রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬, ১২:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সাগর সারোয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য দুর্নীতির ১৫ মামলায় খালাস পেলেন মির্জা আব্বাস সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৫ শিশুর মৃত্যু ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে ৩৩২ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল নেপালকে সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রস্তুত বাংলাদেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব : রাষ্ট্রপতি ৪০ ভবঘুরে ও ভিক্ষুককে আটক করেছে বিমানবন্দর থানা পুলিশ পাহাড়ধসের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাঁশখালীতে ৪২০ পরিবার পেল নগদ সহায়তা নেছারাবাদে ঈদে মিলাদুন্নবী উপলক্ষে ছারছীনা দরবারের বিশাল আনন্দ মিছিল১১

অতিরিক্ত ভাড়া আদায় ও স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে জনমনে ক্ষোভ

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০, ১২.২৬ পিএম
  • ৭৩৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় নৈরাজ্য কোনোমতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ নগরীতে চলাচলকারী বাস-মিনিবাসগুলো শুধু ট্রাফিক আইনের ক্ষেত্রে নয়, যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রেও কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা করছে না।

উদ্বেগের বিষয় হল, ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধে সরকারেরও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ লক্ষ করা যাচ্ছে না। ফলে রাজধানী ও আশপাশের রুটে সিটিং সার্ভিসের নামে চলাচলকারী বাসগুলোয় লাগামহীনভাবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হলেও যাত্রীরা তা মেনে নিতে বাধ্য হচ্ছেন। আশ্চর্যজনক হল, সম্প্রতি নিরাপদ সড়কের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনের পর বেশকিছু কোম্পানির বাসভাড়া আরও বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, ইতঃপূর্বে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বদনাম ঘোচাতে সিটিং সার্ভিস বন্ধের অভিযানে নেমেছিলেন পরিবহন মালিকরা।

ওই অভিযানে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষও (বিআরটিএ) অংশ নিয়েছিল। সে সময় রাজধানীজুড়ে বাসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে যাত্রীদের ভোগান্তিতে ফেলা হয়। সংকট সৃষ্টির ঘটনায় বিআরটিএ’র পক্ষ থেকে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি, বরং সিটিং সার্ভিসের নামে বাড়তি ভাড়া আদায়ের ক্ষেত্রে একধরনের বৈধতা দেয়া হয়। কয়েক বছর আগেও রাজধানীর বিভিন্ন রুটে সুদৃশ্য ও মানসম্মত বাস চলাচল করলেও এখন আর তা দেখা যায় না। অনেক রুটে তখন এসি বাসও চলাচল করত। কাউন্টারভিত্তিক সেসব বাস সার্ভিসে মানুষ নির্দিষ্ট গন্তব্যের টিকিট সংগ্রহ করে সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে যানবাহনে ওঠার সংস্কৃতিতে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিল।

যাত্রীরা, বিশেষ করে অফিসগামী মানুষ মোটামুটি নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারত সে সময়। বর্তমানে এ ব্যবস্থা একেবারেই ভেঙে পড়েছে। এর বদলে ঢাকার রাজপথ দখল করে নিয়েছে লক্কড়ঝক্কড় মার্কা বাস। এর মধ্যে কিছু বাস কাউন্টার পদ্ধতিতে চলাচল করলেও বেশিরভাগই লোকালে পরিণত হয়েছে, অথচ তারা বাড়তি ভাড়া আদায় করছে সিটিংয়ের নামে। ফলে রাজধানীর বিপুলসংখ্যক যাত্রীর হয়রানি ও ভোগান্তি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

সবচেয়ে অবাক বিষয় হচ্ছে, এসব গণপরিবহনের কোনটি লোকাল, কোনটি সিটিং, তা দেখে বোঝার কোনো উপায় নেই। দু-একটি ব্যতিক্রম বাদে মহানগরীর সব রুটেই সিটিং, লোকাল, ডাইরেক্ট, স্পেশাল ইত্যাদি নামধারী বাসগুলোয় যাত্রীদের গাদাগাদি ও বাদুড়ঝোলা হয়ে চলতে হচ্ছে। এছাড়া একই দূরত্বের গন্তব্যে যেতে একেক ধরনের বাস সার্ভিসে ভিন্ন ভিন্ন হারে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। সরকারি মালিকানায় পরিচালিত বিআরটিসি বাস সার্ভিসও এ অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা থেকে মুক্ত নয়। ঢাকা মহানগরীতে চলাচলরত গণপরিবহনে যাত্রী ভাড়া কার্যকর ও রুট পারমিট দেয়ার দায়িত্ব রিজিওনাল ট্রান্সপোর্ট কমিটি সংক্ষেপে আরটিসি’র। আরটিসি বর্তমানে অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

মোটরযান আইন-১৯৮৩ অনুযায়ী রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের গায়ে আঁচড় থাকতে পারবে না, যানবাহন রংচটা হতে পারবে না এবং যান্ত্রিক ত্রুটিমুক্ত হতে হবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে ওই যানবাহনকে ফিটনেসবিহীন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং এসব ত্রুটি সারিয়ে রাস্তায় নামতে হবে। আইনটি যে একেবারেই মানা হচ্ছে না, রাজধানীর রাস্তায় চোখ রাখলেই তা স্পষ্ট হয়।

দেশে প্রতিবছর সড়কপথে অন্তত ৫ হাজার দুর্ঘটনা সংঘটিত হচ্ছে। এসব দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছে কমপক্ষে ৪ হাজার মানুষ এবং পঙ্গুত্ববরণ করছে এর দ্বিগুণ, যার আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমপক্ষে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধের পাশাপাশি ফিটনেসবিহীন ও লক্কড়ঝক্কড় কোনো যানবাহন যাতে রাজপথে চলাচল করতে না পারে, এ ব্যাপারে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে, এটাই প্রত্যাশা। গণপরিবহনে ভাড়া বাড়তি নেওয়ায় এরই মধ্যে জনমনে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মোবাইল কোর্ট ও উচ্চহারে জরিমানা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

গত ৩১ মে থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালুর অনুমতি দেয় সরকার। ঈদুল আজহা পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধি ভালোই মানা হয়েছে। কিন্তু ঈদের শেষে সরকারি অফিস পুরোপুরি খুলে দেওয়ার পর থেকে গণপরিবহনে শারীরিক দূরত্ব মানার নিয়ম ভাঙা হচ্ছে। যখন যাত্রী কম তখন নিয়ম মানা হচ্ছে। যাত্রী বেশি পেলেই ভাঙা হচ্ছে নিয়ম। নিয়ম ভঙ্গ করলেও ৬০ শতাংশ বাড়তি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ঠিকই।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com