বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৩৩২ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল নেপালকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাঁশখালীতে ৪২০ পরিবার পেল নগদ সহায়তা নেছারাবাদে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ছারছীনা দরবারের বিশাল আনন্দ মিছিল১১

মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে আইজিপি’র ৫ নির্দেশনা

  • আপডেট সময় বুধবার, ১৭ জুন, ২০২০, ৬.৪২ পিএম
  • ৪৪৫ বার পড়া হয়েছে

বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে পুলিশি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় নিয়ে যেতে চান বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ বিপিএম (বার)। তিনি বলেন, রূপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে নিরলস কাজ করছেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। উন্নয়নের এ অভিযাত্রায় শামিল হয়ে বাংলাদেশ পুলিশকেও উন্নত দেশের উপযোগী পুলিশ হতে হবে। করোনাকালে এই অভিযাত্রায় বাংলাদেশ পুলিশ অনেকদূর এগিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আইজিপি মঙ্গলবার বিকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, ঢাকা ও ময়মনসিংহ রেঞ্জ এবং গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি এবং পুলিশ সুপারগণের সাথে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য প্রদানকালে এ কথা বলেন।

 

উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, গনমানুষের দোরগোড়ায় পুলিশিংকে পৌছে দিতে হবে। বিট পুলিশিং এর মাধ্যমে প্রান্ত থেকে কেন্দ্র সর্বত্র হাতে নিতে হবে উন্নয়নমুখী উদ্ভাবনী পুলশিং কার্যক্রম। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কেন্দ্রিক বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যক্তিগতভাবে তার দায়িত্বাধীন এলাকার প্রত্যেক নাগরিকের সুখ-দুঃখের খুঁজ নিবেন। বিপদে ও প্রয়োজনে মানুষের পাশে দাড়াবেন। এ বিষয়ে একটি এসওপি প্রণয়ণের কাজ চলমান রয়েছে। শীঘ্রই সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনাসহ একটি এসওপি সকল ইউনিটে পৌঁছে দেয়া হবে।

তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা কোনোভাবেই কোন ধরনের দুর্নীতির সাথে যুক্ত থাকতে পারবেন না। পুলিশকে দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, যারা অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বড়লোক হতে চান, বাংলাদেশ পুলিশ তাদের স্থান নয়। তারা পুলিশের চাকরি ছেড়ে বাড়ি গিয়ে ব্যবসা করে বড়লোক হওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।

আইজিপি বলেন, দেশের মানুষকে নির্মোহভাবে ভালবাসতে হবে, মানুষকে কোনো প্রকার নির্যাতন ও নিপীড়ন করা যাবে না। সকল উপায়ে সর্বোতভাবে মানুষের পাশে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বপালনকালে শারিরীক শক্তি নয়, আইনী সক্ষমতাকে কাজে লাগাতে হবে।

মাদকের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান ‘জিরো টলারেন্স’। কোন পুলিশ সদস্য মাদকের সাথে অথবা মাদক ব্যবসার সাথে সম্পর্কযুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, আসুন, আমরা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে দেশকে এমন একটি অবস্থানে নিয়ে যাই; যাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি মাদকমুক্ত দেশ হিসেবে ঘোষণা দিতে পারেন।

পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ প্রসঙ্গে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যদের সর্বোচ্চ কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, দায়িত্বরত অবস্থায় আহত, গুরুতর আহত ও নিহতের ক্ষেত্রে কল্যাণ সংক্রান্ত সুবিধাদি রয়েছে। এর পাশাপাশি চাকরিরত অবস্থায়ই সদস্যদের সর্বোচ্চ কল্যান নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, শাসন ও সোহাগের সমন্বয় করে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। ভালো কাজ করলে স্বীকৃতি ও উৎসাহের পাশাপাশি মন্দ কাজ করলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে কার্পণ্য করা হবে না। পুলিশ সদস্যদের শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যাপারে কোন ধরনের শৈথিল্য দেখানো হবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি। তিনি বলেন, কোন পুলিশ সদস্যের ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার তাকেই বহন করতে হবে।

আইজিপি বলেন, বর্তমান করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ যেভাবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদেরকে সহযোগিতা করছে, নিজের জীবন বিপন্ন করে জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। বাংলাদেশ পুলিশের এ মানবিকতা দেশের মানুষের কাছে বাংলাদেশ পুলিশকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। মানুষ পুলিশকে নিয়ে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছে, পুলিশকে ভালোবাসছে, শ্রদ্ধা করছে। মানুষের মনের মণিকোঠায় স্থান করে নিয়েছে পুলিশ। মানুষের এ অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার মর্যাদা আমাদের রাখতে হবে। তিনি বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে আমাদের এ অবস্থান ধরে রাখা সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে জনগণের জন্য জনগণের পুলিশ হয়ে কাজ করতে হবে। দুনীতি ও মাদকসহ যে কোনো প্রকার পুলিশি মিসকন্ডাক্টকে কঠোর হাতে দমন করতে না পারলে জনগণের পুলিশ হয়ে ওঠা সহজ হবে না।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের বাস্তবায়ন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সকল প্রচেষ্টার ঐকতানে আমরা যেভাবে কাজ করছি, তা অব্যাহত থাকলে ২০৪১ সালে এক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মানের অন্যতম অংশীদার হবে বাংলাদেশ পুলিশ।

আইজিপি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে করোনা সংক্রমণ রোধে দায়িত্ব পালনকালে জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের আত্মার শান্তি কামনা করেন এবং তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। যারা অসুস্থ আছেন তিনি তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।

রুপকল্প-২০২১ ও ২০৪১ এবং জাতীয় শুদ্ধাচাররের আলোকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে বাংলাদেশ পুলিশ শুরু থেকেই নিবেদিত হয়ে কাজ করছে। সেই গতিকে অধিকতর বেগবান করতে আরো বেশী নিষ্ঠা ,সততা ও শতভাগ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আহবান জানান আইজিপি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com