সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৩২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

দেবীদ্বারে ত্রাণের তালিকা দেয়ার অপরাধে যুবককে মারধর করলেন চেয়ারম্যান

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২০, ৬.৩৩ পিএম
  • ৪৬২ বার পড়া হয়েছে

এ আর আহমেদ হোসাইন (কুমিল্লা জেলা) প্রতিনিধি  : কুমিল্লার দেবীদ্বারে করোনা পরিস্থিতির কারণে কর্মহীন, দরিদ্র ও এলাকার দু:স্থ লোকদের জন্য ত্রাণের তালিকা তৈরী করে স্থানীয় চেয়ারম্যানের তোপের মুখে পড়েন মোঃ আশেক এলাহী নামের এক যুবক। তিনি উপজেলার গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়নের মাশিকাড়া গ্রামের মৃত আবুল কাসেমের পুত্র। স্থানীয় ১০ নং গুনাইঘর (দক্ষিণ) ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবদুল হাকিম খান ৪জন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে তাকে তার বাড়ি থেকে তুলে এনে প্রায় ৪ঘন্টা আটকে রেখে মারধর ও অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই যুবক। শনিবার দুপুরে গুনাইঘর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর থেকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজনের হুমকীর মুখে জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় পালিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করার অভিযোগ আশেক এলাহীর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেশবাসী ও প্রধান মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এদিকে চেয়ারম্যান ও তার লোকজন কর্তৃক ওই যুবককে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হুমকী দেয়া, কক্ষে আটকে রাখার ভিডিও এবং পরে বন্দীদশা থেকে মুক্ত হয়ে ভুক্তভোগী আশেক এলাহী রাতে ফেসবুক লাইভে পুরো ঘটনার বর্ননা করার কয়েকটি ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। যা এরই মধ্যে ভাইরাল হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগী আশেক এলাহী সাংবাদিকদের জানান, তিনি ব্যক্তিগত ভাবে স্থানীয় ১১০ জনকে কিছু ত্রাণ সামগ্রী দিয়েছেন। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয় আরও অনেকে তার নিকট ত্রানের জন্য আসেন। ঘটনার প্রায় ১০দিন আগে তিনি নিজ উদ্যোগে কর্মহীন হয়ে পড়া ৫৯ জনের একটি তালিকার তৈয়ী করে তাদের ত্রাণ দিতে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খাঁনকে অনুরোধ করেন। তালিকা প্রদানের ৫দিন পরও ফোনে যোগাযোগ করেন। এ বিষয়ে ইউএনওকেও অবহীত করেন। চেয়ারম্যান আমার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বলেন ‘আমি কি চেয়ারম্যান হমু, নাকি এমপি হমু। মানুষের প্রতি আমার এতো দরদ কেন। পরে এ বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করার অভিযোগে শনিবার দুপুর ১২টার দিকে চেয়ারম্যান আমার বাসায় চারজন গ্রাম পুলিশ পাঠায়। গ্রাম পুলিশরা আমাকে জানান, তোমার লোকজনকে ত্রান দেবে তাই চেয়ারম্যান তোমাকে অফিসে যেতে বলেছে। তখন সে তাদের জানান, চেয়ারম্যানই তালিকা দেখে ত্রাণ দেবেন আমার প্রয়োজন কি ? তখন গ্রাম পুলিশরা বলেন, আমাদেরকে বলা আছে তোমার পা যাতে মাটিতে না লাগিয়ে তুলে নিয়েযেতে বলেছেন। তাই আমি এলাকার কয়েকজন লোক নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে যাওয়ার পর প্রথমে তিনি অকথ্য ভাষায় আমাকে গালমন্দ করেন। পরে আমাকে আটকে রেখে তিন দফায় মারধর করেন। তিনি আরো জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং ফেসবুকে চেয়ারম্যানের পক্ষে ভিডিও বার্তা দেয়ার পর ওইদিন বিকাল ৪টার দিকে আমাকে সেখান থেকে ছেড়ে দেয়া হয় এবং বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে জামায়াত-শিবির বানিয়ে মামলায় জড়ানো হবে বলেও হুমকী দেয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম খাঁন মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে জানান, এটি আমার বিরুদ্ধে একটি মহলের ষড়যন্ত্র। সামনে নির্বাচন আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য তাকে দিয়ে ফেইজ বুকে নানা আপত্তিকর লিখা লিখাচ্ছে। আমার বিরুদ্ধেই নয়, সরকার ও দলের বিরুদ্ধেও লিখছে। তিনি বলেন, সরকারীভাবে প্রথম দফায় ৫শত কেজি এবং দ্বিতীয় দফায় ১ হাজার কেজি চাউল পেয়েছি। প্রথমে ৫০ জনকে দিয়েছি এবং পরবর্তী তালিকায় ১শত জনকে দিতে পারব। আশেক একাই এক বাড়ির ১০৭ জনের তালিকা দিয়েছে। সকল লোককে আমার পক্ষে ত্রাণ দেয়া সম্ভব নয়। যারা ন্যায্য ও বিধি মোতাবেক প্রাপ্য তাদের করোনার ত্রান দেয়া হবে। কিন্তু এলাহী ত্রান নিয়ে সরকার ও আমার বিরুদ্ধে ফেসবুকে নানা অপপ্রচার চালানোর কারণে শনিবার দুপুরে অফিসে ডেকে এনে বিষয়টি জানতে চেয়েছি এবং ধমকের স্বরে কিছু কথা বলেছি। কিন্তু এলাহীকে আটকের বিষয়টি মিথ্যা। এলাহীর করা তালিকার প্রায় ৩৭জনের নাম পরিষদের তালিকায়ও রয়েছে। বাকিরা বিভিন্ন ধরনের ভাতা পান বলে তাদের নাম তালিকায় রাখা হয়নি। এ বিষয়ে দেবীদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান জানান, বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আমি অবগত হয়েছি। একজন জনপ্রতিনিধি এ দরনের কাজ করতে পারেনা। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com