সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

আফগানিস্তানের নতুন দণ্ডবিধি কোড

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৩.০০ এএম
  • ১০৫ বার পড়া হয়েছে

তাইফুর বায়জীদ আখন্দ, ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকঃ-আফগানিস্তানের বর্তমান তালেবান শাসকরা একটি নতুন ফৌজদারি কার্যবিধি (Criminal Procedure Code) পাস করেছে,

যার নাম ‘De Mahakumu Jazaai Osulnama’। প্রায় ৯০ পৃষ্ঠার এই আইনটির মূল লক্ষ্য হলো দেশজুড়ে অপরাধ দমন ও বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা।

*আইনটির প্রধান ধারা ও উল্লেখযোগ্য দিকসমূহ:*
১) Article ৩২ — স্বামীর “শাস্তি দেওয়ার অধিকার”: এই ধারায় বলা হয়েছে, স্বামী তার স্ত্রীকে এবং পিতা তার সন্তানকে “শাস্তি” দিতে পারবেন। তবে এতে শর্ত আরোপ করা হয়েছে যে: আঘাতের ফলে হাড় ভাঙা যাবে না, খোলা ক্ষত (open wound) তৈরি করা যাবে না এবং শরীরে কোনো গুরুতর দৃশ্যমান চিহ্ন রাখা যাবে না।
অর্থাৎ, এমন মারধর যা শারীরিক যাতনা দেয় কিন্তু “গুরুতর জখম” তৈরি করে না—তা এই আইনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে না। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে পারিবারিক সহিংসতাকে এক প্রকার আইনি বৈধতা দেওয়া হিসেবে দেখছে।

২) গুরুতর আঘাতের দণ্ড: যদি হাড় ভেঙে যায় বা গুরুতর শারীরিক ক্ষতি হয়, তবে সেক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মাত্র ১৫ দিনের কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী এই শাস্তি অত্যন্ত অপ্রতুল ও লঘু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

৩) বিচারের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা: এই আইনের শর্ত অনুযায়ী, কোনো নারী যদি স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে আদালতে যেতে চান, তবে তাকে পূর্ণাঙ্গ হিজাব বা বোরকা পরিহিত অবস্থায় এবং একজন পুরুষ অভিভাবক (মাহরাম)-কে সাথে নিয়ে উপস্থিত হতে হবে। এই কঠোর শর্তের কারণে বাস্তবক্ষেত্রে একজন নারীর পক্ষে স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত কঠিন ও প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।

৪) Article ৩৪ — অনুমতি ছাড়া চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: এই ধারা অনুযায়ী, কোনো স্ত্রী যদি স্বামীর অনুমতি ছাড়া আত্মীয়ের বাড়িতে যান বা নির্দিষ্ট পারিবারিক গণ্ডি অতিক্রম করেন, তবে তাকে সর্বোচ্চ ৩ মাস পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এটি নারীর স্বাধীনভাবে চলাচলের অধিকারকে সরাসরি ক্ষুণ্ণ করে।

৫) শ্রেণিবিভক্ত বিচারব্যবস্থা: এই আইনে সমাজকে চারটি স্তরে ভাগ করা হয়েছে: (১) ধর্মীয় নেতা, (২) অভিজাত শ্রেণি, (৩) মধ্যবিত্ত এবং (৪) নিম্নবিত্ত। আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, বিচারকার্য ও দণ্ড প্রদানের ক্ষেত্রে এই শ্রেণিবিভাগ প্রভাব ফেলতে পারে, যার ফলে আইনের সমান প্রয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে।

*আইনটির দাপ্তরিক কপি ও বর্তমান অবস্থা:*
বর্তমানে এই ৯০ পৃষ্ঠার মূল নথিটি তালেবান সরকার সর্বসাধারণের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনলাইনে প্রকাশ করেনি, এবং এর কোনো স্বীকৃত অনুবাদও পাওয়া যায়নি। আইনটির কপি প্রথমে মানবাধিকার সংগঠন Rawadari প্রকাশ করে। তারপর University of Pittsburgh School of Law এর অধীনে পরিচালিত একটি অলাভজনক (nonprofit) আইনভিত্তিক বিশ্লেষণ ও সংবাদমাধ্যম JURIST এই আইনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো উদ্ধৃত করে রিপোর্ট প্রকাশ করেছে।

*গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এই আইন:*
✔️ পারিবারিক সহিংসতাকে আংশিক বৈধতা দেওয়া হয়েছে।
✔️ স্বামীর শারীরিক নির্যাতনের অধিকারকে সীমিত পরিসরে হলেও স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
✔️ নারীদের জন্য আইনি প্রতিকার পাওয়ার পথ সংকুচিত করা হয়েছে।
✔️ নারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

এটি আন্তর্জাতিকভাবে কঠোর সমালোচিত।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com