সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

বিনোদন জগতে অশনিকাল কাদের দোষে ?

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ৪.০০ পিএম
  • ৫১৮ বার পড়া হয়েছে

সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী:  সঙ্গীত, চলচ্চিত্র এবং নাটক সেক্টরে কর্মরত হাজার-হাজার মানুষের ত্রাহি দশা। অনেকের জীবনে ক্রমাগত অভাব আর নানামাত্রিক কষ্টের ধারাবাহিক ছোবল।

বাংলা সঙ্গীত এবং চলচ্চিত্রের এখন কঠিন সময়। ক্রমশ যেনো আশার আলোটুকু নিভে যাচ্ছে। এমনটা হলে কর্মহীন হয়ে পড়বেন ওই মানুষগুলো-নিদারুণ কষ্টে পড়বে তাঁদের পরিবার-পরিজন। এসব নিয়ে যদি ভাববার কথা, সেই নেতারা ব্যস্ত আছেন নিজেদের আখের গোছানো নিয়ে।

চলচ্চিত্র সেক্টরের নেতারা ছুটছেন অনুদানের ছবি বাগিয়ে নেয়া কিংবা শহুরে এক খন্ড সরকারী জমি নিজের নামে পাওয়ার ধান্দায়। সম্প্রতি সরকার চলচ্চিত্র সেক্টরের উন্নয়ণর জন্যে সাতশ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। সরকার চাইছে সারা দেশে অন্তত একশ সিনেপ্লেক্স হোক। কিন্তু বাস্তবে সেটা হবে কিনা এ নিয়ে এরই মাঝে অনেকের মনেই সংশয়। কারণ, চলচ্চিত্রের নেতা-নেত্রীরা তৎপর হয়ে উঠেছেন বরাদ্দের এই অর্থ হাতিয়ে নিতে।

অনেকেই সিনেপ্লেক্সের নামে টাকা নিয়ে বহুতল বাণিজ্যিক ভবন নির্মাণেরও স্বপ্ন দেখছেন। এসব খবর আমি জানি। দীর্ঘ তিন যুগের বেশী সময় ধরে সাংবাদিকতা করি বলেই জানি। সংবাদপত্র সেক্টরে যারা নেতার আসনে আছেন, তাদের অনেকেই সাংবাদিক ও সংবাদপত্রের কল্যাণের জন্যে নিজেদের অবস্থান থেকে অনেক কিছু করেছেন এবং করছেন।

একারণেই সংবাদপত্র আজ শিল্প হিসেবে স্বীকৃত এবং ঢাকা শহরেই সাংবাদিকদের একাধিক আবাসিক এলাকা আছে। ওয়েজ বোর্ডের বদৌলতে সাংবাদিকদের আর্থিক অবস্থারও অনেক উন্নতি হয়েছে গত দুই দশকে। কিন্তু সঙ্গীত, চলচ্চিত্র কিংবা নাটক সেক্টরে যারা কর্মরত, ওনাদের কষ্টের মাত্রা ক্রমশই বাড়ছে। অনেকেই অভাবে দিন কাটাচ্ছেন।

কেউ কেউ অনাহারেও থাকেন, পরিবার নিয়ে। এমন পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের উপায় কেউ খুঁজছেন বলে আমার অন্তত জানা নেই। বিনোদন সেক্টরের সাথে আমার সম্পর্ক সেই ১৯৯৭ সাল থেকে, যখন দেশের প্রথম বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল এ২১ প্রতিষ্ঠা করি।

এরপর ১৯৯৯ সালে চ্যানেলটি বন্ধ হয়ে গেলে বেশ অনেকগুলো বছর আমি বিনোদন জগতের বাইরে ছিলাম। এরপর ২০০৬ সালে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ক্রাউন মিউজিক-এর যাত্রা শুরু হলে আবারও বিনোদন জগতের সাথে সম্পর্কের শুরু।

পেশাগতভাবে আমি সাংবাদিক, ১৯৮৯ সাল থেকে। আজ অব্দি পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্বে আছি। সেই বিবেচনায়, মিডিয়ায় আমার পদচারণা তিন যুগেরও বেশী। নিজে সাংবাদিক বলেই যেকোনো বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করার একটা অভ্যেস আমার আছে।

আমাদের চলচ্চিত্র কিংবা নাটক সেক্টরের বিদ্যমান সংকট নিয়ে অনেক ভেবেছি এবং সম্ভবত এর কারণ বের করতে পেরেছি। চলতি বছর জানুয়ারী মাস থেকে ক্রাউন এন্টারটেইনমেন্ট নামে যে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়েছে সেটা আমারই ব্রেইন চাইল্ড।

নাটক প্রযোজনায় এসে দেখলাম এক শ্রেণির নির্মাতার মূল ধান্দা হচ্ছে সত্য-মিথ্যে বলে কোনমতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয়া। আরেক শ্রেণির নির্মাতা আছেন যারা প্রযোজকদের মক্কেল ভাবেন। সব প্রযোজক না। মৌসুমী কিংবা সৌখিন প্রযোজক।

