মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
কিশোরগ্যাং অভিযান লক্ষ্মীপুরে তিন দফায় আটক ৫৪৯, আদালতে ৮৯ ‘যাযাবর’ সিনেমার শুটিংয়ে আহত অভিনেতা ওমর মালিক ‘মোমেন্টস উইথ লেজেন্ডস’ আয়োজনে গাইবেন বন্যা, নাচবেন  শিবলী ও নীপা ঝালকাঠিতে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগের মামলায় পালিত বাবাসহ দুজন গ্রেপ্তার, ভিডিও ধারন ও ছড়িয়ে দেয়ার ব্লাক মেইল! কাউখালীর জেসমিন ধর্ষণ ও হত্যার মূল আসামী  তাঁতীদল নেতা মানিক গ্রেফতার সেন্ট যোসেফ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে ৩ দিনব্যাপী ‘যোসেফাইট টেক কার্নিভাল’ সম্পন্ন কাউখালীতে গৃহবধূকে হত্যা ও মালামাল লুট, ঘরে মিলল বিবস্ত্র লাশ কাউখালীতে প্রাথমিক শিক্ষক গোল্ড কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত ঠাকুরগাঁওয়ে সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে চুরি হওয়া  ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার ৪  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ

মেডিকেলের প্রশ্ন ফাঁসে জড়িত আরও ৫ ডাক্তার গ্রেপ্তার

  • আপডেট সময় সোমবার, ২১ আগস্ট, ২০২৩, ৭.৩৪ পিএম
  • ১৯৩ বার পড়া হয়েছে

মেডিকেল প্রশ্নফাঁস চক্রের অন্যতম মূলহোতা সহ আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডির সাইবার টিম। খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ডাঃ মোঃ ইউনুচ উজ্জামান খাঁন তারিম (৪০), ডাঃ লুইস সৌরভ সরকার (৩০), ডাঃ মুসতাহিন হাসান লামিয়া(২৫), ডাঃ শর্মিষ্ঠা মণ্ডল (২৬), ডাঃ নাজিয়া মেহজাবিন তিশা (২৪)।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আটক ডাঃ মোঃ ইউনুচ উজ্জামান খাঁন তারিম খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডাক্তার। খুলনা শহরের আলোচিত মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার থ্রি ডক্টরস এর মালিক। ডাক্তারি পেশা বাদ দিয়ে জড়ান কোচিং ব্যবসায়। প্রতিষ্ঠা করেন থ্রি ডক্টরস কোচিং খুলনা। তিনি নিজেকে ডাক্তার তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচয় দেন। মেডিকেল প্রশ্ন ফাঁসের মাধ্যমে অবৈধভাবে শত শত শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন সরকারি মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন। মেডিকেল প্রশ্নফাঁসের গুরুত্বপূর্ণ এই সদস্য শিক্ষার্থীদের এভাবে ভর্তি করিয়ে কামিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। তার এবং তার স্ত্রীর অ্যাকাউন্টে প্রায় ২৫ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতাল, ফ্লাট, জমি, মাছের ঘের, হোটেল শেয়ারসহ গড়েছেন বিপুল সম্পদ। ডা: তারিমের বিরুদ্ধে একাধিক গোয়েন্দ প্রতিবেদনে এর আগেও প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ওঠে।

আটক ডাঃ লুইস সৌরভ সরকার খুলনা মেডিকেল কলেজের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। খুলনা শহরের আলোচিত মেডিকেল ভর্তি কোচিং সেন্টার থ্রি ডক্টরস এর শিক্ষক। বর্তমানে একটি বেসরকারি এনজিও তে মেডিকেল অফিসার হিসেবে কর্মরত।

আটক ডাঃ মুসতাহিন হাসান লামিয়া ২০১৫-১৬ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় জাতীয় মেধায় ১১তম স্থান অর্জন করেন। তিনি মোঃ ইউনুচ উজ্জামান খান তারিমের স্পেশাল ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এছাড়াও তাকে বাসায়ও পড়াতেন তারিম। কম মেধাবী হওয়ার পরও তারিমের কাছ থেকে প্রশ্ন পেয়ে তিনি মেডিকেলে ভর্তি হয়েছেন। তারিমের ঘনিষ্ঠজন ও তৎকালীন কোচিংয়ের ৩জন শিক্ষক তার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন। জাতীয় মেধায় ১১তম হওয়ার পরও সে ৪টি ফাইনাল প্রফেশনাল এক্সামিনেশনের সব সাবজেক্টেই ফেইল করেছে। পরবর্তীতে একাধিকবারের চেষ্টায় সে পাশ করেছে। লামিয়ার প্রশ্ন পেয়ে চান্স পাওয়ার বিষয়টি খুলনার চিকিৎসক মহলে ওপেন সিক্রেট। লামিয়ার ভর্তি জন্য তার স্বামী শেখ ওসমান গনি ও ডা: তারিমের মাঝে প্রায় ১৫ লাখ টাকা লেনদেন হয়েছে বলে জানা যায়।

এছাড়া ডাঃ শর্মিষ্ঠা মণ্ডল (২৬) ও ডাঃ নাজিয়া মেহজাবিন তিশা উভয়েই ২০১৫-১৬ সেশনের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় ডাঃ মোঃ ইউনুচ উজ্জামান খান তারিম এর কাছ থেকে অর্থের বিনিময়ে ফাঁসকৃত প্রশ্নপত্র ক্রয় করে খুলনা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়। গ্রেপ্তার কৃত ব্যক্তিদেরকে মিরপুর মডেল থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

তাদের গ্রেপ্তারের সময় ৬টি মোবাইল ফোন ২টি ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই, ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড  উদ্ধার করা হয়।

এর আগে, ১৩ মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের সাথে জড়িত ৭ (সাত) জন ডাক্তার সহ প্রশ্নফাঁসকারী চক্রের ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার টিম। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ৮ (আট) জন তাদের দায় স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন। গ্রেপ্তারকৃত আসামীদের কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের দেওয়া বিপুল সংখ্যক ব্যাংকের চেক এবং এডমিট কার্ড উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও চক্রের মাস্টারমাইন্ড জসীম উদ্দিন ভূইয়ার কাছ থেকে একটি গোপন ডায়রি উদ্ধার করা হয়, যেখানে সারাদেশে ছড়িয়ে থাকা তার চক্রের অন্যান্য সদস্যদের নাম পাওয়া যায়।

এই সংক্রান্তে সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি জনাব মোহাম্মদ আলী মিয়া সংবাদ সম্মেলন করেন এবং প্রশ্ন ফাঁস চক্রের মূল উৎপাটনে ও অবৈধ উপায়ে চিকিৎসক এর মতো মহান পেশায় ভর্তি হওয়া ডাক্তারদের সন্ধানপূর্বক আইনের আওতায় আনার জন্যে সিআইডির কার্যক্রম চলমান রাখার ঘোষণা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় খুলনার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com