সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

ঢাকার ৩টি হাসপাতালে র‌্যাবের অভিযান: ৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২০, ৫.৫৫ পিএম
  • ২৭৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকার তিনটি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে ছয়জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে র‌্যাবের ভ্রাম্যমান আদালত।

মোহাম্মদপুর ও শ্যামলী এলাকার আল-মদিনা, ক্রিসেন্ট এবং নুরজাহান নামের তিনটি হাসপাতালে বুধবার দিবাগত রাতে এসব অভিযান চালানো হয়।

অভিযান চলাকালে স্বাস্থ্য অধিদফতরের সহায়তায় এতে নেতৃত্ব দেন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ কুমার বসু।

পরে পলাশ সাংবাকিদের বলেন, গোয়েন্দা তথ্য উপাত্ত এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, অভিযানে দেখা যায় যারা এসব হাসপাতাল পরিচালনা করছে তাদের কেউ একেবারেই অশিক্ষিত আবার কেউ টেনে টুনে টেন পাস করলেও পারে এইচএসসি পাস করতে পারেনি। তবুও তারা হাসপাতালে বাসিয়ে রোগী দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিতো। আবার কেউ কেউ প্রাথমিকের গন্ডিই পেরোতে পারেনি। তবুও তারাই করছে অপারেশন।

ফলে যারা প্রতারিত হয়ে তাদের কাছে আসছে তারা শেষ পর্যন্ত অঙ্গহানির শিকার হয়ে পঙ্গুত্ব বরং করছে,’ বলেন তিনি।

পলাশ জানান, মোহাম্মদপুর ও শ্যামলীতে অবস্থিত হাসপাতালগুলোতে দালাল সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে থেকে রোগী ভাগিয়ে নিয়ে এসে কম খরচে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার আশ্বাস দেয় দালালরা।

রোগী আনার জন্য দালালরা বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে সরকারি হাসপাতাল সম্পর্কে ভুল তথ্য দেওয়া। বিশেষ করে অপারেশনের সিরিয়াল পেতে দেরি হবে। ততদিনে রোগী বাঁচবে না ইত্যাদি। ফলে রোগীর স্বজনরাও ত্বরিৎ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তাদের খপ্পরে পড়ে যায়।

ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বলেন, ক্রিসেন্ট হাসপাতালের পরিচালক হাজী মোহাম্মদ আবুল হোসেন। বয়স ৫০ এর কোঠায়। তার দাবি, তিনি পড়াশুনা করেছেন এইচএসসি পর্যন্ত। পাসের সার্টিফিকেট দেখাতে পারেন নি। কিন্তু এই আবুল-ই একাধারে হাসপাতালটির পরিচালক ও রোগীদের ভাঙ্গা হাত-পায়ের এক্সেরে দেখে অপারেশনের সিদ্ধান্ত নিজেই দেন।

এছাড়াও ক্রিসেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের মেয়াদোত্তীর্ণ হয়েছে আরও চার মাস আগে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড ও হাসপাতালটিকে সতর্ক করা হয়েছে।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে সাধারণ মানুষ আসে চিকিৎসা নিতে। যারা বেশিরভাগই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। তারাই বেশি এই সব দালাল চক্রের খপ্পরে পড়েন।’

তিনি আরও বলেন, অভিযানের শুরুতেই মক্কা-মদিনা হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে পরিচালক নূর নবীর কোনো ধরনের চিকিৎসা প্রদানের সনদ বা অনুমোদন নেই। তিনি তার রুমে বসে রোগী দেখছে এবং তাদের ব্যবস্থা পত্র দিচ্ছে। হাত ভাঙ্গাসহ বিভিন্ন গুরুতর আহত যে রোগীরা আসছেন তাদেরকে অপারেশন করার জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিচ্ছেন। যা তিনি কোনোভাবেই দিতে পারেন না।

এ অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাসপাতালটির পরিচালক নূর নবীকে এক বছরের কারাদন্ডসহ আনোয়ার হোসেন কালু ও তার সহযোগী আব্দুর রশিদকে ৬ মাস করে সাজা প্রদান করা হয়েছে। সেই সঙ্গে মক্কা-মদিনা হাসপাতালটি সিলগালা করে দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, একই অপরাধে নুরজাহান হাসপাতালের মালিক বাবুল হোসেনকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং ওয়ার্ড বয় জাহাঙ্গীরকে দুই বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।পরে এ হাসপাতালটিও সিলগালা করে দেয়া হয়।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com