জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য লুকিয়ে দ্বিতীয় জাতীয় পরিচয়পত্র গ্রহণ করার অভিযোগে রাজধানীর বাড্ডা থানায় জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের বরখাস্ত হওয়া চিকিৎসক ডা. সাবরীনা আরিফের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে গুলশান থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মমিন মিয়া মামলাটি দায়ের করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে বিষয়টি জানিয়েছেন বাড্ডা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. পারভেজ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘তথ্য জালিয়াতির অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে ২৭ আগস্ট নভেল করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) নমুনা পরীক্ষা না করে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত জেকেজি হেলথ কেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরীনা আরিফের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্রই (এনআইডি) ব্লক করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
গত বৃহস্পতিবার জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক থেকে জেকেজির চেয়ারম্যান ডা. সাবরীনা আরিফের দ্বৈত ভোটার হওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দেওয়া হয়।
তারপর আমরা তাঁর দুটি পরিচয়পত্র যাচাইয়ের জন্য তদন্ত করি। তদন্ত করে দেখা গেছে, ডা. সাবরীনার দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে। প্রথমটি করা হয়েছিল ২০০৯ সালে। যেটি মোহাম্মদপুর থানা নির্বাচন অফিস থেকে করা হয়। আর দ্বিতীয়টি গুলশান থানা নির্বাচন অফিস থেকে ২০১৬ সালে করা হয়।
মহাপরিচালক আরো বলেন, ‘আইন অনুযায়ী প্রথমটি বৈধ, দ্বিতীয়টি অবৈধ। ফলে আমরা গুলশান থানা নির্বাচন অফিসকে চিঠি দিয়ে ডা. সাবরীনা আরিফের প্রতি জাতীয় নিবন্ধন আইনের ১৪ এবং ১৫ ধারা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। তাঁর বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে একাধিক আইডি সংগ্রহ করার অপরাধে মামলা করা হবে। একই সঙ্গে আরো বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে সাবরীনার দুটি পরিচয়পত্রই ব্লক করে দেওয়া হয়েছে।
মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম বলেন, এ ব্যাপারে আমরা আরো বিস্তারিত তথ্য জানার জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি।
আমাদের কোনো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তার গাফিলতি বা দোষ ছিল কি না, তা-ও যাচাই করা হবে। তেমনটি হয়ে থাকলে এটি দণ্ডনীয় অপরাধ। জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ এ ব্যাপারে আরো বিস্তারিত তদন্ত করছে।