শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫২ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
বায়েজিদ সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ, আহ্বায়ক আলী আহমদ শাহিন, সদস্য সচিব মুজিব উল্ল্যাহ তুষার জমকালো আয়োজনে ‘দৈনিক ঘোষণা’র প্রধান নির্বাহী সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলামের জন্মদিন উদযাপন শিক্ষা ফলাফল নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার পাঠ চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সংলাপ নরসিংদীতে চাচীকে ধর্ষণ ও সন্তান জন্মদান: প্রধান আসামি গ্রেফতার এভিয়েশন হাবে রূপান্তরে জাপানের সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ক্যাপ্টেন (অব.) ডা. এম. এন. সাফাকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ চসিক এর অনুপ্রবেশ ও ব্যক্তিগত সম্পত্তির উপরে রাস্তা নির্মাণ অবৈধ দাবী ভূমি মালিকের সাইফুল বারীর কথায় কাজী শুভর ‘পিরিতের অসুখ’

নরসিংদীতে চাচীকে ধর্ষণ ও সন্তান জন্মদান: প্রধান আসামি গ্রেফতার

  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫.৩৯ পিএম
  • ২ বার পড়া হয়েছে

চীফ রিপোর্টার, ঢাকা:-নরসিংদীর পলাশে প্রবাসী স্বামীর অনুপস্থিতিতে তরুণী গৃহবধূকে (২৫) জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ, সন্তান জন্মদান এবং পরবর্তীতে ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত অপূর্ব চন্দ্র দাসকে (২০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ) ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পলাশ থানাধীন পণ্ডিতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে অপূর্ব চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত অপূর্ব ওই গ্রামের নীল কমল চন্দ্র দাসের ছেলে।

পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ বলেন, গ্রেফতারের পর আসামি অপূর্ব চন্দ্র দাস নরসিংদীর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে।

মামলার এজাহার ও পিবিআই তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম তিথী রানী দাসের স্বামী হরিদাস (৩৬) জীবিকার তাগিদে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছিলেন। প্রধান আসামি অপূর্ব সম্পর্কে হরিদাসের চাচাতো ভাতিজা এবং তাদের বাড়ি পাশাপাশি হওয়ায় সে অবাধে যাতায়াত করতো। গত বছরের ২০ জুন রাতে স্বামীর পরিবারের সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ঘরে ঢুকে আসামি অপূর্ব জোরপূর্বক তিথী রানীকে ধর্ষণ করে। ভয়ভীতি ও সামাজিক মর্যাদার কথা চিন্তা করে ভিকটিম বিষয়টি তাৎক্ষণিক প্রকাশ করতে পারেননি। পরবর্তীতে প্রবাসী স্বামীকে বিষয়টি জানালে তিনি কাউকেই না জানানোর জন্য বলেন এবং দেশে ফিরে সমাধানের আশ্বাস দেন। তবে এর মধ্যে আসামি অপূর্ব ভিকটিমকে একাধিকবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করলে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন।

আরও জানা যায়, পরে স্বামী দেশে ফিরে আল্ট্রাসনোগ্রামের মাধ্যমে গর্ভধারনের বিষয়টি নিশ্চিত হন। চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ভিকটিম এক কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। তখন ভিকটিমের স্বামী ঘটনাটি গোপন রেখে শিশুর জন্ম সংক্রান্ত সব আয়োজন ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান নিজ দায়িত্বে সম্পাদন করেন এবং শিশুটিকে নিজের সন্তান হিসেবে সামাজিক পরিচয় দেন।

পুলিশ সুপার বলেন, ভিকটিমের স্বামী পুনরায় বিদেশে চলে যাওয়ার পর আসামি অপূর্ব তার মোবাইল থেকে মেসেজ পাঠিয়ে শিশুটিকে নিজের ঔরসজাত সন্তান বলে দাবি করে। পাশাপাশি ভিকটিমকে ধর্ষণের ব্যাপারে নানা আপত্তিকর বক্তব্য দেয় এবং বিষয়টি কাউকে জানালে চরম পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দেয়। মেসেজ পাওয়ার পর ভিকটিমের স্বামী হরিদাসের অবস্থানে পরিবর্তন আসে। তিনি স্ত্রীর বিরুদ্ধে চরিত্রহীনতার অভিযোগ এনে গত ২০ আগস্ট নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে একটি তথাকথিত ‘মুক্তিনামা বা পরিত্যাগপত্র’ সম্পাদনের মাধ্যমে স্ত্রী ও সদ্যজাত সন্তানকে অস্বীকার করেন এবং স্ত্রীকে ত্যাগ করেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে ন্যায়বিচার, নিজের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও শিশুর পিতৃপরিচয়ের দাবিতে ভিকটিম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। আদালতের নির্দেশে পলাশ থানায় গত ২৫ সেপ্টেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

তিনি আরও বলেন, ঘটনাটি নজরে এলে পিবিআই নরসিংদী ছায়া তদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে আত্মগোপনে থাকা প্রধান আসামি অপূর্ব চন্দ্র দাসকে গ্রেফতার করা হয়। ভিকটিমের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বার্তা প্রেরক
সৈয়দ বশির আহম্মেদ

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com