চলমান কঠোর লকডাউনের মধ্যেও অর্থনৈতিক অবস্থাসহ সার্বিক দিক বিবেচনায় আগামীকাল রোববার (১ আগস্ট) থেকে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প-কারখানা খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল এই ঘোষণা দেওয়ার পর আজ শনিবার ভোর থেকেই ঢাকামুখী বিভিন্ন সড়কে শ্রমিকদের দীর্ঘ স্রোত তৈরি হয়।কারখানা খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও অন্যান্য বিধিনিষেধ বহাল রেখেছে সরকার। স্বাভাবিকভাবেই সড়কে যানবাহন না থাকায় বিভিন্ন বিকল্প উপায়ে ভেঙে ভেঙে, এমনকি পায়ে হেঁটে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়েছে শ্রমিকরা। বিকল্প মাধ্যমে ছোট ছোট যানে ঢাকায় প্রবেশ করতে গিয়ে অন্তত তিনগুণ ভাড়া মেটাতে হচ্ছে শ্রমিকদের।
শুধু বাড়তি অর্থ খরচ নয়, শ্রমিকরা এমন গাদাগাদি করে ঢাকায় আসছে যে, তাতে স্বাস্থ্যবিধির ছিটেফোঁটাও অবশিষ্ট থাকছে না। দৌলতদিয়া ঘাট থেকে অস্বাভাবিক ভিড় করে ফেরির মাধ্যমে পাটুরিয়া ঘাটে আসছে হাজার হাজার মানুষ। ফেরির র্যাম খোলার সঙ্গে সঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়েন যাত্রী। তাতে অসহায়ভাবে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না কর্তৃপক্ষের।
এই সুযোগে ছোট ছোট যানগুলো ইচ্ছেমতো ভাড়া হাকাচ্ছে। পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে নবীনগর, আশুলিয়া, সাভার পর্যন্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে ১৫০০ টাকা। অথচ স্বাভাবিক সময়ে এটুকু পথের ভাড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে। এমন নৈরাজ্য চলছে ঢাকামুখী অন্যান্য সড়কগুলোতেও।
কারখানা খোলার ঘোষণা দেওয়া হলেও লকডাউনের কারণে এ সময়ে গ্রামে থাকা শ্রমিকদের কাজে যোগ দেওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটির সভাপতি ফারুক হাসান জানান, আগামীকাল (১ আগস্ট) থেকে কারখানার আশপাশে বসবাস করা শ্রমিকদের নিয়েই কাজ শুরু হবে। আমরা চাই না গ্রাম থেকে ঝুঁকি নিয়ে কোনো শ্রমিক কাজে যোগ দিক।
‘আপাতত সীমিত আকারে কাজ চলবে। যারা গ্রামে আছে, তারা ৫ তারিখের পরেই কাজে যোগ দেবে। এক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হবে না। তাদের চাকরি যাওয়া, বেতন কর্তন- এমন কিছুই হবে না।’ যোগ করেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক খান।
ঈদুল আজহার পরদিন তথা গত ২৩ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। যা চলবে আগামী ৫ আগস্ট পর্যন্ত। এবারের বিধিনিষেধে দেশের সব শিল্প-কারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে শুরু থেকেই গার্মেন্টস ব্যবসায়ীরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে কারখানা খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। শেষ পর্যন্ত তাদের দাবি মেনে নিল সরকার।