গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আজ বুধবার (২৬ মে) সকালেই জানানো হয়েছিল, বাংলাদেশে সরাসরি আঘাত হানছে না ঘূর্ণিঝড় ইয়াস। তবে এর প্রভাবে যে জোয়ারের সৃষ্টি হবে তাতে প্লাবিত হতে পারে উপকূলীয় এলাকা। পূর্বাভাস অনুযায়ী দেশের আরো কয়েকটি অঞ্চলের মতো পানিতে তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের দুবলার চর ও করমজল।
আচমকা তৈরি হওয়া শক্তিশালী জলোচ্ছ্বাসে ৫-৬ ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে পুরো দুবলার চর। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৮০০ পরিবার। একই অবস্থা করমজলেরও। সেখানে অনেক কাঁচা মাটির ঘর আছে, বেশি সময় ধরে পানি আটকে থাকলে যেগুলো ধসে পড়বে।
দুবলা জেলে পল্লী টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় বলেন, মানুষের পাশাপাশি পানিবন্দী হয়ে পড়েছে অনেক হরিন। ৬০০-৭০০ হরিন আশ্রয় নিয়েছে দুবলা মিষ্টি পুকুর পাড়ে। পানিতে তলিয়ে গেছে করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র।
আজ বুধবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ভারতের ওড়িশা রাজ্যের বালেশ্বরের দক্ষিণে অবস্থিত ধামরা উপকূলে আছড়ে পড়েছে। প্রায় ৩ ঘণ্টা সেখানে তাণ্ডব চালায় ঘূর্ণিঝড়টি। এখন পর্যন্ত সেখানে ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া উপড়ে গেছে হাজার হাজার গাছ। ভেসে গেছে রাস্তাঘাট-ঘরবাড়ি।
এদিকে, শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে আঘাত না হানলেও গতকাল মঙ্গলবার (২৫ মে) বিকেলে ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে মারাত্মক ক্ষতির শিকার হয়েছে দেশের অন্যতম পর্যটন অঞ্চল সেন্টমার্টিন দ্বীপ। তীব্র ঝড়ে কয়েক হাজার গাছ উপড়ে গেছে বলে জানা যায়। প্রবল বাতাসের কারণে দ্বীপটির ১০ হাজার বাসিন্দার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।