সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৮ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

পদ্মা সেতু চালুর পর চাপ বাড়বে মোংলা বন্দরে

  • আপডেট সময় শনিবার, ২৫ জুন, ২০২২, ৭.০৭ পিএম
  • ২৭৭ বার পড়া হয়েছে

স্বপ্নের রাজধানী ঢাকার সবচেয়ে কাছের সমুদ্র বন্দর হবে মোংলা বন্দর। রাজধানীর সঙ্গে দূরত্ব কমে যাওয়া ও ফেরি পারাপারের বিড়ম্বনা না থাকায় বন্দরটির ওপর চাপ বাড়বে কয়েক গুণ। ইতোমধ্যে এই বন্দরের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন রাজধানীর গার্মেন্টস মালিক এবং অন্যান্য পণ্য আমদানি-রপ্তানিকারকরা। খুলনার চিংড়ি ও কাঁচা পাট রপ্তানিকারকদের আগের মতো ছুটতে হবে না চট্টগ্রাম বন্দরে। এছাড়া খুলনা, মোংলা ও রামপালে হাতছানি দিচ্ছে ব্যাপক শিল্পায়ন।

রাজধানীর একাধিক ব্যবসায়ী জানান, রাজধানী, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের আমদানি-রপ্তানিকারকদের মোংলা বন্দরের প্রতি আগ্রহ কম। কারণ এই জেলাগুলো থেকে মোংলা বন্দরে পণ্য পাঠাতে কিংবা বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে যেতে ফেরি পারাপার রয়েছে। এর ফলে তাদের সময়, ব্যয় ও দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সেজন্য তারা পণ্য আমদানি-রপ্তানি করেন চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানীর সঙ্গে মোংলার দূরত্ব কমে যাবে, যোগাযোগ সহজ ও সময় সাশ্রয় হবে। তখন রাজধানীর আমদানি-রপ্তানিকারকরা এই বন্দরের প্রতি আগ্রহী হবে। মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানি বাড়বে।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সাবেক সভাপতি এবং সংসদ সদস্য আবদুস সালাম মুর্শেদী বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর রাজধানী থেকে চট্টগ্রামের তুলনায় মোংলা বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি-রপ্তানিতে সময় ও অর্থ ব্যয় কম হবে। সে কারণে গার্মেন্টস মালিকরা অনেকেই মোংলা বন্দর দিয়ে বিদেশে গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানি করবে। তিনি নিজেও রপ্তানির ক্ষেত্রে এই বন্দর ব্যবহার করবেন।

পদ্মা সেতু চালুর পর খুলনা, রামপাল ও মোংলায় ব্যাপক শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কাটাখালি তিন রাস্তার মোড় থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার সড়কের দুই পাশে প্রায় ২৫-৩০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান জমি কিনে ইতোমধ্যে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। কেউ জমি কিনে বালু ভরাট করেছে, আবার কেউ অবকাঠামো নির্মাণ শুরু করেছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন জানান, মোংলায় বর্তমানে ছোট-বড় মোট ১৫৩ টি শিল্প প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি লিয়াকত হোসেন বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর কাটাখালি থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশের চিত্র পাল্টে যাবে। বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান যারা আগে থেকে জমি কিনে রেখেছে তারা শিল্প কারখানা তৈরির কাজ শুরু করবে। তিনি বলেন, রামপাল-মোংলায় প্রধান সড়কের পাশের জমির মূল্য অনেক বেড়ে গেছে। মোংলা বন্দর কাছাকাছি হওয়ায় এই সড়কটির পার্শ্ববর্তী শিল্প কারখানার উৎপাদিত পণ্য বিদেশে রপ্তানির ক্ষেত্রে পরিবহন খরচ কম হবে।
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক প্রণব কুমার রায় বলেন, কাটাখালি থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপ জমি কিনেছে। এখানে শিল্পায়নের সম্ভাবনা খুবই উজ্জল।

বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, পদ্মা সেতু চালু হচ্ছে, খুলনা-মোংলা রেললাইন ও রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কাজ শেষের পথে। এখন বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার জন্য পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ এবং রামপালের ফয়লা এলাকায় নির্মাণাধীন বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত শেষ করা প্রয়োজন।

মোংলা নাগরিক সমাজের আহবায়ক শেখ মো. নূর আলম বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর রামপাল, মোংলা ও দাকোপে যে শিল্পায়ন বাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এই চাপ সামাল দেয়ার জন্য ফরিপুরের ভাঙ্গা থেকে মোংলা বন্দর পর্যন্ত দুই লেনের সড়কটিতে ৬ লেনে উন্নীত করতে হবে।

খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি কাজী আমিনুল হক বলেন, পদ্মা সেতু চালুর পর খুলনা, মোংলা ও আশপাশের এলাকায় নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠবে। ইতোমধ্যে রাজধানীর বেশ কয়েকটি বড় বড় শিল্প গ্রুপ খুলনার রূপসা সেতুর বাইপাস সড়ক, রূপসা সেতুর পূর্ব প্রান্ত থেকে কাটাখালি হয়ে মোংলা বন্দর পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অনেক জমি কিনে সাইনবোর্ড ঝুলিয়েছে। এসব স্থানে নতুন শিল্প কারখানা গড়ে উঠলে অনেক বেকারের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি খুলনার অর্থনীতি গতিশীল হবে। মোংলা বন্দরের আশপাশে হোটেল-মোটেল গড়ে ওঠারও সম্ভাবনা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, মোংলার অপর পাড়ে দাকোপের বানিশান্তা ও আশপাশের এলাকায়ও নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া মোংলা পৌর এলাকা থেকে জয়মনি পর্যন্ত পশুর নদীর তীরেও পদ্মা সেতু চালুকে কেন্দ্র করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। নদীর তীরের বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামের সাইনবোর্ড দেখা যায়।

পদ্মা সেতু চালুর পর মোংলা ইপিজেডে বিনিয়োগ বৃদ্ধির সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। ইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, ১৯৯৮ সালে ৩০৩ একর জমিতে এই ইপিজেড গড়ে ওঠে। এখানকার ১৯২টি শিল্প প্লটের মধ্যে ১৮৫টি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, ৭টি বাকি আছে। তবে ইপিজেডে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে মাত্র ৩১টি। এসব কারখানার ৮টি বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের এবং বাকিগুলো চীন, কোরিয়া, জাপান, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের। চালুর অপেক্ষায় রয়েছে ৩টি এবং কয়েকটির অবকাঠামো নির্মাণ কাজ চলছে।

ইপিজেডের নির্বাহী পরিচালক মাহবুব আহমেদ সিদ্দিক জানান, চলতি অর্থবছরে এই ইপিজেডে উৎপাদিত ১ হাজার ৩৫৮ কোটি টাকার পণ্য বিদেশে রপ্তানি হয়েছে। পদ্মা সেতু চালুর পর এখানে আরও শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা আগ্রহী হবে, বিনিয়োগ বাড়বে, সেই সঙ্গে রপ্তানি আয়ও বাড়বে। বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com