সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা নওগাঁর কাঁচা মরিচ যাচ্ছে চট্রগ্রাম

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর, ২০২০, ৫.৩৬ পিএম
  • ৬০৪ বার পড়া হয়েছে

সোহেল রানা, নওগাঁ প্রতিনিধি: নওগাঁ জেলার সবচেয়ে বড় কাঁচা মরিচের বাজার ইশ^রলক্ষীপুর বাজার। এই বাজারকে ঘিরে এলাকার মানুষের মাঝে মরিচ চাষের অনেক পরিবর্তন এসেছে। যেখানে কৃষকের একমাত্র ভরসা ছিল ধান চাষ। সেই জমিতে এখন সারা বছর মরিচের চাষ হচ্ছে। এখানকার প্রতিটি কৃষকের মজিতেই মরিচের মাচা রয়েছে। তবে মরিচের গ্রাম বললে ভূল হবে না। কাঁচা মরিচের বাজার বসে প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। ভরা মৌসুমে এই বাজারে প্রতিদিন ৪শ থেকে ৫শ মন কাঁচা মরিচ কেনা বেচা হয়।

ইশ^রলক্ষীপুর গ্রামের কৃষক মন্টু শেখ বলেন, আমি দুই বিঘা জমিতে মরিচ চাষ করেছি। মরিচ ভালো হয়েছিল। প্রতিদিন ৫থেকে ৬মন মরিচ উঠতো। অতিরিক্ত বর্ষার কারণে মরিচের গাছ মরে গেছে। এখন গড়ে ৫কাঠা জমিতে মরিচের চারা গাছ জিবিত আছে। সেখান থেকে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ কেজি মরিচ বিক্রি করতে পারছি।

বাশবাড়ীয়া গ্রামের মরিচ চাষি জয়নাল আবেদীন বলেন, এলাকার মরিচ মহিলারা বেশী তুলে। মহিলারা সংসারের কাজ সেরে মরিচ তুলার কাজে যায়। একজন মহিলা এক মৌসুমে মরিচ তুলে ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় করে। কিন্তু এখন সেটা আর হচ্ছে না। কারন ক্ষেতের বেশীর ভাগ মরিচ গাছ মরে গেছে।

মরিচ কিনতে আসা ব্যাপারি খোদা বক্স জানান, ঢাকা, চট্রগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন আনাচে কানাচে আমরা এই বাজার থেকে প্রতিদিন মরিচ ক্রয় করে পাঠিয়ে দিই। যখন যে দামে বিক্রি হয় সেই দামে আমরা মরিচ ক্রয় করি।

তিনি আরো বলেন, তবে চাষিদের মরিচ বিক্রি করতে কোন অসুবিধা হয় না। বিভিন্ন এলাকা থেকে ক্রেতারা মরিচ কিনতে এ বাজারে আসে।

ভরাডুবা গ্রামের মরিচ চাষি নাজমুল ইসলাম জানান, তিন বছর আগে ৫বিঘা মজিতে মরিচ চাষ করতে খরচ হয়েছিল দেড় লাখ টাকা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকাই সেই বার মরিচের ফলন ভালো হয়েছিল। এবং ভালো দাম পেয়েছিলাম। সেই বছর যাবতীয় খরচ বাদে আয় হয়েছিল প্রায় ১০ লাখ টাকা। তারপর থেকে প্রতি বছর কাঁচা মরিচের আবাদ করছি। কিন্তু এত টাকা আর কোন দিন চোখে দেখিনি।

তিন ভাই মোল্লা ট্রের্ডাসের মালিক আলমগীর হোসেন বলেন, আমরা এই হাটে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ কিনি। সেই মরিচ নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঢাকা ও চট্রগ্রমে বিক্রি করি। সারা বছর মরিচের বসে। তবে জ্যেষ্ঠ- আষাঢ় মাস থেকে শুরু হয়ে কার্তিক মাস পর্যন্ত পুরো দমে কেনা বেচা হয়।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনিসহ আরো কয়েকজন ব্যবসায়ী প্রতিদিন এই বাজার থেকে ২শ মন মরিচ কিনে চট্রগ্রাম পাঠান। কোনও ঝামেলা নেই। তাই তারা এ বাজারে কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। ব্যবসায়ীরা এসে সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে মরিচ কেনেন। মরিচের ভালো দাম পান কৃষকরা। তাই এ বাজারে দিন দিন মরিচ বিক্রি বেড়েই চলছে। কৃষকের কাছে টাটকা ও তুলনামুলক কমদামে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়। মুনফা ভালো হওয়ায় তারা ৫ বছর ধরে এখানে মরিচ কিনতে আসেন।

মরিচ বিক্রি করতে আসা মিনহাজুল ইসলাম বাবু, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, কাঙিক্ষত মূল্য পাওয়া যায়, ওজনে কাটচুপি না হওয়া এবং নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারা যায় তাই তারা এ বাজারে মরিচ বিক্রি করতে আসেন।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com