঞ্চম অভয়আশ্রম হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ইলিশ মাছের পোনা জাটকা রক্ষায় সরকার মার্চ-এপ্রিল দুমাস অভয়াশ্রম ঘোষণা করে পদ্মা মেঘনা নদীতে সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ করেছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে জেলেরা ইতোমধ্যে তাদের নৌকাগুলো ডাঙ্গায় তুলে ফেলেছে। আজ লক্ষীপুরের মেঘনা বেষ্টিত প্রায় দশ কিলোমিটার এলাকা ঘুরে সরেজমিনে দেখা গেছে- নদী তীরবর্তী বিভিন্ন স্থানে জেলেরা তাদের ব্যবহৃত নৌকাগুলো রাখার ব্যবস্থা করেছে। দুমাস পর্যন্ত নৌকাগুলো সেখানে বাধা থাকবে। তবে মাছ ধরা না ধরা নিয়ে হতাশাগ্রস্থ জেলে পরিবারগুলো। জাটকা সংরক্ষণে আজ ১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের ছয়টি জেলার পাঁচটি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সবধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকবে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়েছে। ইলিশ সম্পদের উন্নয়নে জাটকা সংরক্ষণের জন্য ০১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত দুই মাস দেশের ৬টি জেলার ৫টি ইলিশ অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।

এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় বরিশাল, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, ভোলা, শরীয়তপুর ও পটুয়াখালী জেলার ইলিশ অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট নদ-নদীতে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে।

পাঁচটি অভয়াশ্রম এলাকা হচ্ছে চাঁদপুর জেলার ষাটনল হতে লক্ষ্মীপুর জেলার চর আলেকজান্ডার পর্যন্ত মেঘনা নদীর নিম্ন অববাহিকার ১০০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার মদনপুর/চর ইলিশা হতে চর পিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর শাহবাজপুর শাখা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা, ভোলা জেলার ভেদুরিয়া হতে পটুয়াখালী জেলার চর রুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা, শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জ উপজেলা এবং চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার মধ্যে অবস্থিত পদ্মা নদীর ২০ কিলোমিটার এলাকা এবং বরিশাল জেলার হিজলা, মেহেন্দীগঞ্জ ও বরিশাল সদর উপজেলার কালাবদর, গজারিয়া ও মেঘনা নদীর প্রায় ৮২ কিলোমিটার এলাকা। প্রতিবছর মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস উল্লিখিত অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরণের মাছ আহরণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

এসময় ইলিশের অভয়াশ্রমসমূহে ইলিশসহ সকল প্রকার মাছ ধরা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আইন অমান্যকারী কমপক্ষে ১ বছর থেকে সর্বোচ্চ ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড অথবা পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা অথবা উভয়দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

নিষিদ্ধ সময়ে অভয়াশ্রম সংশ্লিষ্ট ৬টি জেলার জাটকা আহরণে বিরত থাকা ২ লক্ষ ৪৩ হাজার ৭৭৮জন জেলেদের জন্য মাসে ৪০ কেজি করে দুই মাসে ৮০ কেজি হারে মোট ১৯ হাজার ৫০২ মেট্টিক টন ভিজিএফ চাল ইতোমধ্যে বরাদ্দ করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। জেলে কার্ড পাওয়া কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানায়- ‘প্রত্যেক বছর দুই মাস গাঙ্গে অভিযান চলে।এই দুই মাস আমাগো নৌকাগুলো উপরে তুইলা রাখা লাগে। সরকার আমাগোরে ৪০ কেজি কইরা চাউল দেয়, পরে এই ৪০ কেজি চাউল বাড়িতে আইনা মাপ দিলে কয়েক কেজি কম হয়।

সরকার আমাগো কথা ভাবে না। এরা কি জানেনা যে চাউল খাইয়াই কি মানুষ বাঁচতে পারে? ৪০ কেজি চাউল দিয়ে একটি পরিবার কোনোমতেই চলতে পারেনা। কয়েকজন জেলে জানান সরকার তাদের ভালোর জন্যই দুই মাস নদীতে জাল ফেলার উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। কিন্তু এর বিনিময়ে সরকার তাদের যে সহযোগিতা দিয়ে থাকে তাতে পরিবারের সদস্যদের দিয়ে চলতে মারাত্মক হিমশিম খেতে হয়।

এই দু মাস যদি বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হতো তবে তার মতো দরিদ্র জেলেরা বউ বাচ্চা নিয়ে বেঁচে থাকা সহজ হতো। এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন জেলে জানান সরকার প্রকৃত জেলেদের জন্য জেলে কার্ডের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেখানে স্থানীয় জেলেরা স্বজনপ্রীতি করেছে।

তারা এমন লোককে ভিজিএফ কার্ড দিয়েছে যে, যাদের বংশে কেউ এ কাজের সাথে সম্পর্ক নেই।’ এছাড়া তারা আরও অভিযোগ করে বলেন-‘সরকারের পাশাপাশি ছাগল পালনের সুবিধা দিয়ে থাকেন কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব সুবিধাগুলো প্রকৃত জেলেরা পায় না।’ ভবিষ্যতে এসব বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষকে ভালো করে খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com