ওই মৌসুমী কিংবা সৌখিন প্রযোজকরা নাটক নির্মাণে আসেন হুজুগের বশে কিংবা ভিন্ন কোনো মতলবে। এদের কারো-কারো অঢেল বিত্ত আছে তাই এই সেক্টরে বিনিয়োগ করেন মূলত ফুর্তি করতে।

এরা পাঁচ-সাত লাখ টাকা খরচ করে নাটক বানিয়ে টিভি চ্যানেলগুলোর কাছে এক-দেড় লাখে বিক্রি করে দেন। ইচ্ছে করে নয়। কিছু নির্মাতার ফাঁদে পড়ে। এরপর ওই মৌসুমী কিংবা সৌখিন প্রযোজকদের বেশিরভাগই হারিয়ে যান। কিন্তু ক্ষতি করে যান প্রকৃত প্রযোজক কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর।

এদের কারণেই হাতেগোনা কিছু‌ অভিনেতা-অভিনেত্রীর পারিশ্রমিক সাংঘাতিকভাবে বেড়েছে। পারিশ্রমিক বাড়ানো ওই অভিনয় শিল্পীদের দিয়ে নাটক বানিয়ে সেগুলো থেকে বিনিয়োগ ফিরে পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই অসম্ভব।

কিন্তু সমস্যা যেটা হচ্ছে, ওই অভিনয় শিল্পীরা নিজেদের মিডিয়া কাভারেজ দেদারসে টাকা ঢালছেন। এমনকি এরা ইউটিউবে ওদের কনটেন্টগুলো নিজেরাই বুষ্ট করছেন। ফলে টেলিভিশন চ্যানেল এবং বিজ্ঞাপনদাতা বা স্পন্সররা মনে করছে এদের ছাড়া বুঝি নাটক বানালে দর্শক দেখেন না।

কিন্তু ব্যাপারটা একদম ভুল। বাংলাদেশের সিনেমায় এক অভিনেতা নিজের পারিশ্রমিক বাড়াতে-বাড়াতে এমন এক জায়গায় নিয়ে যান যেখানে তাকে নিয়ে সিনেমা বানাতে গেলেই কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগ।

সিংহভাগ প্রযোজক টাকা খাটিয়ে ফতুরও হয়েছেন। তবু ওই অভিনেতার ঢোল পিটিয়েছে তারই কিছু ভাড়াটে বিনোদন সাংবাদিক। পরিণামে কি হলো? আজ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র সেক্টর মুখ থুবড়ে পড়তে বসেছে।

নাটকের সেক্টরেও একই অবস্থার সৃষ্টি হবে পারিশ্রমিক বাড়ানো কিছু অভিনয় শিল্পীর কারণেই। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যদি মনে করে ওরা ভবিষ্যতে আর বাংলা নাটক চালাবেনই না, কিংবা বিদেশ থেকে ডাব করা নাটক কিংবা সিরিয়াল এনে চালাবে, তাহলে তো আর কিছুই বলার থাকে না।

শুনেছি, ভারতের কিছু প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বাংলায় ডাব করা হিন্দি সিরিয়াল কমদামে অফার করছে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর কাছে। পারিশ্রমিক বাড়ানো বাংলাদেশের অভিনয় শিল্পীরা কি টের পাচ্ছেন কিভাবে ওনাদের পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে কিংবা কিভাবে তাদের স্থায়ীভাবে বেকার করে দেয়ার আয়োজন চলছে? বাংলায় একটা প্রবাদ আছে- অতি লোভে তাতি নষ্ট।

পারিশ্রমিক বাড়ানো হাতে গোনা কজন অভিনয় শিল্পীর কারণেই বাংলাদেশের নাটক সেক্টরের যে মারাত্মক ক্ষতি হতে চলেছে সেটা অনুধাবন না করতে পারলে আখেরে সবাইকেই পস্তাতে হবে।

আমি বিনয়ের সাথে টিভি চ্যানেল, বিশেষ করে স্পন্সরদের বলছি, দয়া করে নতুনদের বেশি বেশি করে সুযোগের ব্যবস্থা করে দিন। এটা না করলে, হাতে গোনা কজন সিন্ডিকেট করা লোভী অভিনয় শিল্পীর কারণে বাংলাদেশের নাটক সেক্টর ধ্বংস হয়ে যাবে।

অন্যদিকে আমি অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাছে বিনয়ের সাথে অনুরোধ করছি, মাত্রাতিরিক্ত পারিশ্রমিক নেয়া হাতে গোনা ওই অভিনয় শিল্পীদের আয় করের নথি ঘেঁটে দেখুন – তাদের আসল আয় আর প্রদত্ত করের মাঝে বিশাল ফারাক অ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com