সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

অভিনেতা আরিফুল ইসলাম হাবিব,এখন শুটিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছে

  • আপডেট সময় রবিবার, ১৬ আগস্ট, ২০২০, ৩.৫৪ পিএম
  • ৮৫৮ বার পড়া হয়েছে

বিনোদন প্রতিবেদক : আল সামাদ রুবেল। সামনে বেশ কিছু নাটকও সিনেমা নিয়ে শুটিং এর কাজে ব্যস্ত থাকবে অভিনেতা হাবিব। সংস্কৃতিকর্মী সংস্কৃতির বিভিন্ন স্তরে তাঁর আন্তরিক বিচরণ অনুপ্রাণিত করে অনেককেই।

গান গাওয়া, অভিনয়, পরিচালনা, প্রযোজনাসহ সংস্কৃতির উৎকর্ষতায় বিভিন্ন লড়াই সংগ্রামে অনবদ্য ভূমিকাতেও কোন ক্লান্তি নেই উনার। বৃহত্তর ময়মনসিংহের কিশোরগঞ্জ জেলাধীন ইটনা থানার নয়াহাটি গ্রামে হাওড়ের বুক জুড়ে যে বিশাল জনপদ সেখানে ১৯৭৩ সালের ৩ আগষ্ট জন্মগ্রহণ করেন এই উদ্যমী মানুষটি।

মাতা আমেনা খাতুন ও পিতা শেখ আমান উল্লাহ্র ঘর আলোকিত করা মানুষটি পারিবারিকভাবেই সংস্কৃতির ছোঁয়া পেয়েছেন। উনার পিতা ও ছোট মামাকে দেখতেন ভাটি এলাকায় যাত্রা পালা দিয়ে এলাকার মানুষকে মাতাতে। সেই থেকেই সংস্কৃতির গুলি তাঁকে বিদ্ধ করেছে, যার সুখানুভবে এখনো পথ চলেন আরিফুল ইসলাম হাবিব।

সময়টা ১৯৮৫, ছোট মামা আবু সাঈদের হাত ধরে ‘বাগদত্তা’ নাটকের “ময়না” চরিত্রের মাধ্যমে প্রথম মঞ্চে পা রাখেন তিনি। সেসময় হাওড় অঞ্চলের বাম রাজনীতিবিদ, কবি, সাহিত্যিক ও দার্শনিক ড. আজমান ঠাকুরের সান্নিধ্য লাভ করেন তিনি। ওখান থেকে প্রগতিশীল চিন্তাভাবনা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির প্রতি ভালোবাসা আরো বেড়ে যায়।

নব্বই এর দশকে ময়মনসিংহ সঙ্গীত বিদ্যালয় এবং উদীচী ময়মনসিংহ পরিচালিত আলোকময় নাহা সঙ্গীত বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে ডানা মেলে উড়বার স্বপ্ন বুনতে শুরু করেন। ধীরে ধীরে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পী গোষ্ঠী ময়মনসিংহ এর সাথে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে পড়েন মনের অজান্তেই।

পর্যায়ক্রমে উদীচী ময়মনসিংহ জেলা কমিটি ও সম্পাদকম-লীতে নির্বাচিত হয়ে নিজের দায়িত্ব পালন করেন আন্তরিকভাবে। উদীচী নাটক বিভাগের দায়িত্ব নিয়ে নাটকে প্রাণ চঞ্চলতা ফিরিয়ে আনতে তাঁর ভূমিকা অনন্য।

এছাড়াও উদীচী ময়মনসিংহে চলচ্চিত্র বিভাগের কার্যক্রমও শুরু হয় তার হাত ধরেই। উদীচী কেন্দ্রীয় চলচ্চিত্র বিভাগের প্রদীপ ঘোষ নির্মিত বিভিন্ন তথ্য চলচ্চিত্রে নির্দেশক ও চিত্রগ্রাহকের কাজ করেও প্রশংসিত হন তিনি। তন্মধ্যে ম্যাডোনা ৪৩, ভূমিহীন ভূমিপুত্র, ক্ষতচিহ্নসহ বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রে কাজ করেছেন। এছাড়াও ময়মনসিংহে প্রথমবারের মতো ২০০১ সালে সামাজিক ও সচেতনতামূলক টেলিমুভি “সবার আপন” প্রযোজনা করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

