মোস্তাফিজুর রহমান চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানস্থ চিটাগাং সিনিয়রস ক্লাবে নিউজগার্ডেন এর অষ্টম তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নতুন শতকের সাংবাদিকতা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিউজগার্ডেন পত্রিকার পক্ষ থেকে প্রধান অতিথিদেরকে বরণ ফুল দিয়ে করেন নিউজগার্ডেন পত্রিকার ৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কেক কেটে উদযাপন করেন। ৪ ডিসেম্বর শনিবার সকাল ১০ঘটিকার সময় এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন মোহাম্মদ ইসকান্দর আলী চৌধুরী অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন,কামরুল হুদা উক্ত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন আবু সুফিয়ান সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি নয়াবাংলা সম্পাদক জিয়াউদ্দিন এম এনায়েতউল্লাহ।
সাইফুর রহমান মোহাম্মদ হোসেন ডা. মাহতাব হোসাইন মাজেদ, কানাজ,কুমারশীল,স্টাফ রিপোর্টার সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদ জাকির হোসেন, কাজি শফিকুল ইসলাম ওসমান চৌধুরী মোহাম্মদ এয়াকুব, আরিফুল হক, মোজাফ্ফর সিকদার ও প্রমুখ। এসময় অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে প্রধান বক্তরা বলেন তথ্য প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ও উৎকর্ষের সুবাদে একুশ শতকে এসে দ্রুতই বদলে যাচ্ছে মানব সভ্যতার দৃশ্যপট বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, কলামিস্ট ও তথ্য প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ও উৎকর্ষের সুবাদে একুশ শতকে এসে দ্রুতই বদলে যাচ্ছে মানব সভ্যতার দৃশ্যপট। নতুন সহস্রাব্দের সাংবাদিকতার ক্ষেত্রেও প্রচলিত ধারণা ও কৌশলগুলোতে এসেছে নানা পরিবর্তন।
উদ্ভব ও বিকাশের কালপরিক্রমায় আমাদের দেশে সাংবাদিকতা বলতে একুশ শতকের আগ পর্যন্ত মূলত সংবাদপত্র কেন্দ্রিক রিপোর্টিং তৎপরতাই ছিল মূখ্য প্রবণতা। স্বাভাবিকভাবেই বর্তমানে এদেশে সাংবাদিকতায় যারা দিকপাল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত তাদের অধিকাংশই সংবাদপত্র কেন্দ্রিক রিপোর্টিংয়ের অভিজ্ঞতা নিয়েই এ পর্যন্ত এসেছেন।তিনি বলেন, সাম্প্রতিককালে ইলেকট্রনিক মিডিয়ার নতুন নতুন শাখায় রিপোর্টিং করার অবারিত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হয়েছে। কিন্তু বিগত শতকের সংবাদপত্রের কার্যক্রম ছিল কাগজ, কলম,নোটবুক আর ম্যানুয়াল ক্যামেরা নির্ভর ছিল। একুশ শতকে এসে তথ্য-প্রযুক্তির সুবাদে কাগজ, কলম, প্যাড, নোটবুক আর সনাতনী ক্যামেরার স্থান বদলে দিয়েছে ল্যাপটপ কম্পিউটার, ডিজিটাল ক্যামেরা, এমনকি মোবাইল ফোন ও মাল্টিমিডিয়া নির্ভর যন্ত্রকৌশল। এসময় অনুষ্ঠানে বিএনপির আহবায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, স্মার্টফোন ব্যবহার করে সাংবাদিকতার ধারণাটি দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে।
সেলফি স্টিক ব্যবহার করে স্মার্ট ফোন জার্নালিজমকে অনেকেই স্বাগত জানাচ্ছেন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও স্মার্টফোন ব্যবহার করে একজন গণমাধ্যমকর্মী কিভাবে দ্রুত সংবাদ প্রচারে এগিয়ে থাকতে পারেন সে বিষয়ে রীতিমতো পাঠদান হচ্ছে। সংবাদের তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানতে চাওয়ার চাহিদা পূরণে স্মার্টফোন জার্নালিজম হতে পারে অন্যতম বিকল্প। তাৎক্ষণিকভাবে স্পটে দাঁড়িয়েই স্মার্টফোন দিয়ে কয়েক মিনিটের ভিডিও আপলোড করে আপনার বন্ধু, ভক্ত কিংবা ফলোয়ারদের সংবাদটা জানিয়ে দিতে পারছেন। সাংবাদিকতার জগতটি গত এক যুগে অনেক প্রসারিত হয়েছে।
সংবাদপত্রের পাশাপাশি নতুন নতুন মিডিয়া বিশেষ করে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল, এফএম রেডিও এবং সর্বশেষ ইন্টারনেট- বাংলাদেশে এই পেশার অনেক সম্ভাবনা তৈরি করেছে। আজকাল শিশু-কিশোরদের অনেকেই ভবিষ্যতে সাংবাদিক হতে চায় এমন আকাঙ্খার কথা অল্প বয়সেই প্রকাশ করে। দেশের একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে গণ-যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আছে।
এমনকি কমপক্ষে অর্ধ-ডজন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন এই বিষয় পড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ পেশার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় সুনির্দিষ্ট বিষয় পাঠের ব্যাপারে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। পেশার সম্মান, মর্যাদা বেড়েছে। সুযোগ-সুবিধা বেড়েছে। একই সঙ্গে বেড়েছে চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রয়োজনীয় পেশা দায়িত্ব কি বেড়েছে। তিনি বলেন কর্মরত সাংবাদিকদের পেশা দায়িত্ব নিয়ে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের আলোচনায় এখন বেশ হা-হুতাশ শুনতে পাওয়া যায়। যে কোনো পেশার জন্যই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আমলা বা অন্য যে কোনো পেশার কেউ যথেষ্ট দক্ষ-যোগ্য, সৎ ও দলনিরপেক্ষ না হলে সাংবাদিকরা তাদের নিয়ে প্রশ্ন তুলেন। কিন্তু সাংবাদিকদের কতোজন ওইসব গুণের অধিকারী। বিশেষ করে এখনকার সময়ে যখন অন্য সব পেশার মতো সাংবাদিকতাতেও অযোগ্য, অদক্ষ, অসৎ এবং দলবাজদের জয়-জয়াকার দেখা যায়। সেখানে সাংবাদিকতা পেশাটিই এখন প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে বলে জানিয়েছেন বক্তরা।