দিলীপ কুমার দাস, নিজস্ব প্রতিবেদক: অসহনীয় গরমে তীব্র পানি সংকটে রয়েছে নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুর। পাহাড়ি নদীর সোমেশ্বরীর বুকে হাজারো ড্রেজারে অকল্পনীয়ভাবে বালু তোলায় পানির স্তর নিচে নেমে গেছে বলে দাবি পরিবেশবিদদের।তারা মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে দুর্গাপুরে শুধু পানির জন্য হাহাকারই নয়, ধ্বংস হবে পুরো উপজেলাটি। টানা ১২ বছর ধরে যত্রতত্র অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলায় মিলছে না এখন এক ফোটা পানিও।পরিবেশবিদ মো. অহিদুর রহমান বলেন, ২২ মার্চ পানি দিবস পালন করলেও আইন মানা হয় না। সোমেশ্বরী নদী থেকে বালু উত্তোলনে নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছে না। এটিসহ কংস নদীকেও মেরে ফেলা হচ্ছে। এতে এলাকায় পানির সঙ্কটসহ ভূমিকম্পের ভয়াবহ রকমের আশঙ্কা রয়েছে। নষ্ট হচ্ছে এই অঞ্চলের ইকোসিস্টেম। যে কারণে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ পোহাতে হবে এই এলাকার মানুষকে।জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি বাড়িতে টিউবওয়েল থাকলেও সারাদিন চাপ দিয়েও মিলছে না এক ফোটা পানি। তাই অনেকে বাধ্য হয়েই পুকুরে ময়লা পানি ফুটিয়ে পান করছেন। অনেকেই আবার কয়েক কিলোমিটার দূর থেকে কাঁধে কিংবা মাথায় করে নিয়ে আসছে বিশুদ্ধ পানি। বিশুদ্ধ পানির জন্য কষ্ট করে আসছেন উপেজলার বেশ কয়েকটি গ্রামের হাজারো বাসিন্দা।ফেচিয়া গ্রামের সুভাসিনি হাজং বলেন, পানি সঙ্কট এখন গ্রামের পর গ্রাম জুড়ে। আমরা অনেক সময় বালুর নিচ থেকেও পানি তুলতে পারতাম। এখন সেটিও নেই। ময়লা পুকুর থেকেই খেতে হচ্ছে বাধ্য হয়ে।উপজেলার চন্ডিগড় ইউপির সাতাশি, ফেচিয়া, মধুয়াকোনা, মউ, সদর ইউপি, কুল্লাগড়া, বাকলজোড়া, কাকৈরগড়া, গাওকান্দিয়া, বিরিশিরি ইউপিসহ সর্বত্রই দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির এই সংকট। পৌর শহরের বেশ কয়েকটি ওয়ার্ডে মাটির ৩০০ থেকে সাড়ে ৩০০ ফুট নিচ থেকেও মিলছে না পানি।এদিকে ময়লা পানি পান করার ফলে গ্রামজুড়ে ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, জন্ডিসসহ বিভিন্ন প্রকার পানিবাহিত রোগের শঙ্কা বেড়েছে। তাই অনেকেই বাধ্য হয়েই ঋণ কিংবা জমি বিক্রয় করে ব্যক্তিগতভাবে বাড়িতেই গভীর নলকূপ স্থাপন করছেন। মধ্যবিত্তরা নলকূপ বসিয়ে পানি পানের ব্যবস্থা করলেও বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও হতদরিদ্র মানুষগুলো।নেত্রকোনা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের নির্বাহী প্রকোৗশলী মো. আহসান হাবীবের মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে একাধিকবার কল দিলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।