 

২০০৩ সালে এটি স্থানীয়ভাবে প্রদর্শিত হয়; যা ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। এতে তিনি ‘ভজা’ পাগলার একটি চরিত্রে অভিনয় করে স্বীয় দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তিনি সাধারণত পাগলের চরিত্রে সাবলীলভাবে অভিনয় করে দর্শককে মুগ্ধ করতে পটু। এ প্রসঙ্গে তিনি জানান, কোন নাটকে পাগলের কোন চরিত্র থাকলে তিনি এই চরিত্রটির প্রতি দুর্বল থাকায় এর প্রতি আগ্রহী থাকেন। রাস্তাঘাটে এ পর্যন্ত অনেক পাগলকে তিনি কাছে থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন, তাদের বুঝতে চেষ্টা করেছেন নাটকের প্রয়োজনে।

তাই কখনো সুজয় বসাকের ‘ভজা পাগলা’ কখনোবা এসএম সোলায়মানের ‘ক্ষ্যাপা পাগলা’ হয়ে উঠেছেন অবলীলায়। মলিউড (ময়মনসিংহ চলচ্চিত্র শিল্পী ও নির্মাতা সংঘ) এর সভাপতি ও বিশিষ্ট অভিনেতা হেদায়েতুল হক টিংকু বলেন, আরিফুল ইসলাম হাবিব অসামান্য উদ্যমী এবং নিবেদিত প্রাণ মানুষ। উনার প্রযোজনায় ময়মনসিংহে প্রথম যে টেলিমুভিটি নির্মিত হয়েছে তা “সবার আপন”।

সুজয় বসাক রচিত ও সুব্রত বসাক পরিচালিত এই টেলিমুভিতে আমিও প্রধান খল চরিত্রে অভিনয় করেছি। নাট্যকার সুজয় বসাক বলেন, “হাবিব বয়সে তরুণ হলেও তিনি মূলত সংস্কৃতি যোদ্ধা। পাওয়া না পাওয়ার হিসেব না কষেই তিনি এ অঙ্গনকে ভালোবেসে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাঁর প্রযোজিত ও আমার রচনায় ‘সবার আপন‘ নাটকটির কথা মনে হলেই আমি আপ্লুত হই।

আমি তাঁর সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।” প্রয়াত শ্রদ্ধাভাজন সুধীর দাস, রাজা দিলীপ, প্রয়াত অরুণ ভট্টাচার্য নয়ন, মণিভূষণ ভট্টাচার্য এর সান্নিধ্যে এসে নাটককে খুব কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছেন তিনি। অসংখ্য মঞ্চ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তিনি। অভিনীত উল্লেখযোগ্য নাটকসমূহ হলো : রথের রশী, ইতিহাস কথা কও, দেয়াল লিখন, ক্ষ্যাপা পাগলার প্যাচাল, মড়া। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন এর বেশ কিছু র্পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

অভিনয় করেছেন বেশ কটি টেলিভিশন নাটকে। ২০১৬ সাল থেকে তিনি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ‘এস টিভি’তে ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ শুরু করেন। বর্তমানে এই চ্যানেলে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রোগ্রাম প্রডিউসার হিসেবে কাজ করছেন। উল্লেখযোগ্য প্রোগ্রাম হলো- মহুয়া মন, শুভ সকাল ইত্যাদি। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বাম আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা ভুপেশ গুপ্তকে নিয়ে নির্মাণ করেন ডাকু চলচ্চিত্র লিডিং লাইট; যা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ব্যাপক প্রশংসিত হয়।

এছাড়াও তিনি অসংখ্য টিভি নাটক ও ধারাবাহিকের সহযোগী ও প্রধান সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হাওড়ের দামাল ছেলে আরিফুল ইসলাম হাবিব সগৌরবে সংস্কৃতির ঝা-া উড়িয়েই চলছে। কখনো ভজা কখনো ক্ষ্যাপা পাগলা হয়ে মঞ্চ কাঁপিয়েই চলছে। দেশের সর্বত্র একদিন তাঁর সুনাম ছড়িয়ে যাবে এটিই মনে করেন তাঁর শুভাকাক্ষীরা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com