সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

জেলা কারাগারে বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ, কোটি টাকার বাণিজ্য

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই, ২০২১, ৩.০৫ পিএম
  • ২৫৬ বার পড়া হয়েছে

মল্লিক মোঃ জামাল,বরগুনা প্রতিনিধিঃ বরগুনা জেলা কারাগারের ভেতরের ক্যান্টিনে ৪ থেকে ৬ গুন বেশি দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।কারাগারে প্রত্যেক মানুষ এমন কয়েকগুন বেশি টাকায় খাবার কিনতে হয় । কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অনাহারে রেখে মারধর করা হয় । বিভিন্ন মামলায় কারাবাস করে জামিনে বের হওয়া একাধিক আসামির সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া গেছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনী সহিংসতার অভিযোগে গত ৩০ এপ্রিল গ্রেফতার হয়ে কারাগারে যান বামনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের সোনাখালী এলাকার রাফিন জোমাদ্দার আকাশ । কারাগারে গিয়ে সব খাবার সামগ্রী কয়েকগুন অধিক দামে ক্রয় করতে হয়েছে তাকে ।

সম্প্রতি জামিনে বের হয়ে ৩০ জুন রাফিন বলেন, কারাগারে খাবারের মান খুবই নিম্ন । ভাত থেকে দুর্গন্ধ আসে । এক দিন মাছ ও এক দিন মাংস রান্না করে । তবে মাছ-মাংস শুধু নামেই, বাস্তবে দেখা যায় না । তাই বাধ্য হয়ে খাবার কিনে খেতে হয় । কারাগারের ক্যান্টিনে এক কেজি ব্রয়লার মুরগি রান্না করে বিক্রি হয় ১৩শ’ টাকায় । রান্না করার পর সেই এক কেজি মুরগির পুরোটা তাদের দেয়া হয় না । তা থেকেও অন্যদের কাছে বিক্রি করা হয় । আমি বাধ্য হয়ে ৬ জনকে সঙ্গে নিয়ে খাবার কিনতাম । গরুর মাংসের দাম রাখা হয় প্রতিকেজি ১৬শ’ টাকা । এক কাপ রং চা ১০ টাকা।

একটি পরাটা (সাইজে ছোটো) তাও ১০ টাকা। সম্প্রতি জামিন বের হয়ে আসা আরেক আসামি বামনার মিজানুর রহমান সুমন বলেন, কারাগারের ক্যান্টিনে সব কিছুর দাম ৫/৬ গুন । আমি অবাক হয়েছি প্রতিদিন চড়া দামে ক্যান্টিন থেকে খাবার বিক্রি করে মাসে অন্তত ২০ লাখ টাকা বাণিজ্য করে কারা কর্তৃপক্ষ । ২৫ টাকার কোমল পানীয় বিক্রি করে ৫০ টাকায় । ৫০ টাকার এক প্যাকেট বেকারি বিস্কুট বিক্রি হয় ১০০ টাকায়। এক পিস ডিম ৬০ টাকায়, এক পিস পাঙ্গাস মাছ ১০০ টাকায় বিক্রি হয় । আর রান্না করা সরকারি খাবারের মান এতো খারাপ যে মুখে নিলে বমি চলে আসে বদ হজম হয় । যে দিন জেলা প্রশাসক পরিদর্শনে যায়, শুধু ওই দিন মোটামুটি খাবার খাওয়ার উপযোগী থাকে ।

কারাগারে মানুষ যে কতটা অসহায় তা বলে বুঝানো যাবে না । জামিনে বের হওয়া হাজতি আসামি আজিম বলেন, সরকারিভাবে দেয়া খাবারের মান খুবই খারাপ । নামেমাত্র খাবার দেয় তারা। যাতে হাজতিরা বাধ্য হয়ে ক্যান্টিন থেকে খাবার ক্রয় করে । তবে ক্যান্টিনের খাবার ক্রয় করতে গেলে গলাকাটার মতো অবস্থা। এক কেজি ব্রয়লার ১৩শ’ টাকা । সব পণ্যের দাম অনেক বেশি। কারাগারে থাকা অবস্থায় এসবের প্রতিবাদও করা যায় না । এসব অভিযোগের বিষয়ে প্রশ্ন করলে বরগুনা জেলা কারাগারের জেলার ইফতেখার ইউসুফ সঠিক জবাব না দিয়ে বলেন, ‘আপনি আমার অফিসে আইসেন সরাসরি কথা বলবো ।

জেলখানার একজন ডাক্তার আছে, তার সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিলো। তিনি এই এই মিথ্যা তথ্য দিয়ে আপনাদের বিভ্রান্ত করছে। আপনি অফিসে আইসেন কথা হবে’। বরগুনা জেল সুপার নাজমুল হোসেন বলেন, ‘আমার কাছে তো কোনো প্রমাণ নেই যে আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবো। যদি ভেতরে আসামিদের কাছ থেকে বেশি দাম নেওয়া হয়, সেই বন্দিরা আমার কাছে লিখিত অভিযোগ করুক, আমি ব্যবস্থা নেবো । কেউ যদি প্রমাণ সহকারে আমার কাছে অভিযোগ না করে তাহলে আমি কিভাবে ব্যবস্থা নেবো’। বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। আমি জেলারকে ডাকবো এবং তদন্ত করবো। যদি সত্যতা পাওয়া যায় তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিদুৎ ও নেটওয়ার্ক সমস্যা তাই নিউজ মোবাইল থেকে করছি একটু দেখার অনুরোধ রইলো

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com