সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ঠাকুরগাঁওয়ে সৌহার্দ্য ফার্মেসিতে চুরি হওয়া  ১৭ লাখ টাকার ওষুধ উদ্ধার হয়েছে গোবিন্দগঞ্জে গ্রেফতার ৪  হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৮১ লিটার বিদেশি মদ জব্দ প্রিজনভ্যান থেকে পালানো ‘পিচ্চি রাজার’ সন্ধান চেয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্ত্রী পিরোজপুরে নতুন ডিসি হিসেবে যোগ দিচ্ছেন গোলাম রব্বানী ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে কুলিক নদীর কুলে কুকুরের মুখ থেকে নবজাতক উদ্ধার পরকীয়ার অভিযোগ, একের পর এক সংসার ভাঙার গল্প মহিদুলকে ঘিরে বায়েজিদ সাংবাদিক ফোরামের আত্মপ্রকাশ, আহ্বায়ক আলী আহমদ শাহিন, সদস্য সচিব মুজিব উল্ল্যাহ তুষার জমকালো আয়োজনে ‘দৈনিক ঘোষণা’র প্রধান নির্বাহী সম্পাদক এস এম জহিরুল ইসলামের জন্মদিন উদযাপন শিক্ষা ফলাফল নয়, ভবিষ্যৎ গড়ার পাঠ চট্টগ্রাম মডেল স্কুলে অভিভাবক-শিক্ষক সংলাপ

চট্টগ্রাম শান্তি নগরে ভূমি দখল চেষ্টায় পুলিশি সহযোগিতা- অভিযোগের তীর ওসি সোলায়মানের দিকে

  • আপডেট সময় শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬, ৪.১৫ পিএম
  • ৫১ বার পড়া হয়েছে

বিশেষ প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম থেকেঃ- চট্টগ্রাম মহানগরের বাকলিয়া থানাধীন এক্সেস রোডের শান্তিনগর এলাকায় দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, দখলচেষ্টা এবং পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন মরহুম ইয়াকুব আলীর উত্তরাধিকারী আব্দুল শুক্কুর, আব্দুল কাদের ও তাদের পরিবারের সদস্যরা। তাদের অভিযোগ, আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও প্রতিপক্ষের একটি সংঘবদ্ধ কিশোর গ্যাং জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায় সাইনবোর্ড ভাঙ্গে। এতে বাধা দিলে তাদের ওপর অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে হামলা চালায় এবং পরে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই বিরাট অংকের ঘষ লেনদৈনে চাঁদাবাজি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, মরহুম ইয়াকুব আলী ছিলেন বিপুল সম্পদের মালিক। পারিবারিক বণ্টননামা, আদালতের ডিক্রি, ক্রয় দলিল ও ওয়ারিশদের নিকট থেকে অর্জিত মালিকানার ভিত্তিতে প্রায় পাঁচ কানি জমির বৈধ মালিকানা মরহুম এয়াকুব আলীর নাতনী ছায়রা খাতুন ও তার স্বামী আব্দুল শুক্কুরের পরিবারের নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তাদের বসত ভিটা এই সম্পত্তিতে এবং তারা ভোগদখলে আছেন । পরিবারটির অভিযোগ, মৃত মোজাহের ও মৃত ছৈয়দের নামক বহিরাগত ব্যক্তি বিভিন্ন জালজালিয়াতি দলিল সৃজনের মাধ্যমে বিএস খতিয়ান সৃষ্টির চেষ্টা করেন। এ বিষয়ে তারা আদালতে বিএস খতিয়ান সংশোধনী মামলা নং-৩৩/২০১৩ দায়ের করেন, যা বর্তমানে এলএসটি মামলা নং-২৬৯৯/২০২৪ হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

ভূক্তভোগীর পরিবারের বক্তব্য, মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষ থেকে একাধিকবার জমি দখলের চেষ্টা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং হামলার ঘটনা ঘটে। তারা দাবি করেন, এসব ঘটনায় এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার বাচ্চুর নেতৃত্বে একটি কিশোর গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এলাকায় মাদক সরবরাহ চাঁদাবাজি অবৈধ ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা হতে চাদাবাজি এবং বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মানুষের অভিযোগ স্থানীয়ভাবে উঠে এসেছে।

ভূক্তভোগী পরিবারের দাবি, প্রতিপক্ষ আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করলেও প্রকৃত তথ্য উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে সদর এসিল্যান্ড কার্যালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে আব্দুল শুক্কুরের পরিবারকেই উক্ত সম্পত্তির প্রকৃত দখলদার ও ওয়ারিশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৯ জুন ২০২৬ সকাল প্রায় ১১টার দিকে আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে প্রতিপক্ষের শতাধিক লোক ঘটনাস্থলে এসে হামলা চালায়। হামলার সময় আদালতের নির্দেশনাসংবলিত সাইনবোর্ড ভাঙচুর করা হয় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এ ঘটনার ভিডিওচিত্র তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।

ভুক্তভোগী আব্দুল কাদেরের অভিযোগ, হামলার ঘটনার পর বাকলিয়া থানায় মামলা করতে গেলে মামলা গ্রহণ না করে কেবল জিডি নং-৫৯৯ গ্রহণ করা হয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধেই একটি চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়, যা তারা সম্পূর্ণ মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক বলে দাবি করেন।

আব্দুল শুক্কুর, আব্দুল কাদের ও পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তৎকালীন বাকলিয়া থানার ওসি মো. সোলায়মান, তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নাসিম উল হক ইমরানসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আদালতে বিচারাধীন বিষয়, ওয়ারিশ সনদ, দলিলপত্র ও এসিল্যান্ডের তদন্ত প্রতিবেদন যথাযথভাবে যাচাই না করেই একতরফা অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে চাঁদাবাজি মামলা গ্রহণ করে নিরাপরাধ পরিবারের বিরুদ্ধ। তাদের দাবি, এর ফলে তারা গ্রেপ্তার, মামলা ও নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নাম প্রকাশ না করার শর্তে দাবি করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ভূমি অবৈধ দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং লিডার বাচ্চু ও পারভেজ গং। তাদের ভাষ্য, জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের সময় সেনাবাহিনী বাউন্ডারি অপসারণ করেছেন। এই সুযোগে তারা পুলিশ কে মোটা অংকের কন্ট্রাক্ট করে তারা মামলা জনিত ভূমি অসদুপায়ে দখলের চেষ্টা করেছেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত কর্তাবাবুদের এই সব অনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত থাকায় বিভাগীয় ব্যবস্থার জোড় দাবী জানান।

একজন স্থানীয় আইনজীবীর দাবি, মামলার নথি পর্যালোচনা করলে দেখা যাবে, বিচারাধীন বিএস খতিয়ান সংশোধনী মামলার বিষয়টি প্রতিপক্ষের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়নি। আদালতে বিচারাধীন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ।

ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলাটি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। তারা আদালতের আদেশ, এসিল্যান্ডের প্রতিবেদন, ওয়ারিশ সনদ, দলিলপত্র ও ভিডিও ফুটেজ বিবেচনায় নিয়ে একটি স্বাধীন তদন্ত ও অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনার দাবী জানান।

এ কিশোর গ্যাং নেতা বাচ্চুর বিরুদ্ধে সিএমপির উর্ধতন কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© All rights reserved © 2022 songbadsarakkhon.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com