সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
সরকার গঠনের আট মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেছেন বিএনপি সরকারের তিন মন্ত্রী- প্রতিমন্ত্রী বলিউড অভিনেতা টাইগার শ্রফ বেঁচে গেলেন, পয়েন্ট ব্লাঙ্ক রেঞ্জে বন্দুক জ্যাম! গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগে ৪ জনের মৃত্যু মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাকের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৮৪, মামলা ৫৩ ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২৪ ঘন্টায় ডিএমপির ২০১৭ মামলা ৭ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলা-২০২৭ শুরু হবে নিজের সন্তানের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, একটি স্বাস্থ্যকর শহর গড়ে তুলি :প্রধানমন্ত্রী ‘মহাঅষ্টমী’ সারাদেশে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে স্বৈরাচারের ফেরার পথ খুলে দেয়া হবে জুলাই ও মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের সঙ্গে গাদ্দারি : প্রধানমন্ত্রী

আঞ্চলিক সাংবাদিকতার বাতিঘর 

  • আপডেট সময় মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২০, ২.৩২ পিএম
  • ৫০২ বার পড়া হয়েছে
অ আ আবীর আকাশ
দৈনিক ভোরের মালঞ্চ পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি ও ঐতিহ্যবাহী সাপ্তাহিক এলান পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আবদুল মন্নান ভূঁইয়া রোজকার পত্রিকার পাতা উল্টিয়ে আমার লেখা বা নিউজ না দেখলে অফিস সহায়ক রফিককে উচ্চস্বরে ডেকে পত্রিকার মেকআপ ও সেটআপকারীকে এর কৈফিয়ৎ জিজ্ঞেস করতেন। এমন একজন আন্তরিক সম্পন্ন পিতৃতুল্য শ্রদ্ধাভাজন সাংবাদিক আব্দুল মন্নান ভূইয়াকে স্মরণ করি কৃতজ্ঞচিত্তে। এ স্মরণের আবহ চিরদিনের জন্য তৈরি হল আমার হৃদয়ে। আমিও এরকম একজন অভিভাবক তুল্য সাংবাদিকের সান্নিধ্য পেয়ে নিজেকে গর্বিত মনে করি।
সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠনের নেতৃত্বে থাকায় সংগঠনের নিউজ তৈরি করে স্থানীয় পত্রিকায় পাঠাতাম বলে  সাংবাদিকের নজরে আসি। আমি মূলত সাহিত্য চর্চা করি। বহু কাঠ-খড় পুড়িয়ে কবি উপাধি পেয়েছি, এতে আমি ধন্য। আমি নিউজ তৈরির পাশাপাশি পত্রিকায় কবিতা আর্টিকেল প্রবন্ধ নিবন্ধ লিখতে চেষ্টা করি। আব্দুল মন্নান ভূঞাই নয় এরকম আমাকে আরো সান্নিধ্য জুগিয়েছিলেন নতুন সমাজ পত্রিকার সম্পাদক প্রফেসর আব্দুল হাই, সাপ্তাহিক দামামা পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক আলহাজ্ব গোলাম রহমান, দৈনিক আলচিশত পত্রিকার পরিচালক আবু জাকের রাবেত ভাই সহ আরো অনেকে। এখনো যারা জীবিত আছেন তাদের অনেকের সান্নিধ্য পেয়ে আমার সমুখে চলার পথ সুগম ও পাথেয় হচ্ছে। আমি তাদের কাছে ঋণী। এঋণ আমার আজন্ম।
