সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

স্মৃতির আলোয় আনজুমন আরা বেগম: এক স্নেহময়ী মায়ের নীরব উত্তরাধিকার

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১.১২ এএম
  • ৬৮ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিনিধিঃ- চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের যতরকূল গ্রামের এক পরিচিত ও সম্মানিত পরিবারের স্নেহময়ী অভিভাবক মরহুমা মোছাম্মৎ আনজুমন আরা বেগমের মৃত্যুবার্ষিকী নীরবে স্মরণ করল পরিবার ও এলাকাবাসী। সময়ের ব্যবধানে মানুষ চলে যান, কিন্তু কিছু মানুষ রেখে যান এমন এক মানবিক উত্তরাধিকার, যা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আলো ছড়ায়। আনজুমন আরা বেগম ছিলেন তেমনই এক আলোকবর্তিকা।

তিনি ছিলেন মরহুম ছৈয়দ আহমদ চৌধুরী মাস্টার বাড়ির পুত্রবধূ এবং জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (অবসরপ্রাপ্ত) মরহুম ইব্রাহিম চৌধুরীর সহধর্মিণী। একটি শিক্ষিত, ঐতিহ্যবাহী ও সামাজিকভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত পরিবারে তিনি শুধু গৃহিণীর দায়িত্বই পালন করেননি; বরং হয়ে উঠেছিলেন পরিবারের নৈতিক ভিত্তি, স্নেহ ও সংহতির কেন্দ্রবিন্দু।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মরহুমা আনজুমন আরা বেগম ছিলেন অত্যন্ত ধর্মপরায়ণ, দয়ালু ও অতিথিপরায়ণ স্বভাবের। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এমনকি গ্রামের সাধারণ মানুষও তাঁর কাছে পেয়েছেন মমতার ছোঁয়া। তিনি সন্তানদের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদেরও মাতৃস্নেহে আগলে

রাখতেন। অনেকে তাঁকে শুধু ‘চাচী’ বা ‘খালাম্মা’ নয়, নিজের মায়ের আসনেই বসিয়েছিলেন। পরিবারের এক সদস্য আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, “আমি তাঁকে মা বলে ডাকতাম, আর তিনি আমাকে নিজের ছেলে-মেয়ের চেয়েও বেশি ভালোবাসতেন।” এই একটি বাক্যই তাঁর ব্যক্তিত্বের গভীরতা ও স্নেহের পরিধি স্পষ্ট করে।

মৃত্যুকালে তিনি ৫ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে গেছেন। তাঁদের প্রত্যেকেই আজ জীবনের নানা ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। পরিবার মনে করে, তাঁদের এই অবস্থানের পেছনে মায়ের ত্যাগ, দোয়া ও নৈতিক শিক্ষার অবদান অনস্বীকার্য।তিনি সন্তানদের মাঝে সততা,
ধর্মভীরুতা ও মানুষের প্রতি

দায়বদ্ধতার শিক্ষা বপন করেছিলেন—যা আজও তাঁদের পথচলার প্রেরণা।

মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে পবিত্র কোরআন খতম, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল এবং কাঙালি ভোজের আয়োজন করা হয়। আত্মীয়স্বজন, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী অংশগ্রহণ করে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। বিশেষ মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে তাঁর সকল গুনাহ মাফ করে জান্নাতুল ফেরদৌসের সর্বোচ্চ মাকাম দানের প্রার্থনা করা হয়।

গ্রামবাংলার সমাজব্যবস্থায় একজন মমতাময়ী নারী কেবল একটি পরিবারের গৃহিণী নন—তিনি একটি প্রজন্মের নৈতিক দিশারী। আনজুমন আরা বেগমও তেমনই ছিলেন। তাঁর স্নেহ, সহমর্মিতা ও ধর্মনিষ্ঠ জীবনাচরণ আজও পরিবারকে একসূত্রে বেঁধে রেখেছে।

সময়ের স্রোত বহমান। কিন্তু কিছু মানুষের স্মৃতি সময়কে অতিক্রম করে চিরস্থায়ী হয়ে থাকে। মরহুমা আনজুমন আরা বেগম তেমনই এক নাম—যিনি নেই, কিন্তু আছেন তাঁর আদর্শে, দোয়ায় ও রেখে যাওয়া ভালোবাসার বন্ধনে।মহান আল্লাহ পাক তাঁর প্রতি রহম করুন।

“রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বা ইয়ানি সগিরা।” আমিন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com