আব্দুল মন্নান ভূঞা, গোলাম রহমান ও প্রফেসর আব্দুল হাই আজ নেই। তাদের অমীয় স্নেহের পরশ, সুললিত কন্ঠে দেয়া আদেশ দিকনির্দেশনা এখনো আমার কানের কাছে বাজে। আমি আজ পর্যন্ত যাদের স্নেহ পেয়েছি, আন্তরিকতা-ভালোবাসা পেয়েছি, বিভিন্ন দিকনির্দেশনা পেয়েছি তাদের আমৃত্যু কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করে যাব।
লক্ষ্মীপুরে সাংবাদিকতার ইতিহাসে যে কয়েকজন কীর্তিমান সাংবাদিক বটবৃক্ষ মানে সাংবাদিকতার বাতিঘর তাদের মধ্যে একজন আব্দুল মান্নান ভূঁইয়া। তবে গোলাম রহমান, প্রফেসর আব্দুল হাই ও দৈনিক আল চিশতের রাবেত ভাইর কথাও অনস্বীকার্য ভাবে উচ্চারণ করি।  আমার অখাদ্য-কুখাদ্যকে  তারা লেখা মনে করে  নির্দ্বিধায় ছেপেছেন পত্রিকায়। তাদের এই ঋণ শোধ করবার মতো নয়। তাদের হাত ধরে আজ বহু সাংবাদিক লক্ষ্মীপুরে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। তবে ঘুন্নাক্ষরেও এসব মনীষীদের কথা স্মরণ করতে দেখা যায়নি। এমনকি কোন সাংবাদিক সংগঠনকেও গুণী সাংবাদিকদের মৃত্যুদিবস বা জন্মদিবস পালন করতে দেখিনি। তবে কেন?
‘এ জীবনে যা দেখেছি যা পেয়েছি’-শিরোনামে আব্দুল মন্নান ভূঞা তার ব্যক্তি জীবনের সামগ্রিক ইতিহাস লিখে গেছেন । আমাকে সাদরে একটা কপি উপহার দিয়েছিলেন। আমি বইটির উপর আলোচনা করেছি বাংলা আওয়াজ ও লক্ষীপুর সমাচার ম্যাগাজিনে। উনার হাতে ম্যাগাজিনের কপি পৌঁছতেই আমাকে ডেকে সৎসাহস দিয়েছিলেন। এই ছিল আব্দুল মন্নান ভূঞার রীতিনীতি।
সন্ধ্যার পর থেকে রাত দুইটা তিনটা লেগে যেত পত্রিকা মেকআপ সেটআপ দিতে দিতে। এর মধ্যে কারো কোন সমস্যা আছে কিনা বা চাহিদা আছে কিনা, ঘন্টায় ঘন্টায় প্রেসে গিয়ে খবর নিতেন। তখন রেহান উদ্দিন ভূইয়া সড়কে ফাতেমা অফসেট প্রেস ছিল সরগরম। কবি সাহিত্যিক সাংবাদিক রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের পদচারণায় মুখর ছিল সাংবাদিক আবদুল মান্নান ভূঁইয়ার অফিস।
ব্যক্তিজীবনে মাধ্যমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব ছেড়ে সাংবাদিকতা প্রবেশ করেন আবদুল মান্নান ভূঁইয়া। আজ সময়ের স্রোতে আব্দুল মন্নান ভূঞার অনুপস্থিতি কেউ তার কথা মনেও করতে চায়না। ঋণ স্বীকার করতে চায় না বলে আজ সমাজে দারুণ অবক্ষয়। কেউ কারো উপকারে আসতে চায় না। কিন্তু কেন? আমাদের শিক্ষাজীবন তো এরকম ছিল না.। যাদের কাছে যেতাম, শ্রদ্ধা করতাম। তারাও আমাদের সমীহ করতেন, স্নেহ করতেন,বিভিন্ন আদেশ উপদেশ দিতেন। আমরা তা  যথাযথভাবে পালন করতাম।
সুখে থাকুন শান্তিতে থাকুন আব্দুল মন্নান ভূঞা, গোলাম রহমান ও প্রফেসর আব্দুল হাই।
****
লেখকঃ কবি প্রাবন্ধিক কলামিস্ট ও সাংবাদিক।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com